
শেষ আপডেট: 15 July 2022 14:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তম কুমার-সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ের সেই সিনেমাটা মনে পড়ে? ১৯৫৯ সালের জুলাই মাসে মুক্তি পেয়েছিল ‘গলি থেকে রাজপথ।’ ৬৩ বছর পর সেই সিনেমাটারই যেন উল্টো নির্মাণ শুরু করতে চাইছে বাংলা সিপিএম (CPM) —রাজপথ থেকে গলিতে।
কী ব্যাপার?
সিপিএমের নেতারা এখন জেলায় জেলায় গিয়ে একটাই কথা বলছেন, বড় রাস্তা ছেড়ে গলিতে ঢুকুন। দলের পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে, একটা এরিয়া কমিটি আগেভাগে খবর দিয়ে বড় রাস্তায় মিছিল করলে লোকলস্কর হচ্ছে বটে। কিন্তু পাড়ায় পাড়ায় অলিতেগলিতে লোক জানতেই পারছে না পার্টি কী করছে। ফলে অনেকের মনে হতে পারে, দলটা ঘরে ঢুকে গিয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, বুথস্তরে সাংগঠনিক (Booth Level Organization) আড়ষ্ঠতা কাটাতেই এই দাওয়াই দিচ্ছে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট। সিপিএমের এক নেতার কথায়, ‘ফেসবুক ছেড়ে এবার আমাদের ফেসটা বুথের দিকে করতে হবে। সেই কারণেই মিছিল-মিটিং আরও গলি, তস্য গলিতে নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।’
আলিমুদ্দিনের তীব্র অর্থসংকট, উপরি এ বছর স্কুলের জন্য দিতে হবে ৫০ লাখ, কী ভাবছেন সেলিমরা?
এমনিতে ভোটের সময় ছাড়া সিপিএমে বুথ কমিটি গঠনের অভ্যেস নেই। গত সাত-আট বছরে হয়ে যাওয়া ভোটগুলিতে সব বুথে কমিটিও গড়া যায়নি। এবার সিপিএম জোর দিয়েছে স্থায়ী বুথ টিম গড়ার ক্ষেত্রে। ব্রাঞ্চের নীচের স্তর হিসেবে সেই টিম যাতে পাড়ায় পাড়ায় কর্মসূচি করতে পারে। এ ব্যাপারে এরিয়া কমিটির সদস্যদের নির্দিষ্ট সময়ান্তরে চেকআপের নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সিপিএম।
সিপিএমের অভিধানে একটা সময়ে ‘স্কোয়াড’ বলে একটা শব্দ খুব চালু ছিল। কিন্তু সেসব অনেক কাল আগেই চুকেবুকে গিয়েছে। স্কোয়াড কী? সেটা হল ১০ জন - ১২ জন মিলে হইহই করে স্লোগান দিয়ে একটা পাড়া, সরু গলি, এর বাড়ি, তার বাড়ির উঠোন দিয়ে একটা চক্কর মেরে নেওয়া। যাতে মানুষ কানে ধরে রাখতে পারে, পাড়ায় পার্টিটা রয়েছে। ফের সেই স্কোয়াড ফরম্যাটে ফিরতে চাইছে দল। বলা হয়েছে একটা পাড়ায় মিছিল করার জন্য ১০০ লোকের দরকার নেই। ১৫-২০ জন মিলে হইহই করে পাড়া ঘুরলেই হবে। তাতে বিরাট বিপ্লব হবে না। তবে ঘনঘন এটা করতে পারলে মানুষ বুঝবে, বিশেষত বাড়ির মহিলারা বুঝবেন, এই পাড়ায় দলের অস্তিত্ব রয়েছে।
সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর এক সদস্যের কথায়, বছরে একটা ব্রিগেড ভরিয়ে কাজের কাজ হয় না। সাড়া বছর ইস্যু ভিত্তিতে পাড়ার রাস্তাতে মিছিল করা অনেক বেশি কার্যকরী। অনেকের মতে, অনিল বিশ্বাস প্রয়াত হওয়ার পর বুথ স্তরের সংগঠন যে আলগা হতে হতে সার্বিক পার্টি সংগঠন খাদের কিনারে এসে দাঁড়িয়েছে। সেই ভাঙন ঠেকাতে বুথ সংগঠনকে বিকল্প কংক্রিট হিসেবে মনে করছে রাজ্য সিপিএম।