
শেষ আপডেট: 24 April 2023 14:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: অভিষেকের জনসংযোগ যাত্রার আগেই তৃণমূলের (TMC) দেওয়াল হোয়াইটওয়াশ করতে ঝাঁপাল সিপিএম (CPM)। পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরে (Jamalpur) তৃণমূলের প্রতীক ’ঘাস ফুল’ আঁকা সব দেওয়াল মুছে কাস্তে-হাতুড়ি আঁকতে দেখা গেল সিপিএমের তরুণ ব্রিগেডকে। এইসব দেখার পরে তৃণমূলের সাফাই, বিধানসভা ভোটে হোয়াইটওয়াশ হয়ে যাওয়া বামেরা নাকি আগামী দিনেও শুধু দেওয়ালেই থাকবে।
শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে নেমে তৃণমূলের রাঘববোয়ালদের একের পর এক জেলে পুরেছে সিবিআই ও ইডি। এর সঙ্গে আবার রয়েছে কয়লা ও গরু পাচার মামলা। যে মামলায় গ্রেফতার হয়ে বীরভূমের দাপুটে তৃণমূল কংগ্রেস নেতা অনুব্রত মণ্ডলের এখন ঠাঁই হয়েছে দিল্লির তিহার জেলে। অন্যদিকে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় সহ গোটা শিক্ষা দফতরটারই এখন গারদে। এই অবস্থার মধ্যে হওয়া সাগরদিঘির উপনির্বাচনে তৃণমূলের শোচনীয় পরাজয় দেখে অতিমাত্রায় উজ্জীবিত কংগ্রেস, সিপিএম ও বিজেপি। এর রেশ যাতে পঞ্চায়েত নির্বাচনে আছড়ে না পড়ে সেই ব্যাপারে আবার অতি সতর্ক তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মঙ্গলবার থেকে শুরু করে টানা ৬০ দিন রাজ্যের সমস্ত পঞ্চায়েত এলাকায় ঘুরে ঘুরে জনসংযোগ যাত্রায় যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তার আগেই তৃণমূলকে টেক্কা দিতে পুরানো কায়দায় ’মাচা বৈঠক’ করা থেকে শুরু করে দেওয়াল লিখন, মিটিং-মিছিল সবই পুরোদস্তুর শুরু করে দিলেন জামালপুরের সিপিএম কর্মীরা। জামালপুর ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় দেওয়াল লেখায় তৃণমূলকে অনেকটাই ব্যাকফুটে ফেলে দিয়েছে সিপিএমের তরুণ ব্রিগেড। ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী অলক মাঝির সমর্থনে জামালপুরের শিবতলা থেকে হুসুমপুর পর্যন্ত চারটি বুথ এলাকায় লেখা থাকা সব দেওয়াল মুছে দিয়েছেন তাঁরা। এখন ওইসব দেওয়ালে কাস্তে হাতুড়ি তারা এঁকে তার পাশে পঞ্চায়েত ভোটে বাম প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার কথা লিখে দিচ্ছেন। একই ভাবে লাল পতাকায় ছেয়ে দেওয়া হচ্ছে এলাকা। তৃণমূল কর্মীদের অভিযোগ, অশান্তি পাকানোর জন্যেই নাকি সিপিএমের লোকজন এইসব করছে।
তবে এই অভিযোগ মানতে চাননি সিপিআইএম এর জামালপুর ১ নম্বর এরিয়া কমিটির সম্পাদক সুকুমার মিত্র। তিনি বলেন, “দেওয়াল সিপিএমেরও নয়, তৃণমূলেরও নয়। দেওয়াল তো বাড়ির মালিকের। বাড়ির মালিক যে দলকে তাঁর দেওয়ালে লেখার অনুমতি দেবে তাঁরাই লিখবেন। জামালপুরের যে যে বাড়ির মালিক তাঁদের দেওয়ালে সিপিএম পার্টিকে লেখার অনুমতি দিয়েছেন সেখানেই আমাদের পার্টি কর্মীরা লিখছেন। আমাদের পার্টির সিদ্ধান্ত বাড়ি মালিকের অনুমতি না নিয়ে আমাদের পার্টির কোনও কর্মী ওই বাড়ির দেওয়ালে লিখতে যাবে না।”
তাহলে কি ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে যে সব পরিবার তাঁদের বাড়ির দেওয়ালে তৃণমূলকে লিখতে দিয়েছিলেন তাঁরা এখন তৃণমূলের দিক থেকে ফের বামেদের দিকে মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছেন। বিজেপি নেতারা আবার সিপিএম কর্মীদের এমন ভূমিকাকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। জেলা বিজেপি সভাপতি অভিজিৎ তা বলেন, “এখন তো তৃণমূলে দেওয়াল লেখার লোক পর্যন্ত নেই। আর বাম কংগ্রেস জোট কোথাও একটা দুটো দেওয়াল লিখে মিডিয়াকে ডেকে নিয়ে হাইলাইট করছে। কিন্তু বিজেপি কর্মীরা অসংখ্য দেওয়াল লিখলেও তা নিয়ে সিপিএমের মতো ঢাক ঢোল পেটাতে যায়নি। তাই হয়তো সেটা চোখে পড়ছে না।
তৃণমূল বিধায়ক অলক মাঝির অভিযোগ, “গা জোয়ারি করে সিপিএম কর্মীরা তৃণমূলের লেখা দেওয়াল দখল করেছে। আমরা এর বিরুদ্ধে লড়ব। ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে গোটা বাংলার মানুষ সিপিএমকে হোয়াইটওয়াশ করে দিয়েছে। তারপরেও ওরা এখন পঞ্চায়েত দখলের দিবাস্বপ্ন দেখছে। বাংলার মানুষের রায়ে পঞ্চায়েত ভোটের পর সিপিএমের অস্তিত্ব শুধু দেওয়ালেই থাকবে।”
রাজু ঝা খুনের কিনারা করতে দুর্গাপুরের কয়লা মাফিয়ার দফতরে সিটের তল্লাশি