
শেষ আপডেট: 14 April 2023 08:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ধৃত কুন্তল ঘোষের চিঠি সংক্রান্ত মামলায় বৃহস্পতিবার কড়া পর্যবেক্ষণ শুনিয়েছিলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। ইডি-সিবিআইয়ের উদ্দেশে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় বলেছিলেন, এই ঘটনায় দরকারে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত। তারপর কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছে তৃণমূল। শুক্রবার সেই প্রেক্ষাপটেই তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করলেন বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় (Speaker Biman Banerjee)। তাঁর স্পষ্ট কথা, প্রতিটি ক্ষেত্রের কাজ আলাদা আলাদা। ত্রুটিবিচ্যুতি হলে নিশ্চয়ই আদালাত দেখবে। কিন্তু আদালত যেন নিজেকে সুপ্রিম না মনে করে।
বিআর আম্বেদকরের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বিধানসভায় গিয়েছিলেন স্পিকার। সেখানেই সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিমানবাবু বলেন, ‘হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্টের অতিরিক্ত ক্ষমতা রয়েছে। তারা সেই ক্ষমতার অনুশীলনও করতে পারে। কিন্তু দেখতে হবে মানুষের কাছে যাতে ভুল বার্তা না যায়। মানুষের যাতে মনে না হয় আদালত একটা পক্ষ নিয়ে চলছে।’
বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের পর্যবেক্ষণকে সরাসরি সিপিএম, বিজেপি, কংগ্রেসের হয়ে কথা বলা বলে তোপ দেগেছেন কুণাল ঘোষ। এদিন বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় কোনও বিচারপতির নাম করেননি। তবে অনেকের মতে, ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিতে চেয়েছেন তাঁর নিশানা কোন দিকে।
এখানেই থামেননি বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধানসভার স্পিকার বলেন, ‘আজকে আদালত বলছে ওমুককে ডেকে পাঠানো উচিত। কালকে বলতে পারে বিধানসভার অধ্যক্ষকে ডেকে পাঠানো উচিত। বলতেই পারে। কিন্তু তা বাঞ্ছনীয় হবে না।’
বিধানসভার স্পিকারের কথায়, প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা—প্রত্যেকের কাজের ক্ষেত্র আলাদা। কিন্তু ইদানীং সংবাদমাধ্যম খুললেই দেখা যাচ্ছে আদালতের হস্তক্ষেপ চলছে। এর ফলে প্রশাসন মুক্তভাবে কাজ করতে পারছে না। তাঁর কথায়, ‘আদালত যদি নিজেকে সুপ্রিম মনে করে তাহলে তা গণতন্ত্রের জন্য ভাল হবে না।’
তবে বিমানবাবু এও জানিয়েছেন, তাঁর এবং তাঁদের আদালতের উপর আস্থা রয়েছে। মানুষের শেষ ভরসার স্থল আদালতই—এ ব্যাপারে কোনও সন্দেহ নেই। কিন্তু আদালতকেও তার এক্তিয়ারের বিষয় স্মরণ করিয়ে দিতে চেয়েছেন বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়।
বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় বিজেপি-সিপিএমের হয়ে কথা বলছেন, ওঁর টার্গেট অভিষেক: কুণাল ঘোষ