উত্তরবঙ্গে ফের (North Bengal Flood) প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা রয়েছে। পশ্চিমি ঝঞ্ঝা এবং ঘূর্ণিঝড় মান্থার প্রভাবে শুক্রবার থেকে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির (Darjeeling Rain) পূর্বাভাস দিয়েছে হাওয়া অফিস (Weather Update)।

পর্যটকদের জন্য অনির্দিষ্টকাল বন্ধ সান্দাকফু
শেষ আপডেট: 30 October 2025 23:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরবঙ্গে ফের (North Bengal Flood) প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা রয়েছে। পশ্চিমি ঝঞ্ঝা এবং ঘূর্ণিঝড় মান্থার প্রভাবে শুক্রবার থেকে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির (Darjeeling Rain) পূর্বাভাস দিয়েছে হাওয়া অফিস (Weather Update)। ইতিমধ্যেই প্রশাসন সতর্কতা জারি করেছে। আর তাই নিরাপত্তার কারণে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে দার্জিলিঙের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সান্দাকফু (Sandakphu)। মানেভঞ্জন থেকে সান্দাকফু পর্যন্ত যাত্রা আপাতত নিষিদ্ধ, বন্ধ ট্রেকিং-ও। নতুন নির্দেশিকা না আসা পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
আবহাওয়া দফতরের তথ্যানুসারে, ঘূর্ণিঝড় ‘মান্থা’-র অবশিষ্টাংশ এখন নিম্নচাপ হিসেবে সক্রিয় হয়েছে। বর্তমানে তা দক্ষিণ ছত্তীসগড় সংলগ্ন পূর্ব বিদর্ভ অঞ্চলে অবস্থান করছে। এর সঙ্গে রয়েছে একটি ঘূর্ণাবর্ত, যা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭.৬ কিলোমিটার উঁচু পর্যন্ত বিস্তৃত। আগামী ২৪ ঘণ্টায় এই সিস্টেম আরও উত্তর দিকে সরবে এবং ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে সাধারণ নিম্নচাপে পরিণত হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
এই নিম্নচাপের প্রভাবে আগামী দু’দিন উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গে ভারী বৃষ্টিপাত চলবে বলে পূর্বাভাস। উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে জারি হয়েছে লাল সতর্কতা। জলপাইগুড়ির কিছু এলাকায় ২০ সেন্টিমিটারেরও বেশি বৃষ্টির আশঙ্কা থাকছে। কোচবিহার ও উত্তর দিনাজপুরে কমলা সতর্কতা জারি হয়েছে, সেখানে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণ দিনাজপুর ও মালদহ জেলাতেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী বৃষ্টি হতে পারে।
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, শনিবার থেকে বৃষ্টি কিছুটা কমতে পারে। ওই দিন কেবল আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারের কিছু এলাকায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে, তবে রবিবার পর্যন্ত বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি চলবে উত্তরবঙ্গে। সোমবার থেকে আবহাওয়া ধীরে ধীরে খটখটে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সিকিমের আবহাওয়া দফতরের অধিকর্তা গোপীনাথ রাহা জানিয়েছেন, আগামিকাল চারটি জেলায় লাল সতর্কতা জারি রয়েছে। প্রায় ২০০ মিলিমিটারেরও বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। রবিবার থেকে পরিবেশ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হবে।
ভারী বর্ষণে উত্তরবঙ্গের নদীগুলিতেও জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা থাকায় নদী সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। পাহাড়ি দার্জিলিং ও কালিম্পঙে ভূমিধসের ঝুঁকি থাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের তরফে হেল্পলাইন নম্বরও চালু করা হয়েছে।
অন্যদিকে, সিকিমে মাঝারি বৃষ্টির পাশাপাশি কিছু উচ্চভূমিতে তুষারপাতের সম্ভাবনাও রয়েছে। দার্জিলিঙের উঁচু এলাকাতেও হালকা তুষারপাত হতে পারে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস।