দ্য ওয়াল ব্যুরো: গতকাল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ যখন কলকাতায় সভা করতে এসেছিলেন তখন রাজপথে তাঁকে কালো পতাকা দেখিয়েছিলেন বাম-কংগ্রেস সমর্থকরা। অনেকেই সে সময় প্রশ্ন করেছিলেন, এ ব্যাপারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর দল নীরব কেন। কেন দিল্লির হিংসার ঘটনা নিয়ে কোনও কথা বলছেন না বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। তা হলে কি বিজেপির সঙ্গে আপস করছে তৃণমূল!
কিন্তু শেষমেশ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের হতাশ করলেন না। বরং সোমবার সকালে নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামের মঞ্চ থেকে বড় অভিযোগ করলেন কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদী সরকার তথা বিজেপির বিরুদ্ধে। তাঁর কথায়,“দিল্লিতে যা হয়েছে তাতে আমাদের অনেকের হৃদয় কাঁদছে, আমরা মর্মাহত, দুঃখিত। গত কদিন ধরে দিল্লিতে যে মানুষ খুন হয়েছে তা প্ল্যানড জেনোসাইড, গণহত্যা। তার পর তাকে সাম্প্রদায়িক হিংসার চেহারা দেওয়া হয়েছে। আমরা একে ধিক্কার জানাচ্ছি”।
এখানেই থামেননি দিদি। তিনি বলেন, দিল্লিতে ওই গণহত্যার পর কলকাতায় এসেছিলেন (পড়ুন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ)। একবারও ক্ষমা চাননি। বলছেন, দখল নেবেন। দেখব, কে কোথাকার দখল নেয়। যে দিল্লিতে লোকসভা ভোটে সাতটা আসনে জিতেছে সেখানে রক্ত বয়েছে। অসমে ক্ষমতা দখল করেছে সেখানে মানুষকে ভিটে ছাড়া করছে। কিন্তু মনে রাখতে হবে বাংলা, দিল্লি নয়। এখানে গোলি মেরে কাউকে ওড়ানো যাবে না।
দিল্লির হিংসার ঘটনা নিয়ে এর পরই আরও প্রশ্ন তোলেন মমতা। তিনি বলেন, দিল্লিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব রয়েছে কেন্দ্রের সরকারের উপর। ওদের হাতে পুলিশ রয়েছে, আধা সামরিক বাহিনী রয়েছে, সিআইএসএফ রয়েছে, এসএসবি রয়েছে। তার পরেও এতো মানুষ হিংসার ঘটনা মারা যায় কী করে? আমাকে তো অনেকে বলছে এটা প্ল্যানড জেনোসাইড। ছক করে খুন করা হয়েছে। তাঁর কথায়, এখনও অনেক মানুষের খোঁজ নেই। সাতশ লোককে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। নালা থেকে লাশ বেরোচ্ছে। এই অন্যায়ের শাস্তি হবেই।
তৃণমূলনেত্রী এদিন যে ভাষায় কেন্দ্রে বিজেপি সরকারকে আক্রমণ করেছেন তাৎপর্যপূর্ণ হলেই মনে করছেন অনেকেই। কারও কারও মতে, গতকাল কলকাতায় দাঁড়িয়ে অমিত শাহ যে চরম রাজনৈতিক আক্রমণ করেছেন, তারই পাল্টা দিলেন দিদি।
পর্যবেক্ষকদের অধিকাংশই মনে করছেন, গতকাল অমিত শাহকে যেহেতু কলকাতায় সভা করার অনুমতি দিয়েছিল মমতা-সরকার, তার পর তৃণমূলের বিক্ষোভ দেখানোর জায়গা ছিল না। তাতে দ্বিচারিতা হতো। কিন্তু অমিত শাহর রাজনৈতিক আক্রমণের পর মমতার জবাবও অনিবার্য ছিল।
এ ব্যাপারে অবশ্য বাম ও কংগ্রেসের নেতারা ঘরোয়া আলোচনায় টিপ্পনি করতে ছাড়েননি। তাঁদের অনেকের বক্তব্য, তৃণমূল দিল্লি হিংসার ঘটনা নিয়ে ইচ্ছা করেই চুপ করে ছিল। আর তার মাধ্যমে বিজেপিকে খুশি করতে চেয়েছিল। তাতে চিড়ে ভিজছে না দেখে এখন মুখ খুলেছে।