
শেষ আপডেট: 17 June 2023 09:59
সম্প্রতি গাড়ি বিতর্কে জড়িয়েছিলেন সিপিএমের তরুণ নেতা শতরূপ ঘোষ। তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ প্রশ্ন তুলেছিলেন, কমিউনিস্ট পার্টির হোলটাইমার ২২ লাখের গাড়ি কেনেন কীভাবে। কেউ যদি দিয়েও থাকেন তাও চড়বেন কেন? তারপর শতরূপ আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে বসে সাংবাদিক বৈঠক করে কাগজপত্র দেখিয়ে জানিয়েছিলেন, তাঁর বাবা গাড়িটি কেনার টাকা দিয়েছেন। সেই সঙ্গে এও বলেন, “আমার বাবা কার নামে গাড়ি কিনে দেবেন তা কুণাল ঘোষের বাবা ঠিক করে দেবেন না”। দুই ঘোষের লড়াই এখন আদালতে পৌঁছেছে।
এরমধ্যেই শুক্রবার একটি খবর হইচই পড়ে যায়। তা হল কেরলের এর্নাকুলামের সিটু নেতা পিকে অনিল কুমারকে সিপিএমের জেলা সম্পাদকমণ্ডলী বহিষ্কার করেছে। কী অভিযোগ? প্রথম সারির বহু সংবাদমাধ্যমে লেখা হয়েছে, এই অনিল কুমার ৫০ লাখ টাকা দামের একটি বিএমডব্লিউ মিনি কুপার গাড়ি কিনেছেন। অতিশয় বৈভবের কারণে তাঁকে তাড়িয়েছে ‘সর্বহারার দল’।
এ কথা চাউর হওয়া মাত্র বাংলার রাজনীতির অনেকেই দুয়ে-দুয়ে চার করেছেন। তাঁরা বিষয়টি শতরূপের গাড়ি কেনার সঙ্গে জুড়তে চেয়েছেন। সেই সঙ্গে কেউকেউ এ প্রশ্নও তুলেছেন, কেরল সিপিএম অনিল কুমারকে তাড়ালে বাংলা সিপিএমে ভিন্ন নিয়ম কেন?
কিন্তু খোঁজ নিয়ে দেখা গেল গাড়ির জন্য নয়। অনিল কুমারকে সিপিএম তাড়িয়েছে চুরি ও দুর্নীতির জন্য।
সিপিএম সূত্রে জানা গিয়েছে, অনিল কুমারের বিরুদ্ধে দলে চারটি তদন্ত কমিশন চলছিল। তারমধ্যে অন্যতম ছিল ঠিকা শ্রমিক নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিপুল তোলাবাজি। অনিল কুমার ছিলেন সিটু অনুমোদিত পেট্রলিয়াম ও গ্যাস ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের কেরল রাজ্য কমিটির সম্পাদক ও সর্বভারতীয় নেতা। সেই সংগঠনেরই পূর্ব ভারতের এক নেতা দ্য ওয়াল-কে বলেন, “অনিল কুমার মাফিয়া হয়ে উঠেছিলেন। পার্টির ঊর্ধ্বে উঠে পয়সার নেশায় ধরাকে সরা জ্ঞান করছিলেন। এটাই হওয়ার ছিল”। ওই নেতাটি এও বলেন, অনিল কুমারের হাভভাব অনেকটা ক্ষমতায় থাকা বাংলা সিপিএমের লক্ষ্মণ শেঠের মতো হয়ে উঠেছিল। যেন জমিদার বা সামন্তপ্রভু।
তবে পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, লক্ষ্মণ শেঠের বহিষ্কার ও অনিল কুমারের বহিষ্কারের মধ্যে মৌলিক ফারাক রয়েছে। সিপিএম যতদিন ক্ষমতায় ছিল ততদিন লক্ষ্মণ ছিলেন পূর্ব ‘মেদিনীপুরের মুখ্যমন্ত্রী’। ক্ষমতা থেকে চলে যাওয়ার পর এই নেতাটি নখদন্তহীন বাঘ হয়ে যাওয়ার পর সিপিএম তাঁকে তাড়িয়েছিল। কিন্তু কেরল সিপিএম অনিলকে তাড়াল ক্ষমতায় থাকা অবস্থাতেই। সেদিক থেকে আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের তুলনায় এর্নাকুলাম কিছুটা সাহসী পদক্ষেপ করেছে বলে মত অনেকের।
এর্নাকুলাম জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকে সিপিএমের কেরল রাজ্য সম্পাদক এমভি গোবিন্দ উপস্থিত ছিলেন। সেখানে তদন্ত কমিশন রিপোর্ট পেশ করে এবং বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়। কেরলের এক মন্ত্রী তথা সিপিএম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য দ্য ওয়াল-কে এদিন জানিয়েছেন, কোচি রিফাইনারিতে কয়েক হাজার ঠিকা শ্রমিক নিয়োগে অবৈধভাবে টাকা তুলেছিলেন অনিল। সেই দুর্নীতির পরিমাণ কয়েকশ কোটি টাকা। ক্ষমতাসীন দলের ট্রেড ইউনিয়ন নেতার স্ট্যাম্প ব্যবহার করে অনিল আরও নানান জায়গায় আর্থিক অনিয়ম করেছিলেন বলেও অভিযোগ ছিল দলে। সিপিএমের মধ্যে এও অভিযোগ ছিল, অনিল কুমার আরব দুনিয়ার বেশ কিছু অসাধু লোকজনের সঙ্গে যুক্ত। যারা মূলত পাচারচক্রের কিংপিন।
তবে কেরলের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস প্রশ্ন তুলেছে, এই অপরাধ ফৌজদারি দণ্ডবিধিতে পড়ে। দল থেকে তাড়ানো কোনও সমাধান নয়। সিপিএমের সরকার কি অনিল কুমারের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করবে?