দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরের মাঠে বড় ভাঙনের মুখে তৃণমূল কংগ্রেস।
ডানকুনি পুরসভার প্রশাসনিক বোর্ড থেকে পদত্যাগের কথা গতকালই ঘোষণা করেছিলেন প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান দেবাশিস মুখোপাধ্যায়। বিষ্যুদবার সকালে তিনি জানিয়ে দিলেন, তাঁরা অনেকে মিলে আজ পদত্যাগপত্র জমা দেবেন পুরসভায়। তারপর সম্পর্ক শেষ তৃণমূলের সঙ্গেও।
তাঁর সাফ কথা, “দাদার পথেই আমরা।” বেশ কয়েক জন পুর প্রশাসনিক বোর্ডের সদস্য দল ছাড়ছেন বলে জানিয়েছেন দেবাশিস মুখোপাধ্যায়। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বেই তাঁরা চলবেন বলে খোলাখুলি জানিয়ে দিয়েছেন দেবাশিসবাবু। ডানকুনি এলাকার দাপুটে নেতা তিনি। সারা বছর ধরে কর্মসূচিতে থাকেন। জনসংযোগও নিবিড় বলে স্থানীয়দের মত। এবার তিনি সহ আরও নেতারা তৃণমূল ছেড়ে শুভেন্দুর পথ অনুসরণ করতে চলেছেন বলে ঘোষণা করে দিলেন।
এদিন দেবাশিসবাবুকে প্রশ্ন করা হয়, আপনার সাংসদ বলছেন দিদিই সব? তাঁর ছবি দেখিয়েই আপনারা নেতা! কী বলবেন? দেবাশিসবাবুর উত্তর যেন ঠোঁটে লেগে ছিল। তিনি বলেন, “আমিও তো মনে করি দিদি সব। তাহলে প্রশান্ত কিশোর কেন? কে প্রশান্ত কিশোর? ২০০৪-এ তৃণমূলের সাংসদ ছিলেন দিদি একা। তার পর ২০০৯-এ ওই লড়াই। ২০১১-য় পরিবর্তন। এত দিন তো দিদিই করতেন। তাহলে কেন কর্পোরেট সংস্থা?”
১০ নভেম্বর শুভেন্দু নন্দীগ্রামে যে বক্তৃতা করেছিলেন, তারপর কল্যাণবাবু যা নয় তা বলেছিলেন তৎকালীন পরিবহণমন্ত্রীর বিরুদ্ধে। শ্রীরামপুর রবীন্দ্র ভবনে দাঁড়িয়ে কল্যাণের বক্তব্য ছিল, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় না থাকলে মিউনিসিপ্যালিটির বাইরে আলু বেচতিস রে আলু বেচতিস!”
এখন দেখা যাচ্ছে, নিঃশব্দে কল্যাণের গড়েই ভাঙন ধরিয়ে দিলেন শুভেন্দু। কল্যাণবাবুর কেন্দ্রে যে যে বিধানসভাকে তাঁর ঘনিষ্ঠরা দুর্ভেদ্য ঘাঁটি বলে মনে করেন তার মধ্যে অন্যতম চণ্ডীতলা বিধানসভা। চণ্ডীতলার মধ্যেই পড়ে ডানকুনি। এবার সেখানেও ভাঙতে চলেছে শাসকদল।
বর্ধমান, মালদহ, হুগলি, হরিণঘাটা—ক্রমশ সংক্রামিত হচ্ছে তৃণমূল ত্যাগ।