
শেষ আপডেট: 11 September 2022 17:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পূর্ব বর্ধমান জেলার এসএফআইয়ের (SFI) সম্মেলন চলছিল। রবিবার বিকেলের পর তা শেষ হয়েছে। কিন্তু তার অনেক আগেই বর্ধমান থেকে আমতার (Amta) উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন এসএফআই রাজ্য সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য (Srijan Bhattacharya)।
শুক্রবার আর শনিবারের মাঝের রাত। উত্তরবঙ্গগামী ট্রেনের বার্থে শুয়ে মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় (Minakshi Mukherjee) খবর পেয়েছিলেন আনিস খানের (Anis Khan) ভাইয়ের উপর নৃশংস হামলা হয়েছে।
জলপাইগুড়ি স্টেশনে যখন শনিবার সকালে মীনাক্ষী নামলেন, তাঁর পিঠে রুকস্যাক। এলোমেলো চুলে প্ল্যাটফর্মে উপস্থিত সাংবাদিকদের ডিওয়াইএফআই রাজ্য সম্পাদক বললেন, লড়াইটা রাস্তাতেই হবে।
তারপর ভাষণ দেন জলপাইগুড়ি জেলা ডিওয়াইএফআইয়ের জেলা সম্মেলনের প্রকাশ্য সমাবেশে। সম্মেলনের প্রথমার্ধ হয়েছিল শনিবার সন্ধ্যায়। তারপর রাতের ট্রেনে মীনাক্ষী রওনা দেন কলকাতার দিকে। রবিবার দুপুরের মধ্যে পৌঁছে যান আমতায় আনিস খানের বাড়িতে।
সিপিএমের (CPM) অনেকে মজা করে মীনাক্ষীকে বলছেন গেছো দিদি! এই জলপাইগুড়ি, তো পরক্ষণেই আমতা।

সিপিএমের অনেকের মতে, গত ১১ বছরে এমনটা দেখা যায়নি। সম্মেলন, কমিটির মাদকতা ত্যাগ করে গণসংগঠনের শীর্ষ নেতারা এভাবে ইস্যুর এপিসেন্টারে পৌঁছে গিয়েছেন, তা হয়নি।
তাহলে কী হয়েছে?
সিপিএমের এক নেতার কথায়, সরকার চলে যাওয়ার পর পার্টি থেকে গণসংগঠনের নেতাদের মধ্যে ক্ষমতা জাঁকিয়ে বসে থাকার মানসিকতা কাজ করছিল। তাঁরা ভাবছিলেন, সরকার নেই তো কী হয়েছে! কমিটি তো আছে!
তার ফলে যেটা হত বলে সিপিএম নেতাদের বক্তব্য, তা হল, কমিটির আকাঙ্খা আন্দোলনের রাস্তা থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছিল। যা হচ্ছিল সব প্রতীকী। মাথারা থাকছিলেন কমিটি নিয়ন্ত্রণে আর মিছিল সাজাচ্ছিলেন অন্যরা।
রবিবার আমতায় দেখা গেল, সম্মেলনের মোহ ছেড়ে আন্দোলনকেই 'প্রায়োরিটি লিস্টের' উপরে রাখছে দীনেশ মজুমদার ভবন।

আনিসের ভাইয়ের উপর হামলা নিয়ে এদিন যে মিছিল হয়েছে তা নিয়ন্ত্রণ করতে কার্যত কালঘাম ছুটেছে মীনাক্ষী-সৃজনদের। যে জমায়েত আমতা থানায় লণ্ডভণ্ড করার জন্য হোম ওয়ার্ক করার জন্য প্রস্তুত ছিল তাকে কার্যত কাকুতি করে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়েছে।
উদ্দেশ্য একটাই। ২০ তারিখ বড় জমায়েত ধর্মতলায়। এখন দেখার কতদূর এগোয় বাম আন্দোলন।