দ্য ওয়াল ব্যুরো: কুয়েতে চাকরি করতে গিয়ে চরম সমস্যায় বাঙালি দম্পতি। আসানসোলের মহিশীলার বাসিন্দা দম্পতি সূর্যসারথি বাগ ও মহাশ্বেতা বাগ বর্তমানে কুয়েতে অসহায় অবস্থায় রয়েছেন বলে তাঁর পরিবারের তরফে দাবি হয়েছে।
সূর্যসারথি ও মহাশ্বেতা বাগ দু’জনেই হোটেল ম্যানেজমেন্ট পাশ করেছেন। বছর চারেক আগেও তাঁরা চাকরি করতেন কুয়েতে। সম্প্রতি চাকরি পেয়ে তাঁরা ফের সেদেশে যান তবে অন্য একটি হোটেলে। সেখানে কাজের পরিবেশ তাঁদের পছন্দ হচ্ছিল না এমনকি নিরাপত্তার অভাবও তাঁরা বোধ করতে শুরু করেন।
কাজের জায়গায় নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন বলে তিনি ওই কোম্পানিকে তাঁরা জানিয়ে দেন। একই সঙ্গে জানান যে তাঁরা চাকরি ছাড়তে চান। অভিযোগ, এরপরেই ওই দম্পতির পাসপোর্ট আটকে দেয় ওই সংস্থা, কেড়ে নেওয়া হয় তাঁদের থাকার জায়গা।
এই অবস্থায় তাঁরা সেখানে পরিচিত ভারতীয়দের সঙ্গে ওই দম্পতি যোগাযোগ করেন, কিন্তু তাতে কোনও লাভ হয়নি। তখন কার্যত পথে বসেন ওই দম্পতি। সমস্যার কথা তাঁরা বাড়িতে ফোন করে জানান।
সূর্যসারথির পরিবারের অভিযোগ, সমস্যার কথা জানিয়ে ভারতীয় দূতাবাসে যোগাযোগ করলেও তেমন ফল মেলেনি। তখন তাঁরা যোগাযোগ করেন স্থানীয় সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়র সঙ্গে।
পরিবারের লোকজন জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় তাঁদের সমস্যার কথা শুনেই পদক্ষেপ করেন। তিনি যোগাযোগ করেন কুয়েতে ভারতীয় দূতাবাসে। ওই দম্পতির সমস্যার কথা সবিস্তার জানান। পরে তিনি বাগ পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে বলেন, কুয়েতে আটকে পড়া দম্পতি যেন ভারতীয় দূতাবাসে যোগাযোগ করেন।
ওই দম্পতি ভারতীয় দূতাবাসে যোগাযোগ করলে তাঁদের বলা হয়, আজ ও কাল শনি ও রবিবার হওয়ার দূতাবাসের অধিকাংশ কর্মীরই ছুটি। এই দু’দিন কিছু করা মুশকিল। তবে তাঁরা দু’-এক দিনের মধ্যেই সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।
এজেন্সির মাধ্যমে মধ্যএশিয়ার কোনও দেশে চাকরি করতে গেলে পাসপোর্ট জমা রাখতে হয় এজেন্সির কাছে, এটা অলিখিত নিয়মে পরিণত হয়েছে। অভিযোগ তেমনই। যে কাজের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিদেশে নিয়ে যাওয়া হয়েছে তার বদলে অন্য কাজ করিয়ে নেওয়া হলেও তাদের কিছু করার থাকে না। এক্ষেত্রে তেমন হয়নি তবে যে সংস্থায় তাঁরা চাকরি করতে গিয়েছিলেন সেই সংস্থা তাঁদের পাসপোর্ট ও ভিসা আটকে রেখেছিল। তাই বাসস্থান পর্যন্ত কেড়ে নেওয়া হলেও তাঁরা দেশে ফিরতে পারছিলেন না। এখন দূতাবাসের আশ্বাস পেয়ে তাঁরা কিছুটা স্বস্তিতে।