দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমতার ছাত্র আনিস খানের রহস্য মৃত্যু হয়েছে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা রাজ্য এখন তোলপাড়। আন্দোলিত নবান্ন থেকে জেলা প্রশাসন। অথচ এ ব্যাপারে এখনও পর্যন্ত কোনও রা কাটলেন না রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়।
অনেকের মতে, রাজ্যপালের পছন্দের শব্দ হল ‘বাংলায় আইনের শাসন নেই’। তা ছাড়া একুশের ভোটের আগে ও পরে দেখা গিয়েছে, পুলিশি অত্যাচারের অভিযোগ নিয়ে অহোরাত্র সরব ধনকড়। কিন্তু এখন যখন গোটা রাজ্য জুড়ে আনিসের মৃত্যু নিয়ে তোলপাড় পড়ে গিয়েছে, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, রাজ্যপাল তখন রয়েছেন নেতাজি, শিবাজি বা আবুল কালাম আজাদে। গত পাঁচ দিনে তাঁর টুইটের টাইমলাইন দেখলেই বোঝা যাবে আমতা নিয়ে ভ্রুক্ষেপ নেই রাজ্যপালের।
আরও পড়ুনঃ আনিসের বাবা বললেন, 'সিবিআই চাই, বলে দিন দিদিকে'
রাজ্যপালের এই ভূমিকা নিয়েই এবার প্রশ্ন তুলেছেন বামেরা। সিপিএমের পলিটব্যুরো সদস্য মহম্মদ সেলিম থেকে এসএফআই রাজ্য সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য স্পষ্ট করেই বললেন, বিজেপি-আরএসএস এখন আনিসের ধর্ম পরিচয়কে সামনে এনে খোলাখুলি প্রচারে নেমেছে। তাই রাজ্যপালও হয়তো তাঁর গুরুদের কথা ভেবে মৌন ব্রত রেখেছেন।
আবার প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীর কথায়, হতে পারে রাজ্যপাল তাঁর প্রিয় ছাত্র শুভেন্দু অধিকারীর মতোই আনিসের মধ্যে কেবল এক মুসলিম ছাত্রকে দেখছেন। তার পর ধন্ধে পড়ে গিয়েছেন। পুলিশি অত্যাচারের অভিযোগ, ছেলে হারা মায়ের কান্না, বাবার আর্তি কিছুই নজরে পড়ছে না।
আমতার পুত্রহারা পরিবারের অভিযোগ, তাঁদের ছেলে আনিসকে ছাদ থেকে ঠেলে ফেলা হয়েছিল। পুলিশের পোশাকে এসেছিল কয়েকজন। তারাই এই খুন করেছে। তাৎপর্যপূর্ণ হল, আনিস হত্যার তদন্তে রাজ্য সরকার স্পেশাল ইনভেস্টিগেটিভ টিম তথা সিট গঠন করলেও তার উপর অনাস্থা জানিয়েছে আনিসের পরিবার। তাঁরা সিবিআই তদন্তের দাবি করেছেন।
আরও পড়ুনঃ 'মুখ্যমন্ত্রীর উপর আস্থা রাখুন', আনিসের পরিবারের উদ্দেশে মমতার মন্ত্রী
রাজ্যপালের নীরবতার প্রসঙ্গে সিপিএমের পলিটব্যুরোর সদস্য তথা প্রাক্তন সাংসদ মহম্মদ সেলিম মঙ্গলবার বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী তিন দিন চুপ ছিলেন। রাজ্যপাল পাঁচ দিন চুপ রয়েছেন। রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রাজ্যপাল। একজন ছাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবিদাওয়া নিয়ে আন্দোলন করছিলেন। তিনি খুন হয়ে গেলেন। আর রাজ্যপাল কথা বলছেন না।”
সেলিম আরও বলেন, “মধ্যপ্রদেশে ব্যাপম কেলেঙ্কারিতে এই রাজ্যপালের গুরু শিবিরাজ সিং চৌহানরা ১০০ জনকে খুন করেছিল। তাতে ছাত্র, শিক্ষক, সাংবাদিক—সবাই ছিলেন। আনিসকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটাকে বলে সিস্টেমেটিক এলিমিনেশন।” তাঁর কথায়, “বিজেপি, আরএসএস আনিসের ধর্ম পরিচয়কে সামনে আনছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্যাম্পেইন করছে। আনিস যে একজন ছাত্র ছিলেন, আন্দোলনকারী ছিলেন, সেসব ওদের কাছে বড় কথা নয়। এটা সঙ্ঘ পরিবারের রাজনীতি। রাজ্যপালের বাড়িতে যখন মোদী এসেছিলেন, তখন মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে তোয়াজ করতে গিয়েছিলেন। আর কলকাতা উত্তাল হয়েছিল সিএএ বিরোধী আন্দোলনে। সেই আন্দোলনের মুখ ছিলেন আনিস। তাই রাজ্যপাল চুপ।”
এসএফআই রাজ্য সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য বলেন, “এই রাজ্যের বর্তমান রাজ্যপাল কোনওদিনই একজন বিজেপি কর্মীর ঊর্ধ্বে উঠে কোনও কাজ করতে পারেননি। সিএএ, এনআরসি বিরোধী আন্দোলনের সংগঠক যদি তৃণমূলের হাতে খুন হন তাহলেবিজেপির কাজ কমে যায়। তাই বিজেপির এজেন্ট হিসেবে বাংলার রাজ্যপাল হয়তো রাজভবনে বসে হাততালিই দিচ্ছেন।”
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'