
শেষ আপডেট: 9 May 2022 07:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেড়শো বছর ধরে চলছে মামলা! বিবাদ দক্ষিণেশ্বরের (Dakshineswar) ভবতারিণী মন্দিরের সেবায়েতদের মধ্যে। মন্দির দেখভালের জন্য রানি রাসমণি দেবীর করে যাওয়া অপর্ণনামা নিয়ে ১৮৭২ সালে কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court) যে মামলা দায়ের হয়েছিল, তার শুনানি চলছে আজও। এবং এটিই দেশের প্রাচীনতম মামলা। এই মামলার আগামী শুনানি ১১ মে।
দেশের প্রাচীন মামলা হিসেবে উত্তরপ্রদেশের বারাণসীর দোষীপুরায় ৮৭ হাজার বর্গফুট জমির দখল নিয়ে ১৯৭৮ সালে শিয়া ও সুন্নি বিবাদের অমীমাংসিত মামলাটির উল্লেখ আছে। কিন্তু তার থেকেও প্রাচীন মামলা দক্ষিণেশ্বরের (Dakshineswar) সেবায়েত বিবাদ।
জানা গেছে, ১৮৬১ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি। মৃত্যুর একদিন আগে দক্ষিণেশ্বর মন্দির পরিচালনার জন্য রানি রাসমণি (Rani Rashmoni) একটি অপর্ণনামা করে যান। তাঁর আট নাতিকে সেবায়েত নিয়োগ করেন। নাতিরা হলেন, গণেশ দাস, বলরাম দাস, সীতারাম দাস, যদুনাথ চৌধুরি, ভূপালচন্দ্র বিশ্বাস, দ্বারিকা বিশ্বাস, ঐলোক্য বিশ্বাস ও ঠাকুরদাস বিশ্বাস। ছয় সাক্ষীর উপস্থিতিতে অর্পণনামায় স্বাক্ষর করেছিলেন রাসমণি।
রাসমণির মৃত্যুর ছ’মাস পর ১৮৬১ সালের ২৭ আগস্ট তাঁর সই করা হস্তাক্ষর যুক্ত ওই অর্পণনামা আলিপুরে রেজিস্ট্রি হয়। বিবাদ শুরু হয় দশবছর পর। ১৮৭২ সালে মামলা দায়ের হয় হাইকোর্টে। বিচারপতি ম্যাকফারসনের এজলাসে (এখন ১১ নম্বর কোর্ট) প্রথম ওঠে মামলাটি। সেই হিসেবে হাইকোর্ট এবং এই মামলার বয়স সমান।
মামলাকারী ছিলেন বলরাম দাস ও গুরুচরণ বিশ্বাস। তাঁদের দাবি ছিল, রানি মা অর্পণনামা করে গেলেও, তাতে মন্দির পরিচালনার নিয়মের উল্লেখ নেই। ফলে আদালত গাইডলাইন দিক।
দীর্ঘদিন সেই মামলা চলার পর ১৯১২ সালে মন্দির পরিচালনা সংক্রান্ত একটি স্কিম তৈরি করে দেয় আদালত। ১৯২৯ সালের ১৬ জুলাই ওই স্কিম সংশোধন হয়। কিন্ত সেবায়েত সংখ্যা দু’শো অতিক্রম করায় ১৯৭২ সালে অংশীদারিত্ব ও ট্রাস্টি বোর্ড গঠনে ভোটাধিকারের বিষয়টি নির্ধারণের জন্য ফের মামলাটি আদালতে ওঠে। শেষমেশ ১৯৮৬তে নির্দেশ, আদালত ও বিশেষ অফিসারের নজরদারিতে তিনবছর অন্তর ট্রাস্টি বোর্ডের নির্বাচন হবে।
অভিযোগ, তারপর থেকে বাকি সেবায়েতদের না জানিয়ে টানা ৩৫ বছর ট্রাস্টি বোর্ডের প্রধান নির্বাচিত হচ্ছেন।
২০২১ সালে বোর্ডের নির্বাচনের আগে বিচারপতি দেবাংশু বসাকের এজলাসে বিষয়টি উঠলে দেখা যায়, ১৮৭২ সালে যাঁরা মামলা দায়ের করেছিলেন, সেই বলরাম দাস ও গুরুচরণ বিশ্বাসের নামেই এখনও মামলাটি চলছে।
গত মার্চে বিষয়টি বিচারপতি শেখর ববি শরাফের এজলাসে উঠলে প্রাক্তন বিচারপতি জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্যকে স্পেশাল অফিসার নিয়োগ করে ভোট করানোর নির্দেশ দেয় আদালত। কিন্তু তাতে আপত্তি জানিয়ে ফের আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন বলরাম দাসের বংশধর বিক্রমজিৎ দাস।
পাড়া, অফিসে নাটক-যাত্রা হয় না, ঝাঁপ বন্ধের মুখে কলকাতার সাজঘরগুলির