দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুক্রবার দুপুরেই জনজাতিদের জন্য কোর কমিটি গঠন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই কমিটির মাথায় বসিয়েছেন বহিষ্কৃত সিপিএম সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে। আর বিকেল থেকে এই খবর চাউর হতেই ময়দানে নেমে পড়ল ঋতব্রতর প্রাক্তন দলের কর্মী বাহিনী।
কিন্তু সিপিএম চাইছে অন্য কৌশল। আর সেই কৌশলকে বাস্তবায়িত করতে ফেসবুকের ময়দানে টিম নামাতে চলেছে আলিমুদ্দিন।
কী সেই কৌশল?
সিপিএম সূত্রে খবর, ভিস্যুয়াল প্যাকেজ বানানো হতে পারে ঋতব্রতকে নিয়ে।মশলা ঠাসা সেই প্যাকেজ যাতে একদম টানটান ছবির মতো হয় সেই ব্যবস্থাই করছে সিপিএম-এর ডিজিটাল টিম।
বাম ছাত্র নেতা থাকার সময় সুবক্তা হওয়ার দৌলতে রাজ্য ঘুরিয়ে তাঁকে দিয়ে সভা করিয়েছে সিপিএম।সেই সমস্ত সভার ক্লিপিং এক জায়গায় করার কাজ শুরু করে দিয়েছে এই টিম। প্রসঙ্গত, একটা সময় ছিল যখন ৩১ নম্বর আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে বিভিন্ন জেলা থেকে সভার বক্তা হিসাবে চাওয়া হতো বুদ্ধবাবুর স্নেহধন্য এই ছাত্রনেতাকে। একাধিক সময়ে এমন হয়েছে সদর দফতর জানিয়ে দিত ঋতব্রতর ডেট ফাঁকা নেই। জেলায় জেলায় এতটাই চাহিদাছিল তাঁর। এক সিপিএম নেতার কথায়, এখন জেলাগুলিকেই ফোন করে বলতে হচ্ছে সেই সময়কার ওঁর বক্তৃতার ক্লিপিং পাঠাতে।
ইংরাজী সাহিত্যের ছাত্র হলেও ঋতব্রতর ইতিহাস জ্ঞান তারিফ যোগ্য। সঙ্গে স্পষ্ট উচ্চারণের বাগ্মি। আর ইতিহাসে ঘটে যাওয়া নানান ঘটনার সঙ্গে বঙ্গ রাজনীতির নানান ঘটনাকে জুড়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর জুড়ি ছিল না। যেমন একাধিক বক্তৃতায় আশুতোষের এই ছাত্র নেতা তৃণমূল সুপ্রিমোকে একদা হিটলারের সঙ্গেও তুলনা করেছেন। সেই ক্লিপিং-এর সঙ্গে ওই ভিস্যুয়াল প্যাকেজের মধ্যভাগে থাকবে ২০১২ সালের ৯ এপ্রিল দিল্লি বিমানবন্দরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অমিত মিত্রকে হেনস্থা করার ক্লিপিং। সেই সঙ্গে একদম শেষে রাখা হবে মাস কয়েক আগে বালুরঘাটের এক তরুণীর সঙ্গে তাঁর ভিডিও চ্যাটের ক্লিপিং।
সিপিএম-এ থাকার সময় তাঁর বিরুদ্ধে চারিত্রিক অভিযোগ জমা পড়েছিল দলে। প্রাক্তন স্ত্রী সহ একাধিক মহিলা অভিযোগ জানান রাজ্যসভার সাংসদের বিরুদ্ধে। সেই সময় সিপিএম-এর তরুণ কর্মীরা প্রায় দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েন সোশ্যাল মিডিয়ায়। একদল তাঁর পক্ষে আর এক দল ‘কমিউনিস্ট নৈতিকতার’ প্রশ্নে তাঁর বিরুদ্ধে। এর মাঝে একবার শিলিগুড়ির কাঞ্চঞ্জঙ্ঘা স্টেডিয়ামে বড় ম্যাচের গ্যালারিতে বসা ঋতব্রতর ছবি ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। মোহনবাগান অন্তঃপ্রাণ যাদবপুর নিবাসী তৎকালীন এই কমিউনিস্ট পার্টির নেতাকে দেখা যায় হাতে আই ওয়াচ আর পকেটে মঁ ব্লা-এর পেনে সজ্জিত হয়ে খেলা দেখছেন। এমনিতে তাঁর জীবন যাপন নিয়ে আগেও দলের মধ্যে কথা উঠেছিল। প্রাক্তন এক এসএফআই নেতার কথায়, ‘উনি যখন এমপি হননি তখনও জেলায় মিটিং করতে আনলে এয়ারকন্ডিশন গাড়ি চেপে আসতেন। দুপুরের খাবারের মেনুতে থাকতে হতো বেশ কয়েক রকম ফল। মুখ মুছতেন অ্যালোবেরার রুমালে।’ শিলিগুড়ি স্টেডিয়ামের ছবি নিয়ে সমালোচনা করায় টালিগঞ্জের এক সিপিএম সমর্থকের কর্মস্থলে মেইল করে চাকরি থেকে বরখাস্ত করারও অভিযোগ ওঠে ঋতব্রতর বিরুদ্ধে। এই সব নিয়ে পুরনো ঋতব্রতর নানান কাজকে কোলাজ করে নতুন ঋতব্রতর বিরুদ্ধে কোমর বেঁধে নামছে সিপিএম।
যদিও ঋতব্রত ঘনিষ্ঠদের মতে, তিনি এসবে খুব একটা পাত্তা দিচ্ছেন না। তাঁর এখন একটাই লক্ষ্য, দিদির দেওয়া চেয়ারম্যানের দায়িত্ব ‘মোটা কাপড়’ হিসেবে মাথায় তুলে রাখা।
ফাইল ছবি