
শেষ আপডেট: 24 June 2023 09:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর ২৪ পরগনা: পার্টি মেম্বার ছিলেন না। তবে বাম সমর্থক। এবং বেশ ডাকাবুকোই। সেই আমলে ‘পদধ্বনি শিবু’ নামেই ছিল তাঁর পরিচিতি। দুর্ঘটনায় কেউ আহত হলে রাতেবিরেতে হাসপাতালে পৌঁছনোর জন্য যেমন ডাক পড়ত, জনান্তিকে শোনা যায় কারও প্রধান কিংবা বিধায়ক হওয়ার পিছনেও নাকি থাকত তাঁর অনবদ্য ভূমিকা। এখন দেওয়াল লেখেন তিনি। বাম-ডান যে কোনও দলের। আগে নির্ধারিত কোনও পেশা ছিল না। এখন দেওয়াল লেখাই পেশা শ্যামনগরের শিবু সরকারের।
এলাকার পুরনো বাসিন্দারা জানান, বাম আমলে ফিডার রোড-সহ বৃহত্তর শ্যামনগরের শিবু সরকারকে এক নামে চিনত সবাই। যদিও শ্যামনগর ২৩ নম্বর রেলগেটের ধারে 'পদধ্বনি ক্লাব' থেকেই শাসন চালাতেন তিনি। তাই পদধ্বনি শিবু নামেই ছিল বেশি পরিচিতি। সেবামূলক কাজের পাশাপাশি লালপার্টির এই ডাকাবুকো সৈনিকের নাকি ডাক পড়ত আরও নানা কাজে। মোটামুটি ভয়-ভক্তিতে উচ্চারিত হত শিবুর নাম।
ক্লাবের মাতব্বর এলাকা চালান, বাম আমলে এমন নজির ছিল জেলায় জেলায়। যেমন হুগলির কোন্নগরে একটা সময়ে ক্লাব থেকে প্রায় এলাকা নিয়ন্ত্রণ করতেন মানস রায়চৌধুরী। সিপিএমের ঘনিষ্ঠ হিসাবেই তাঁর পরিচিতি ছিল। পরে তিনি খুন হয়ে গিয়েছিলেন। কোন্নগর বাটার কাছে তাঁর একটি মর্মর মূর্তিও রয়েছে।
শ্যামনগর কাউগাছি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের টালিখোলার বাসিন্দা শিবু সরকারের জীবনটা আস্তে আস্তে বদলে যায় রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই। গুরুত্ব কমতে কমতে এখন প্রায় শূন্য। তাই জীবিকার প্রশ্নটা বড় হয়ে সামনে আসে। আগে দেওয়াল লিখতেন সখে। কখনও সখনও। এখন নিয়মিতই দেওয়াল লেখেন। ভোটের সময় তাই কাজ থাকে হাতে। কিছু পয়সাও আসে ঘরে। ডান-বাম বিচার করেন না। যে ডাকে তাঁর হয়েই দেওয়াল লিখে দেন।
শিবুর কথায়, “দলকে শ্রম দিয়েছি। কিছু পাইনি। তবে এটাও ঠিক যে আমার কোনও আক্ষেপও নেই। কারণ দলের থেকে কিছুই চাইনি আমি। এখন আমি মানুষের সঙ্গে থাকি। মানুষের পাশে থেকে কাজ করার চেষ্টা করি। সমাজসেবার আরেক নাম শিবু সরকার।”
ভোটের সময় দেওয়াল লিখছেন। সব দলই তাঁকে দেওয়াল লিখতে ডাকে। অন্যসময় প্যান্ডেলের কাজ করেন। এভাবেই সংসারটা চালু রাখছেন শিবু। আসলে একসময়ের 'হার্মাদ' উপাধি প্রাপ্ত শিবু সরকারের জীবনটা যে এখন একেবারে অন্যখাতে বইছে।
বিরোধী জোট: ‘গণশক্তি’র ফ্রেমে নেই মমতা, ‘জাগোবাংলা’র ছবিতে বাদ রাহুল-সীতারাম