ঘরেই যে লক্ষ্মী! নদিয়ায় প্রতিমা আনলেন না বাবা-মা, পুজো করলেন একরত্তিকেই
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লাল বেনারসিতে সেজে, মাথায় মুকুট, গলায় মালা পরে সিংহাসনে বসেছে ১০ বছরের দেবাদৃতা। তার একহাতে পদ্ম, কাঁখে ছোট কলস। হাতে অভয় মুদ্রা। সাক্ষাৎ লক্ষ্মীই (Lakshmi) মনে হচ্ছিল তাকে। মাটির প্রতিমা কেনার বদলে এদিন সেই ছোট্ট মেয়েক
শেষ আপডেট: 20 October 2021 07:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লাল বেনারসিতে সেজে, মাথায় মুকুট, গলায় মালা পরে সিংহাসনে বসেছে ১০ বছরের দেবাদৃতা। তার একহাতে পদ্ম, কাঁখে ছোট কলস। হাতে অভয় মুদ্রা। সাক্ষাৎ লক্ষ্মীই (Lakshmi) মনে হচ্ছিল তাকে। মাটির প্রতিমা কেনার বদলে এদিন সেই ছোট্ট মেয়েকেই লক্ষ্মীর আসনে বসিয়ে পুজো করলেন বাবা-মা। মঙ্গলবার সন্ধে ৭টা নাগাদ কৃষ্ণগঞ্জের শ্যামনগর গ্রামে সেই ব্যাতিক্রমী লক্ষ্মীপুজোর সাক্ষী হলেন সকলে।
বর্ধমানে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকায় লক্ষ্মীপুজোর জোগাড় করছেন মহিলারা, স্বনির্ভরতার পাঠ
কন্যারাই যে ঘরের লক্ষ্মী। তাই মাটির প্রতিমা কিনে পুজো করার বদলে আসল লক্ষ্মীদেরই বরণ করে নেওয়ার বার্তা দিলেন নদিয়ার এক দম্পতি। স্বামী স্ত্রী দুজনেই তাঁরা পঞ্চায়েতের উচ্চপদস্থ অফিসার। কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিনে নিজেদের কন্যা সন্তানকেই লক্ষ্মী রূপে পুজো করলেন তাঁরা।
দেবাদৃতার বাবা দেবাশিস বিশ্বাস কর্মসূত্রে হিজুলি গ্রাম পঞ্চায়েতের এক্সিকিউটিভ অফিসার। আর মা মিতালী বিশ্বাসও বনগাঁ পঞ্চায়েতের এক্সিকিউটিভ অফিসার। সমাজের আনাচেকানাচে কন্যাসন্তানের প্রতি এখনও যে বিদ্বেষ তা তাঁদের অজানা নয়। তাই নিজেদের ঘরের কন্যারত্নকে গর্বের সঙ্গে তুলে ধরতে চাইলেন। লক্ষ্মীপুজোর দিন পুরোহিত ডেকে পুজো দিলেন কন্যাকেই।
পুত্রকন্যার ভেদাভেদ নেই। উভয়েই গুরুত্বপূর্ণ। তবু অনেক পরিবারেই কন্যা সন্তানদের অবহেলায় মানুষ করা হয়। পঞ্চায়েত অফিসার হয়ে সেসব খবর দেবাশিস এবং মিতালীর প্রায়ই নজরে আসে। তাই নিজেদের কন্যাকে তাঁরা বিশেষ যত্নে মানুষ করতে চান, আদরে ভরিয়ে দিতে চান। সমাজকেও সেই বার্তাই দিতে চাইলেন এদিন।
মিতালী জানান, মেয়ে জন্ম নেবার পর থেকেই পরিবারে সুখ স্বাচ্ছন্দ্য এসেছে। ধন সম্পদ বৃদ্ধি পেয়েছে। মেয়েই তাঁদের লক্ষ্মী। তাই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আনন্দের সঙ্গেই।
ছোট্ট দেবাদৃতার হাসিমুখ জানান দিচ্ছিল, সে কতটা খুশি। বাড়ির সকলে আদরের মেয়ে সেই হাসিটুকুই অম্লান রাখতে চান। কন্যারত্নদের উজ্জ্বল উপস্থিতিতে ভরে উঠুক সমস্ত সংসার। সেই কামনায় বিশ্বাস বাড়ির পুজোয় ভিড় করেছিলেন এলাকার বহু মানুষ।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'