দ্য ওয়াল ব্যুরো: ত্রিপুরার হোটেলে আইপ্যাকের টিমকে বন্দি রাখা নিয়ে গর্জে উঠলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা সিপিএম পলিটব্যুরোর সদস্য মানিক সরকার। কার্যত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুরেই বর্ষীয়ান সিপিএম নেতা বললেন, সরকার ভয় পেয়েছে।
মঙ্গলবার আগরতলার মেলার মাঠে ত্রিপুরা সিপিএমের সদর দফতরে একটি সাংবাদিক বৈঠক করেন মানিকবাবু। সেখানেই তিনি তৃণমূলের ভোট স্ট্র্যাটেজি সংস্থা আইপ্যাকের ২৩ জনকে আটকে রাখার তীব্র নিন্দা করেন। এদিন মানিকবাবু বলেন, "এটা কী ধরনের সরকার। একটা দল সমীক্ষা করতে এসেছে। তারা আসতেই পারে। এটা তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার। তাই বলে তাঁদের হোটেলে বন্দি করে রাখা হবে?"
এখানেই থামেননি ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, এসব কেন করছে? আসলে সরকার ভয় পেয়েছে। ভীতি থেকে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। সরকারের এই ভীতির কারণ তাদের পাশ থেকে জনগণ সরে যাচ্ছে।
ত্রিপুরা পুলিশের হাত থেকে তাদের উদ্ধার করতে তিন জন নেতাকে বুধবার আগরতলায় পাঠাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। যাচ্ছেন রাজ্যের দুই মন্ত্রী মলয় ঘটক এবং ব্রাত্য বসু। সঙ্গে যাচ্ছেন আইএনটিটিইউসি-র রাজ্য সভাপতি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ও। ঠিক তাঁর পরের দিনই ত্রিপুরায় যাচ্ছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
তৃণমূল এখনও ত্রিপুরায় ভ্রূণ অবস্থায় রয়েছে। অন্য দিকে সেখানকার সিপিএমের অবস্থা মোটেই বাংলার মতো নয়। যথেষ্ট শক্তিশালী সংগঠন রয়েছে লাল ঝাণ্ডার। সিপিএমই ত্রিপুরার বিরোধী দল। মানিক সরকার বিরোধী দলনেতা। পর্যবেক্ষকদের মতে, তৃণমূলকে বার্তা দিতে চেয়েছেন মানিকবাবু।
একথা ভুলে গেলে চলবে না, মানিক সরকার বিধানসভা ভোটের আগে বাংলায় বামেদের হয়ে প্রচারে এসেছিলেন। বর্ধমানের একটি সভা থেকে বলেছিলেন, ত্রিপুরায় গিয়ে দেখে আসুন কী অবস্থা হয়েছে। যে কোনও মানুষকে জিজ্ঞেস করুন কেমন আছেন? তাঁরা একবাক্যে বলবেন সব ধ্বংস করে দিয়েছে। মানিক সরকারের সেই কথা তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও একাধিক জনসভায় বিজেপির মডেলের দৃষ্টান্ত তুলে ধরতে চেয়েছিলেন। দিদি বলতেন, শুনেছেন তো মানিক সরকার কী বলে গিয়েছেন! এবার সেই মানিকবাবুই তৃণমূলের স্ট্র্যাটেজি টিমকে আটকে রাখা নিয়ে সরব হলেন বিপ্লব দেব সরকারের বিরুদ্ধে ।