দ্য ওয়াল ব্যুরো: মেচেদা লোকালের কামরায় ট্রাভেল ব্যাগের মধ্যে পাওয়া মৃত যুবকের পরিচয় বার করল রেল ও রাজ্য পুলিশ। মৃতের নাম হাসান আলি। বয়স বছর পঁয়তাল্লিশ। কলকাতার বিবি গাঙ্গুলি স্ট্রিটের বাসিন্দা হাসান আলি পেশায় ব্যবসায়ী। তদন্তে অনুমান, হাসানকে কুপিয়ে খুন করে ট্রাভেল ব্যাগে সেই মৃতদেহ ভরে ট্রেনের কামরায় ফেলে যাওয়া হয়েছিল। কোনও প্রতারণার ফাঁদে পরেই হাসানকে খুন করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করছে পুলিশ।
মৃত যুবকের পরিবার জানিয়েছে, দিঘার একটি হোটেলের লিজ নেওয়ার চেষ্টা করছিল হাসান। বছরে ২১ লক্ষ টাকা বাবদ সেই লিজ নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছিল। মৃতের পরিবারের দাবি, লিজের টাকার ১৫ লক্ষ ইতিমধ্যেই হোটেল মালিককে দিয়ে দিয়েছিল হাসান। গত মঙ্গলবার আরও ৬ লক্ষ টাকা পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল তাঁর। সেই কারণেই দিঘা রওনা দিয়েছিল হাসান। তবে মঙ্গলবারের পর থেকে তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা যায়নি। পরে পুলিশে নিখোঁজ ডায়রি করে হাসানের পরিবারের লোকজন।
পুলিশ জানিয়েছে, এই লিজ লেনদেনের প্রক্রিয়ায় চারজন দালাল হাসানকে সাহায্য করছিল। পুলিশের অনুমান, তারাই প্রতারণা করে যুবককে। লিজের বাকি টাকা নিজেরাই আত্মসাৎ করে খুন করে হাসানকে। কারণ হোটেল মালিকের কাছে নাকি কোনও টাকাই পৌঁছয়নি।
মৃতের এক আত্মীয় বলেছেন, "হোটেল মালিকের কাছে শুনেছি ১৫ লক্ষ টাকা দিয়ে দিয়েছিল হাসান। বাকি টাকাটা দেওয়ার কথা ছিল ২৪ ফেব্রুয়ারি। কলকাতা থেকে রাজু হালদার, গৌতম ও আরও দু'জন দালালের সঙ্গে যোগাযোগ করে দিঘা রওনা দিয়েছিল হাসান। তারপরেই এই মৃত্যুর খবর আসে।" চার দালালের মধ্যে দু'জনের বাড়ি দিঘাতেই বলে জানা গেছে। মৃতের পরিবার জানিয়েছে, ওই চারজনেরই নাম, পরিচয় আছে হোটেল মালিকের কাছে। দাবি, এই দালালরাই খুন করেছে হাসানকে।
রাত সাড়ে আটটা নাগাদ আপ হাওড়া-মেচেদা লোকাল মেচেদায় পৌঁছায়। যাত্রীরা নেমে যাওয়ার পর কারশেডে চলে যায় ট্রেনটি। রাত সাড়ে ১০ টা নাগাদ ঝাড়ুদারেরা যখন ট্রেনটি পরিষ্কার করছিল, সেইসময় ট্রেনের মধ্যে একটি বস্তা নজরে আসে তাদের। সেটি খুলতেই দেখেন বড় লাল রঙের একটি ট্রাভেলব্যাগ। টানাটানি করে ট্রাভেলব্যাগটি খুলতেই আঁতকে ওঠেন সাফাইকর্মীরা। দেখতে পান ব্যাগের ভেতর মুড়ে রাখা রয়েছে এক যুবকের দেহ। পরনে সাদা রঙের জামা ও ছাই রঙের প্যান্ট। ব্যাগ থেকে চুঁইয়ে পড়ছিল রক্ত। এরপরেই ওই সাফাইকর্মীরা আরপিএফ ও জিআরপিকে খবর দেয়।
সেই সময় যুবকের পরিচয় জানা যায়নি। দেহটি তমলুক জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয় ময়নাতদন্তের জন্য। তদন্তকারীরা জানান, যুবকের শরীরে বেশ কয়েক জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।খুন করে দেহটি ট্রাভেল ব্যাগে পুরে পাচার করার চেষ্টা হয়েছে বলে দাবি পুলিশের। অপরাধীদের ধরতে স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঠিক কোন স্টেশন থেকে ব্যাগটি ট্রেনে তোলা হয়েছে সেটাও জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।