
শেষ আপডেট: 28 April 2022 17:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বয়সের কারণে তাঁকে বাদ পড়তে হয়েছে রাজ্য কমিটি থেকে। কেন্দ্রীয় কমিটিতেও এখন তিনি আমন্ত্রিত। সেই বর্ষীয়ান সিপিএম (CPM) নেতা বিমান বসু (Biman Basu) বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে সিপিএম দফতরের দোতলার অফিসেই কাটালেন। তিন তলায় হল রাজ্য কমিটির বৈঠক।
এদিন থেকে শুরু হয়েছে সিপিএমের দু’দিনের রাজ্য কমিটির বৈঠক। সকালে মুজফফর আহমেদ ভবনের একেবারে উপরে আবদুল হালিম কক্ষে বৈঠক হয়। নীচে ছিলেন বিমান বসু। রাজ্য কমিটির প্রায় সব নেতাই এদিন বিমানবাবুর সঙ্গে দেখা করেছেন। কারও কারও হাতে লজেন্সও দিয়েছেন বর্ষীয়ান নেতা।
সাতের দশকে সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য হয়েছিলেন তিনি। পার্টিই অফিসই তাঁর বাড়ি। যে ঘরে তিনি থাকেন তার আয়তন দেখলে অনেকেরই চোখ কপালে উঠবে। এতটাই ছোট। বৈভবহীনজীবন কাটিয়ে দিয়েছেন ৩১ নম্বর আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের এই বাড়িতেই। চোখের সামনে দেখেছেন সরকারে আসা, পার্টির বেড়ে ওঠা আবার ভেঙে পড়াও।
সিপিএম বয়সবিধি কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরেই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল বিমান বসুকে রিজার্ভ বেঞ্চে যেতে হবে। তবে কমিউনিস্ট পার্টির জন্য জীবন উৎসর্গ করা এই নেতাটি জানিয়েছেন, যতদিন শারীরিক ক্ষমতা রয়েছে, দল যে কাজ দেবে তিনি সেটাই করবেন। কয়েকদিন আগেই নৈহাটির ঐকতান হলে একটি সেমিনারে বক্তা ছিলেন বিমান বসু।
এখনও তিনি বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান। এবার সেই পদও ছাড়তে হতে পারে তাঁকে। যদিও শরিকদের অনেকের বক্তব্য, সমস্ত কমিটি থেকে বাদ গেলেও ফ্রন্ট চেয়ারম্যান হিসেবে সিপিএম যেন তাঁকেই দায়িত্ব দেয়।
এদিন সিপিএম রাজ্য দফতরের উপরের বৈঠকে বিমান বসুর অনুপস্থিতি টের পেয়েছেন অনেকেই। এক রাজ্য কমিটির সদস্য বলেন, “বিমানদার বসে থাকা, গ্লাস গ্লাস চা উড়িয়ে দেওয়া, একটু সুখ টান্ দেওয়া—আজ মিস করছিলাম।” সেই নেতাটির আরও বক্তব্য, “বিমানদা মানে আমাদের কাছে বনস্পতির সমান। তিনি বৃদ্ধ হলেন, বনস্পতির ছায়া দিলেন, সারাজীবন।”
সিপিএমের সম্পাদকমণ্ডলীতে ইতিহাস, দ্য ওয়ালে লেখা হয়েছিল সাড়ে তিন মাস আগে