দ্য ওয়াল ব্যুরো: সময় এগিয়ে আসছে দ্রুত। হাতে গোনা মাত্র কয়েকটা ঘণ্টা। আগামিকাল, শুক্রবার দুপুরের মধ্যেই প্রবল শক্তি নিয়ে ওড়িশা উপকূলে ঝাঁপিয়ে পড়তে চলেছে ঘূর্ণিঝড় ফণী। 'জয়েন্ট টাইফুন ওয়ার্নিং সেন্টার'-এর সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, মামুলি সাইক্লোন হিসেবে ফণীর জন্ম হলেও, ধীরে ধীরে তেজ বাড়িয়ে সে পরিণত হয়েছে সুপার সাইক্লোনে। এর একটা ঝাপটায় তছনছ হয়ে যেতে পারে উপকূলবর্তী এলাকা। সরকারি নির্দেশে ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত সতর্কতা জারি হয়েছে ওড়িশার উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে যথা, পুরী, জগৎসিংপুর, কেন্দ্রপাড়া, ভদ্রক, বালাসোর, ময়ূরভঞ্জ, গজপতি, গঞ্জাম. খুরদা, কটক এবং জাজপুরে। সমুদ্র লাগোয়া এলাকাগুলি খালি করে দিতে বলা হয়েছে। পর্যটক ও স্থানীয় মিলিয়ে সরানো হয়েছে প্রায় ৮ লক্ষ মানুষকে।
মৌসম ভবনের বিজ্ঞানীদের হিসেব অনুযায়ী, স্থলভূমিতে আছড়ে পড়ার সময় ঘণ্টায় সর্বাধিক ১৭৫ কিলোমিটার বেগে ঝড় বইতে পারে। ‘এক্সট্রিমিলি সিভিয়ার সাইক্লোনিক স্টর্ম’ ফণীর ছোবলের মোকাবিলায় পশ্চিমবঙ্গ-সহ সংশ্লিষ্ট সব রাজ্যেই প্রস্তুতি চলছে পুরোদমে। ত্রাণ ও উদ্ধারকার্যের জন্য জাহাজ ও হেলিকপ্টার নিয়ে তৈরি থাকতে বলা হয়েছে নৌসেনা, বায়ুসেনা ও উপকূলরক্ষী বাহিনীকে। ওড়িশার জায়গায় জায়গায় মোতায়েন করা হয়েছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF), ওড়িশা ডিজাস্টার র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (ODRAF) ও দমকলের কর্মীদের। আগামী তিন দিনের জন্য বন্ধ থাকবে রাজ্যের সমস্ত স্কুল-কলেজ।
সরকারি সূত্রে খবর, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর ২৮টি দল ইতিমধ্যেই পৌঁছে গেছে ওড়িশায়, ১২টি অন্ধ্রপ্রদেশে, ৬টি বাংলায়। অতিরিক্ত ৩০টি দল মজুত রাখা হয়েছে যে কোনও আপৎকালীন অবস্থার জন্য। ওড়িশা ও অন্ধ্রপ্রদেশের সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে ১৫মে পর্যন্ত।
আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ওড়িশা থেকে ফণী মুখ ঘুরিয়ে যখন এ রাজ্যের দিকে আসবে, তখন তার দাপট কমলেও গতিবেগ থাকবে ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১৫ কিলোমিটারের কাছাকাছি। দাপটে কলকাতা-সহ রাজ্যের উপকূলীয় জেলাগুলিতে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। শনি এবং রবিবার কলকাতা, দুই চব্বিশ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, দুই মেদিনীপুর, দুই বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও প্রতি ঘণ্টায় ৯০ থেকে ১০০ কিলোমিটার গতিবেগে ঝোড়ো হাওয়া বইবে। উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে ঝড়ের গতিবেগ বেড়ে ঘণ্টায় প্রায় ১১৫ কিলোমিটার হতে পারে।
বৃহস্পতিবার অবধি পাওয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, ফণীর জেরে দক্ষিঁণ ভারত, ওড়িশা এবং এ রাজ্যের মধ্যে প্রায় ৪৩টি দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। প্রয়োজনে অন্যান্য ট্রেনের গতিপথ পরিবর্তন করা হতে পারে। দক্ষিণ-পূর্ব রেল সূত্রে খবর, হাওড়া-শিয়ালদহ এবং দক্ষিণভারত-ওড়িশার মধ্যে বাতিল হয়েছে হাওড়া-পুরী শতাব্দী এক্সপ্রেস, করমণ্ডল, হাওড়া যশবন্তপুর এক্সপ্রেস, ফলকনামা, হাওড়া-মাইসুরু, রৌরকেলা-ভূবনেশ্বর সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস। তা ছাড়াও, সাঁতরাগাছি-ম্যাঙ্গালুরু সেন্ট্রাল বিবেক এক্সপ্রেস, হাওড়া চেন্নাই মেল, সাঁতরাহাছি-চেন্নাই স্পেশ্যাল, খড়গপুর-ভিল্লাপুরাম এক্সপ্রেস, হাওড়া-ভূবনেশ্বর জনশতাব্দী, পুরী-হাওড়া শ্রীজগন্নাথ এক্সপ্রেস, হায়দরাবাদ-হাওড়া ইস্ট কোস্ট এক্সপ্রেস বাতিল করা হয়েছে বলে খবর।