
শেষ আপডেট: 5 January 2023 13:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এতদিন ছবিটা কী ছিল? যে কোনও কিছুর তদন্ত আর্জির মামলায় বিরোধীরা সিবিআই বা ইডি-কে চায়। আর রাজ্য সরকার তার বিরোধিতা করে। বৃহস্পতিবার ঠিক উল্টো ছবি দেখা গেল কলকাতা হাইকোর্টে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাসে (Courtroom Drama)। যেখানে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সিবিআই তদন্তের আর্জি জানালেন আইনজীবী ভাস্করপ্রসাদ বৈশ্য।
এদিন ববিতা সরকারের বিরুদ্ধে দায়ের করা অনামিকা রায়ের (Anamika Roy Signature) মামলার শুনানিতে টানটান নাটক চলল এজলাসে। সই নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হল তাতে যে কোনও থ্রিলার সিনেমাকেও হার মানিয়ে দেবে এই শুনানি।
ব্যাপার কী?
আদালতের নির্দেশে প্রাক্তন মন্ত্রী পরেশ অধিকারীর মেয়ে অঙ্কিতা অধিকারীর জায়গায় চাকরি পেয়েছিলেন শিলিগুড়ির ববিতা সরকার। তারপর কিছুদিন আগে শিলিগুড়িরই অনামিকা রায় নামের এক চাকরিপ্রার্থী দাবি করেন, তিনি আসলে যোগ্য। তাঁকে টপকে অবৈধভাবে চাকরি পেয়েছেন ববিতা।
এই নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন অনামিকা। তিনটি পিটিশন করেন তিনি। ববিতা-সহ আরও অনেকে এসএলএসটি সংক্রান্ত একটি পিটিশন দাখিল করেছিলেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাসে। কিন্তু ঘটনা হল, এদিন সশরীরে আদালতে দাঁড়িয়ে অনামিকা দাবি করেন, তিনটি পিটিশনের ওকালতনামায় তাঁর যে সই রয়েছে সেগুলি ঠিক। কিন্তু এসএলএসটি সংক্রান্ত পৃথক মামলাটির ওকালতনামায় অনামিকা রায়ের সইটি তাঁর নয়।
মোদ্দা কথা বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের সামনে অনামিকা দাবি করেন, তাঁর সই জাল করা হয়েছে। এরপরেই নাটক অন্যদিকে মোড় নেয়। বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় অনামিকার দিকে একটি সাদা কাগজ বাড়িয়ে দেন। তাতে সই করেন অনামিকা। পরপর বেশ কয়েকটি সই।
এই সময়েই রাজ্যের তরফে বলা হয়, সই জালিয়াতি হয়েছে কিনা, ওই সই অনামিকা রায়ের কিনা তা খতিয়ে তার তদন্তভার সিবিআইকে দেওয়া হোক। এব্যাপারে কোনও নির্দেশ দেননি বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। তবে রাজ্য সরকারের স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে সিবিআই চাওয়াকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকে।
দিনকয়েক ধরেই ববিতার চাকরির ‘বৈধতা’ নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। অভিযোগ, অ্যাকাডেমিক স্কোরে ববিতাকে ২ নম্বর বেশি দিয়েছে এসএসসি। তাই বেশ কয়েকজন যোগ্য চাকরিপ্রার্থীকে টপকে তিনি নিয়োগপত্র পেয়েছেন। অনামিকার দাবি, তা না হলে তিনিই ওই জায়গায় চাকরি পেতে পারতেন।
এই মামলার শুনানি শেষে ববিতাকে আদালত নির্দেশ দিয়েছে, তিনি অঙ্কিতা অধিকারীর থেকে যে টাকা পেয়েছিলেন তা আলাদা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট করে সরিয়ে রাখতে হবে। তার মধ্যে সই বিতর্ক অন্য দিকে মোড় নিল।
ববিতা বড় অস্বস্তিতে! পরেশের মেয়ের থেকে পাওয়া টাকা জমা দেওয়ার নির্দেশ