
আদালতের পথে অভিযুক্ত
শেষ আপডেট: 29 March 2025 16:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: ব্যর্থ প্রেমের জ্বালায় (love story) প্রকাশ্যেই মামাতো দাদাকে ১৮ বার ধারালো অস্ত্রের আঘাত করে খুন করেছিল ভাই। নৃশংস হত্যাকাণ্ডকে বিরল থেকে বিরলতম আখ্যা দিয়ে ভাইকে ফাঁসির সাজা দিল আদালত। মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা হতেই চাঞ্চল্য ছড়াল জলপাইগুড়ি জেলা আদালতে (Jalpaiguri Verdict)।
আদালত সুত্রে জানা গেছে জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ ব্লকের ভক্তিনগর থানার শান্তিনগর এলাকার বাসিন্দা শঙ্কর দাস ও সুরেশ রায়। এরা সম্পর্কে মামাতো-পিসতুতো ভাই। অভিযোগ, মামাতো দাদা শঙ্করের বাড়ির কাছে থাকা একটি মেয়েকে উত্যক্ত করত পিসতুতো ভাই সুরেশ। মেয়েটির পরিবার শঙ্করকে অভিযোগ করলে সে সুরেশকে বকা দেয়। দাদার বকা খেয়ে মেয়েটিকে উত্যক্ত করা বন্ধ করে ওই যুবক। এরপর মেয়েটির বিয়ে হয়ে যায়।
সেই খবর পাওয়ার পর ২০২১ সালের মার্চ মাসে সকালবেলা দাদা শংকরের ওপর চড়াও হয় ভাই সুরেশ। শুরু হয় বচসা। এরপর প্রকাশ্য দিবালোকে দাদাকে কুপিয়ে খুন করে। মৃত্যু নিশ্চিত করতে ১৮ বার দাদাকে আঘাত করে হার্ট, লিভার, কিডনি ছিন্নভিন্ন করে দেয় অভিযুক্ত। এদিন সাজা ঘোষণার সময় আদালত চত্বরে উপস্থিত ছিলেন মৃতের আত্মীয় ও শান্তিনগর নাগরিক কমিটির সদস্যরা। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন তাঁরা।
ঘটনায় সরকার পক্ষের আইনজীবী শুভঙ্কর চন্দ্র বলেন, "এই মামলায় মোট ১২ জন সাক্ষী দেন। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর অ্যাডিশনাল থার্ড কোর্টের বিচারক বিপ্লব রায় এই ঘটনাকে বিরল থেকে বিরলতম আখ্যা দিয়ে অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে ফাঁসির সাজা দেন।
এই মামলায় ডিস্ট্রিক্ট লিগাল এইড ডিফেন্স কাউন্সিলের ডেপুটি চিফ ভানুসিংহ সরকার বলেন, "আমাদের বক্তব্য আদালতের কাছে বলেছি। আদালত অভিযুক্তের ফাঁসির সাজা শুনিয়েছে। এর বিরুদ্ধে আমরা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হব। কারণ এই মামলায় প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ানে অসংগতি রয়েছে বলে আমরা মনে করছি।"