দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিভারের ধাক্কা এখনও কাটেনি, তার আগেই বঙ্গোপসাগরে তৈরি হয়েছে নতুন ঘূর্ণিঝড় বুরেভি। জানা গেছে, আপাতত গভীর নিম্নচাপ তৈরি হয়েছে বঙ্গোপসাগরে। এটি প্রথমে শ্রীলঙ্কা উপকূলে বুধবার রাতে আছড়ে পড়তে পারে। এর পরে তা দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলিতে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এতে বাংলায় কোনও সরাসরি প্রভাব পড়বে না বলেই নিশ্চিত করছেন আবহাওয়াবিদরা।
এদিন শহর কলকাতায় তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি। জেলায় জেলায় আরও নামবে পারদ। মেঘমুক্ত পরিষ্কার আকাশ, স্বাভাবিকের থেকে ১ ডিগ্রি কম তাপমাত্রা। গতকাল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৮.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিক। বাতাসে জলীয়বাষ্পের সর্বোচ্চ পরিমাণ ছিল ৯৬ শতাংশ।

জানা গেছে, দক্ষিণ তামিলনাডু এবং দক্ষিণ কেরালার বেশ কিছু জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বুরেভির প্রভাবে। কেরলে বৃষ্টি শুরু হয়ে গেছে গতকাল থেকেই। হাওয়া অফিস জানাচ্ছে, এই নিম্নচাপ আরও ঘনীভূত হবে। এর পরে ঘূর্ণিঝড়ের চেহারা নেবে। শক্তি বাড়িয়ে সেই ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়বে দক্ষিণের উপকূলে। নিভারের মতোই ভয়ঙ্কর তাণ্ডব দেখাতে পারে এই ঘূর্ণিঝড়ও। এই ঝড়ের নাম বুরেভি। এই নাম দিয়েছে মলদ্বীপ।
আবহাওয়া দফতর থেকে বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসারে তৈরি হয়েছে নিম্নচাপ। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আরও গভীর নিম্নচাপ তৈরি হবে। এর জেরে তামিলনাড়ু, কেরল, পুদুচেরি, কারাইকাল, অন্ধ্রপ্রদেশের দক্ষিণ উপকূল ও লক্ষ্যদ্বীপে ১ থেকে ৪ ডিসেম্বর অবধি তুমুল বৃষ্টি হবে। সেই সঙ্গেই থাকবে ঝোড়ো হাওয়ার দাপট।

দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে ঘনিয়ে ওঠা নিম্নচাপ ঘূর্ণিঝড়ের চেহারা নেওয়ার পরে পশ্চিম থেকে উত্তর-পশ্চিমে গতি বাড়াবে। কন্যাকুমারি ও তিরুঅনন্তপুরমে ঝড়ের দাপট বেশি দেখা যেতে পারে। লাল সতর্কতা জারি হয়েছে ইতিমধ্যেই। আগামী দুদিন ৫৫-৬৫ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইবে উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে। মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।
অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় নিভারের ক্ষত এখনও সারিয়ে ওঠা যায়নি। তামিললাড়ু, পুদুচেরির উপকূল ছেড়ে বেরিয়ে পড়ছে। তবে দাপট কমার আগেই কার্যত লণ্ডভণ্ড করে দিয়ে গেছে একটা গোটা রাজ্যকে। উপড়ে পড়েছে শতাধিক গাছ। বিদ্যুতের লাইন ছিঁড়ে পড়েছে। জলমগ্ন তামিলনাড়ু, পুদুচেরির একাধিক এলাকা। বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণীঝড় ঘনীভূত হওয়ার সময় থেকেই বৃষ্টি শুরু হয়েছিল চেন্নাই, পুদুচেরিতে। নিভারের দাপটে অতি ভারী বৃষ্টি হয় চেন্নাই, পুদুচেরি, কাড্ডালোর-সহ বিভিন্ন এলাকায়। মুদিচুর ও উরাপাক্কামের বেশিরভাগ এলাকা এখনও জলমগ্ন। উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দল। চাষের জমি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ। ৮২০ হেক্টর ধানের জমি ছাড়খাড় হয়ে গেছে। ২০০ হেক্টর সবজি, ১৭০ হেক্টর আখের জমি, ৫৫ হেক্টরেরও বেশি কলা বাগান লণ্ডভণ্ড। অনেক টাকার ফসল নষ্ট হয়ে গেছে বলে জানা গিয়েছে।