দ্য ওয়াল ব্যুরো, বর্ধমান: দিনে-দুপুরে আবার সোনার দোকানে ডাকাতি। আজ দুপুর নাগাদ শহরের বিবি ঘোষ রোড আর পার্কাস রোডের জংশনে জনবহুল এলাকার একটি দোকান থেকে দশটি সোনার হার, বেশ কয়েকটি আংটি, মঙ্গলসূত্র সহ বেশ কিছু মূল্যবান গয়না লুঠ করে পালায় দুষ্কৃতীরা। পুলিশ তদন্ত শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত ধরা পড়েনি কেউ।
কয়েকমাস আগেই শহরের বুকে বি সি রোডে একটি স্বর্ণ-ঋণদানকারী সংস্থায় ত্রিশ কেজি সোনা ডাকাতি হয়। সেবার থানার অদূরেই গুলি চালিয়ে একজনকে জখম করে পালিয়ে গিয়েছিল দুষ্কৃতিরা। এছাড়া গত কয়েকমাসে শহরে বেশ কিছু চুরি ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটেছে। এইসব ঘটনার জেরে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বর্ধমানের ব্যবসায়ীমহল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দোকানটি ছোটো। দোকানে কোনো সিসিটিভি নেই। দোকানের মালিক ও তার মেয়ে পর্যায়ক্রমে দোকানে বসেন। আজ দোকানে ছিলেন মালিকের মেয়ে দীপান্বিতা দত্ত। তিনি জানিয়েছেন, দুপুর তিনটে নাগাদ দুই যুবক দোকানে এসে হাজির হয়। তাদের মুখে মাস্ক ছিল না। কথাবার্তা শুনে তাদের হিন্দিভাষী বলেই মনে হয় দীপান্বিতাদেবীর। প্রথমে তারা লকেট দেখার অছিলায় কথাবার্তা শুরু করে। সে সময়ে একটার পর একটা গয়না হাতিয়ে নিতে থাকে। এগুলির মধ্যে বেশ কিছু অর্ডারের গয়নাও ছিল। তাদের উদ্দেশ্য টের পেয়ে দীপান্বিতা দেবী বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। চেঁচিয়ে লোক জড়ো করার প্রয়াসও করেন তিনি। কিন্তু দুষ্কৃতীরা রীতিমতো থ্রিলারের কায়াদায় প্রকাশ্য দিবালোকে ডাকাতি সেরে বাইকে চেপে পালিয়ে যায়। বাইকটি দোকানের সামনেই দাঁড় করানো ছিল।
দীপান্বিতাদেবীর চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন আশেপাশের দোকানদারেরা। ওই পথেই যাচ্ছিলেন ব্যবসায়ী সুরক্ষা সমিতির সম্পাদক বিশ্বেশ্বর চৌধুরী। তিনিই সবটা শুনে থানায় খবর দেন। বর্ধমান থানার আইসি পিন্টু সাহার নেতৃত্ব পুলিশ এসে তদন্ত শুরু করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সন্দীপ সান্যাল জানান, বাইকটি দোকানের পাশেই রাখা ছিল।যখন দোকানের মহিলা চোর চোর করে চিৎকার করছেন, তখন দুষ্কৃতিরাই পালটা টাকা চেয়ে গালিগালাজ শুরু করে। আশেপাশের দোকানদার ও পথচলতি মানুষজন অনেকেই সেসময় মনে করেছিলেন ক্রেতা বিক্রেতা বাকবিতণ্ডা হচ্ছে। ভুল ভাঙতে ভাঙতে দুই দুষ্কৃতি দ্রুত বাইক নিয়ে চম্পট দিয়েছে।
এ প্রসঙ্গে ব্যবসায়ী সুরক্ষা সমিতির সম্পাদক বিশ্বেশ্বরবাবুকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, এভাবে দিনেদুপুরে জনবহুল এলাকায় ডাকাতির কথা ভাবাই যায়না। দোকানদারেরা রীতিমতো আতঙ্কিত। তবে দোকানটিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাব ছিল, সে কথাও মেনে নেন তিনি। একের পর এক সোনার দোকানে দুষ্কৃতি হানায় বিচলিত এলাকাবাসী। পুলিশ প্রশাসনের কাছে আরও সুরক্ষার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।