
শেষ আপডেট: 16 October 2023 21:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: দীর্ঘ চার মাস বেপাত্তা থাকার পর সোমবার সকাল সকাল করেন আত্মসমর্পণ। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে পৌঁছে যান জলপাইগুড়ি জেলা আদালতে। কিন্তু তাতেও হল না শেষরক্ষা। সোমবার জলপাইগুড়ি পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান সৈকত চ্যাটার্জীকে ২ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিল আদালত।
চলতি বছরের পয়লা এপ্রিল অস্বাভাবিক মৃত্যু হয় জলপাইগুড়ি পান্ডাপাড়ার বাসিন্দা অপর্ণা ভট্টাচার্য ও তাঁর স্বামী সুবোধ ভট্টাচার্যের। এই দম্পতি ডাবগ্রাম ফুলবাড়ি বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায়ের ভাই ও ভাইয়ের বউ। আর এই ঘটনায় একাধিক অভিযুক্ত গ্রেফতার হলেও পলাতক ছিলেন সৈকত চট্টোপাধ্যায়।
সোমবার সৈকত জেলা জজের কাছে আবেদন করেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তিনি উপস্থিত হয়েছেন এবং তদন্তে সহযোগিতা করবেন। তাই তিনি রক্ষাকবচ চান। কিন্তু জেলা জজ অরুণ কুমার বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর আবেদন খারিজ করে দেন। বিচারক জানান, এই মামলা শোনার এক্তিয়ার তাঁর নেই। সিজেএম আদালতেই তাঁকে আত্মসমর্পণ করতে হবে। এরপরেও বারবার আবেদন শোনার জন্য আর্জি জানাতে থাকেন সৈকত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই আর্জি মঞ্জুর হয়নি। সিজেএম আদালতেই সৈকতের নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল। সোমবার সংশ্লিষ্ট মামলার শুনানিতে সৈকতকে দুই দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয় আদালত।
এদিকে ওই পুলিশ হেফজতকে "রাজনৈতিক চক্রান্ত" বলে মন্তব্য করেছেন সৈকত। আদালত কক্ষ থেকে বেরিয়ে এদিন তিনি বলেন, "এই মুহূর্তে আমি পুলিশি হেফাজতে। যা বলার আমার আইনজীবী বলবে। আইনি লড়াই চলবে। চক্রান্তের শিকার হয়েছি আমি।" অন্যদিকে, এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বিজেপির জেলা সভাপতি বাপী গোস্বামী বলেন, "বিজেপির কোনও কর্মকর্তা বিচারপতির আসনে বসেনি। তাই আদালত সব কিছু বিচার করেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমাদের আইনের প্রতি ভরসা রয়েছে।"
প্রসঙ্গত, গত কয়েক মাস ধরে নানা ঘটনাপ্রবাহে এই মামলার জল কলকাতা হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। সেখানেও খারিজ হয়ে যায় সৈকতের আগাম জামিনের আবেদন। এদিকে পুলিশও সমান্তরালভাবে ঘটনার তদন্ত চালাতে থাকে। একাধিকবার বাড়িতে হানা দিয়েও সৈকতের খোঁজ পায়নি পুলিশ। এরপর তার নামে হুলিয়া জারি করার অনুমতি চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল পুলিশ। এদিকে হাইকোর্টের সার্কিট বেঞ্চে ধাক্কা খেয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন সৈকত। সুপ্রিম কোর্টেও আগাম জামিনের আবেদন নাকচ হওয়ার পর আদালতে আত্মসমর্পণ ছাড়া তাঁর অন্য কোনও উপায় ছিল না। ২৬ তারিখের মধ্যে জলপাইগুড়ি জেলা আদালতের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে তাঁকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট।