
শেষ আপডেট: 10 May 2023 04:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মঙ্গলবার নিম্নচাপ থেকে অতি গভীর নিম্নচাপ তৈরি হয়েছিল বঙ্গোপসাগরে। বুধবার সন্ধের দিকে এই নিম্নচাপ পরিণত হবে ঘূর্ণিঝড় 'মোখা'য় (cyclone Mocha)। বুধবার সকালে এমনটাই জানাল ভারতীয় মৌসম ভবন। তবে এখনও অবধি আবহাওয়াবিদদের ধারণা, এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব বাংলা-সহ ভারতের পূর্ব উপকূলে তেমন পড়বে না (weather update)।
এদিন মৌসম ভবন জানিয়েছে যে, বুধবার সন্ধের দিকে সাইক্লোন 'মোখা' তৈরি হতে পারে বঙ্গোপসাগরে। আর ১১ মে, বৃহস্পতিবার সকালে এটি আরও শক্তি বাড়িয়ে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, বঙ্গোপসাগরের একই জায়গায় অবস্থান করে ঘূর্ণিঝড়টি আরও শক্তি বাড়াবে। তারপর তা ১২-১৩ মে নাগাদ ক্রমশ এগিয়ে যাবে উপকূলের দিকে।
কোন উপকূলে যেতে পারে 'মোখা'? এখনও পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড়ের যা গতিবিধি, তাতে মনে করা হচ্ছে এর অভিমুখ ভারত নয়। বরং তা উত্তর ও উত্তর-পূর্ব দিকে এগিয়ে যেতে পারে। অর্থাৎ, বাংলাদেশ ও মায়ানমারের দিকেই এর অভিমুখ এখনও পর্যন্ত। সূত্রের খবর, আগামী ১৪ তারিখ অর্থাৎ রবিবার 'মোখা' বাংলাদেশের কক্সবাজার ও মায়ানমারের ক্যাকপ্যু এলাকায় ঢুকতে পারে। এরপর ধীরে ধীরে শক্তিক্ষয় হবে 'মোখা'র।
যদিও প্রথম থেকেই আমেরিকা ও ইউরোপের মৌসম ভবনের তরফে বলা হচ্ছিল 'মোখা' সেভাবে ভারতে প্রভাব ফেলবে না। এবার ভারতীয় মৌসম ভবনও সেই কথাই জানাল। তবে ঘূর্ণিঝড়ের অভিমুখ বাংলাদেশ ও মায়ানমারের দিকে হলেও পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশা উপকূলীয় এলাকায় সতর্কতা জারি করেছে। এমনকী মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতেও বারণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, মোখার প্রভাবেই তাপপ্রবাহ (heat wave Bengal) শুরু হয়েছে বাংলা জুড়ে, যা আরও ৩ দিন চলবে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস। বাতাসে পরিমাণ ক্রমশ ক্রমে শুষ্ক হবে আবহাওয়া। কিন্তু তা সত্ত্বেও আপেক্ষিক আর্দ্রতার কারণে অস্বস্তিকর গরম থেকে মুক্তি মিলবে না।
গতকাল অর্থাৎ মঙ্গলবার শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৮.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বুধবার ভোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৯.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ বুধবার দক্ষিণবঙ্গের বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, ২ বর্ধমান, হুগলি, বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় তাপপ্রবাহের সতর্কবার্তা রয়েছে। উত্তরবঙ্গের মালদহ এবং দক্ষিণ দিনাজপুরে লু বইবে।
তাপপ্রবাহ পরিস্থিতি বজায় থাকবে শুক্রবার পর্যন্ত। তবে সেদিন থেকেই একটু একটু করে বদলাতে শুরু করবে আবহাওয়া। বিকেলের পর থেকে কোথাও কোথাও আংশিক মেঘলা আকাশের দেখা মিলবে। শনি ও রবিবার দক্ষিণবঙ্গের দুই চব্বিশ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরে বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টি সম্ভাবনা রয়েছে। উপকূলের অন্যান্য জেলাগুলিতেও হালকা বৃষ্টি এবং ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।
তবে আগামী ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে উত্তরবঙ্গের তিনটি জেলায়। দার্জিলিং, কালিম্পং এবং জলপাইগুড়িতে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। বৃহস্পতিবারের পরেও বৃষ্টি চলবে দার্জিলিং এবং কালিম্পংয়ের পার্বত্য এলাকাগুলিতে।
মুসলিমদের বহুবিবাহ নিষিদ্ধ হবে এই রাজ্যে! আইনি জটিলতা খতিয়ে দেখতে কমিটি গঠন