
শেষ আপডেট: 20 August 2022 13:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গরু পাচার মামলায় (Cow Smuggling) সিবিআইয়ের তৎপরতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই গরু ব্যবসায় মন্দা। রাজ্যের বিভিন্ন গরু হাটের (Cow Haat) ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত পড়েছে। গরুর আমদানি থেকে কেনাবেচা সবেতেই যেন সিবিআই 'জুজু'। তবে বাস্তবে শুধু গরু ব্যবসা নয়, এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যবসাগুলোতেও মন্দা দেখা দিয়েছে।
পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ার কেতুগ্রাম থানা এলাকার পাচুন্দির পশুহাট (Pachundi Haat) হল সবচেয়ে বড় ও পুরনো হাট। শুধু বাংলা নয়, রাজ্যের বাইরে থেকেও ব্যবসায়ীরা পশু নিয়ে ভিড় জমাতেন এই হাটে। আর এই হাটকে ঘিরেই জমিয়ে বসেছিল অন্যান্য ব্যবসা। যেমন হোটেল থেকে সবজি বাজার, গরুর দড়ি থেকে শুরু করে ঘণ্টা-লাঠি-লুঙ্গি-গামছার পসার, সবেতেই যেন কালো ছায়া।
বহু পুরনো এই হাট সেদিনও পর্যন্ত ছিল জমজমাট। লোকে লোকারণ্য হাটে তিন ধারণের জায়গা থাকত না। দোকানি থেকে খদ্দের সকলের চিৎকারে কান ঝালাপা হওয়ার জোগাড় থাকত। সেই হাট এখন বলতে গেলে নিশ্চুপ। কয়েকজন ব্যবসায়ী ও খদ্দেরের দেখা মেলে। চলে কমবেশি কেনাবেচা।
এমন অবস্থা হওয়ায় মন্দা হাল এই হাটকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা অন্যান্য ব্যবসার। হাটকে কেন্দ্র করেই আছে সবজি বাজার, ছিল গামছা-লুঙ্গি ইত্যাদির পসার। এছাড়াও গরুর গলার ঘণ্টা, দড়ি প্রভৃতি সরঞ্জামের দোকান। থরে থরে সাজানো দোকানগুলোতে এখন খদ্দের জোটে হাতে গোনা কয়েকজন।
বাংলায় কমছে গরুর দাম, আগে কত ছিল এখন কত যাচ্ছে
এই হাট থেকেই একসময় দিনে কোটি টাকার ব্যবসা হত। শুধু এপার বাংলা নয়, ওপার বাংলা থেকেও ব্যবসায়ীরা ছুটে আসতেন এই হাটে। কিন্তু সিবিআই ও পুলিশ তৎপর হওয়ায় ব্যবসায়ীরা সহজে এই হাটের দিকে পা বাড়াচ্ছেন না। ব্যবসায়ীদের কথায়, একদিকে সিবিআই (CBI Probe) অন্যদিকে রাস্তায় পুলিশের জুলুমের ভয়ে রাজ্য তো বটেই ভিন রাজ্য থেকে গরু নিয়ে আসা যাওয়া প্রায় বন্ধ হতে চলেছে।
পাচুন্দি হাটের আশেপাশের হোটেলের ব্যবসাদাররা জানান, এই গরুর হাটকে কেন্দ্র করেই তাঁদের ব্যবসা চলে। বর্তমানে সিবিআই কাণ্ডের জেরে গরুর হাটে ক্রেতা বিক্রেতা আসা কমে যাওয়ায় হোটেলের ব্যবসায় ভাটা পড়েছে। মূলত গরু পাচার কাণ্ডে সিবিআইয়ের নজরদারি বেড়ে যাওয়ায় যেমন প্রভাব পড়েছে গরু ব্যবসায়, তেমনই ধুঁকছে হাটকে ঘিরে গড়ে ওঠা অন্যান্য ব্যবসাগুলিও।