দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিহারে বুথ ফেরত সমীক্ষা ফেল করলেও একটি বিষয়ে প্রায় লেটার মার্কস নিয়ে পাশ করেছে এক্সিট পোল। তা হল বামেদের ফলাফল।
প্রায় সব সমীক্ষাতেই দেখানো হয়েছিল বিহারে মহাজোটের অংশীদার তিন বাম দল মিলিয়ে উল্লেখযোগ্য আসন পেতে পারে। তাই হয়েছে। ২৯টিতে প্রার্থী দিয়ে সিপিআইএম লিবারেশন, সিপিআই এবং সিপিএম মিলে ১৬টি আসন জিতেছে। একা লিবারেশনই জিতেছে ১২টি। আর এই জয়ের পরে একুশের ভোটে বাংলার বামেদের কী করা উচিত তা নিয়ে লিবারেশন সাধারণ সম্পাদক যে পরামর্শ দিয়েছেন সংবাদমাধ্যমে তা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে দীপঙ্কর ভট্টাচার্য বলেছেন, "বাংলার একটা সমস্যা হচ্ছে আমাদের অনেক বামপন্থী সাথী জাতীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপটে রাজ্য রাজনীতিকে দেখছেন না। ওখানে লড়াইটা রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীভূত হচ্ছে। যার ফলে সুযোগ পাচ্ছে বিজেপি।"
এখানেই থামেননি দীপঙ্কর। তাঁকে সঞ্চালক প্রশ্ন করেন, তাহলে কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আপনাদের সঙ্গে নিতে আপত্তি নেই? জবাবে দীপঙ্কর বলেন, "এখানে কংগ্রেস বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যায়ার ক্ষেত্রে আপত্তির বিষয় নেই। আমাদের বুঝতে হবে দেশের গণতন্ত্র এবং মানুষের কাছে এখন পয়লা নম্বর বিপদ বিজেপি। তার সঙ্গে তৃণমূল ও কংগ্রেসকে এক ব্র্যাকেটে ফেলা ঠিক নয়।"
বাংলার ভোটে যে বাম-কংগ্রেস জোট হচ্ছে তা একপ্রকার ঠিক হয়ে গিয়েছে। এ রাজ্যে বাম-কংগ্রেস দুপক্ষেরই বক্তব্য, লড়াই তৃণমূল ও বিজেপি দুই শক্তির বিরুদ্ধেই। বাংলার বাম নেতাদের বক্তব্য, তৃণমূলকে না হারালে বিজেপিকে হারানো সম্ভব নয়।
দীপঙ্করের এই মন্তব্যে তীব্র প্র্তিক্রিয়া তৈরি হয়েছে বাম কর্মীসমর্থকদের মধ্যে। নেতারা এ নিয়ে প্রকাশ্যে প্র্তিক্রিয়া না দিলেও ঘরোয়া আলোচনায় বলছেন, দীপঙ্করবাবুর বাংলার রাজনীতি সম্পর্কে কোনও ধারণাই নেই।
লিবারেশন সাধারণ সম্পাদক মেধাবী ছাত্র ছিলেন। তাত্ত্বিক জ্ঞানও সাংঘাতিক। তিনি কি সত্যিই জানেন না বাংলার পরিস্থিতি? অনেকের মতে তিনি জেনেশুনেই এ কথা বলেছেন। কেন? তাঁদের ব্যাখ্যা, বামফ্রন্টের বাইরে থাকা বাম দলগুলির সঙ্গে যে ১৭ দলের কর্মসূচি ভিত্তিক বোঝাপড়া রয়েছে তাতে লিবারেশনও আছে। দুবছর আগে সিপিএমের ব্রিগেডে এই দীপঙ্করবাবুই ছিলেন অতিথি বক্তা। অনেকের ব্যাখ্যা, একথা বলে আসলে আলিমুদ্দিনকে চাপে রাখতে চাইলেন তিনি। যাতে বিহার দেখিয়ে বাংলায় অসন রফা করা যায়।
যদিও অনেক সিপিএম নেতার কথায়, বিহারের পকেটে পকেটে লিবারেশনের শক্তি রয়েছে। তা বাংলার কোথাও নেই। সুতরাং ওই কৌশল কাজে আসবে না। তবে সার্বিক ভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ওই বক্তব্যের ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ায় বাম মহলে বিভ্রান্তি ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।