
শেষ আপডেট: 19 November 2022 09:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো, ঝাড়গ্রাম: বাম জমানার শেষের দিকে মাওবাদীদের দাপটে জঙ্গলমহল থেকে প্রায় মুছে গিয়েছিল সিপিএম (CPIM)। ২০১১ এর বিধানসভা নির্বাচনে দেখা যায় একসময়ের বাম গড় পুরোপুরি তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে চলে গেছে। আবার ২০১৯ এর লোকসভা ভোটে সেই জঙ্গলমহলেই আধিপত্য বিস্তার করে বিজেপি। ২১ এর বিধানসভা ভোটে ঝাড়গ্রামের বিনপুর (Binpur), গোপীবল্লভপুরের মতো মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকায় মূল লড়াই দুই ফুলের মধ্যেই মূলত সীমাবদ্ধ ছিল। দাঁত ফোটানো তো দূরের কথা, গত ১১ বছরে এইসব এলাকায় আঁচড়টুকুও কাটতে পারেনি সিপিএম। এবার সেই বিনপুর এলাকাতেই দীর্ঘ একদশক পর দেখা গেল লাল ঝান্ডার দাপুটে মিছিল (rally)।
বিনপুর লাগোয়া গোপীবল্লভপুরের পালোইডাঙায় মাওবাদীরা প্রথম এ রাজ্যে পুলিশের অস্ত্র ছিনতাই করেছিল। এরপর বিনপুর, গোপীবল্লভপুর, শিলদা-সহ গোটা ঝাড়গ্রাম জেলা জুড়ে শুরু হয়েছিল তাদের হত্যার রাজনীতি। এরপরই রাজনৈতিকভাবে এই সমস্ত এলাকা তৃণমূলের দখলে চলে যায়। একের পর এক দলীয় নেতা-কর্মী খুন হতে থাকায় কিছুদিনের মধ্যে সপরিবারে বাড়ি ছেড়ে পালান এখানকার বাকি সিপিএম কর্মী-সমর্থকরা। ফলে ঝাড়গ্রাম জেলার এই প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে সিপিএমের সংগঠন বলতে প্রায় কিছুই অবশিষ্ট ছিল না। ২০১১ এর পর যতগুলি নির্বাচন গিয়েছে এই এলাকায় প্রায় বিনা লড়াইয়ে ওয়াকওভার দিতে দেখা যায় রাজ্যের প্রাক্তন শাসকদলকে।
কিন্তু ২১ এর বিধানসভা ভোটে বিপর্যয়ের পর রণকৌশলেও পরিবর্তন আনে সিপিএম। তাছাড়া এখন আর মাওবাদীদের ভয়ও সেভাবে নেই। এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে বিনপুর-২ ব্লকের শিলদা ও বিনপুর-১ ব্লকের আঁধারিয়া, পালোইডাঙা এবং রামগড় এলাকায় শনিবার সিপিএমের জাঠায় উপচে পড়ল এলাকার মানুষ। গ্রামে গ্রামে ঘুরে সিপিএম রাজ্যের শিক্ষা দুর্নীতি, ১০০দিনের কাজে টাকা না পাওয়া-সহ একাধিক ইস্যুতে প্রচার চালায়। ঢাক-ঢোল নিয়ে মিছিল করে তাঁরা। সেই সঙ্গে পঞ্চায়েত নির্বাচনে লড়াইয়ের বার্তাও দেওয়া হয়।

প্রাক্তন শাসকদলের এই কর্মসূচির সবচেয়ে বড় দিক হল, দীর্ঘ ১১ বছর পর মাও-ভূমিতে সিপিএমের অস্তিত্বের জানান দেওয়া। যদিও সিপিএমের এই মিছিলকে কটাক্ষ করে তৃণমূলের দাবি, যারা বাম থেকে রামে গিয়েছিল তারাই আবার লাল ঝান্ডা নিয়ে বেরিয়ে পড়েছে। পঞ্চায়েত ভোটে এর কোনও প্রভাব পড়বে না।
ব্যস্ত শিয়ালদহ স্টেশন চত্বরে দাউদাউ করে জ্বলছে পুলিশের গাড়ি! ভস্মীভূত দুটো বাইকও