
শেষ আপডেট: 7 June 2023 04:35

গত শতাব্দীর পাঁচের দশক থেকে নয়ের দশক পর্যন্ত অর্থাৎ প্রায় ৪০ বছরের সময়কাল ধরে ভারতীয় পর্বতারোহণে রাজত্ব করত বঙ্গীয় পর্বতারোহণ। ১৯৬০ সালে দেশের প্রথম বেসরকারি ও অসামরিক সফল পর্বত অভিযানের আয়োজন করেন বাঙালিরাই। ১৯৭৯ সালে করেন একক প্রচেষ্টায় অভিযান। ১৯৮১ সালে শেরপা-গাইড প্রমুখদের সাহায্য ছাড়াই, প্রথাগত আরোহণকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সম্পূর্ণভাবে অভিযাত্রীদের নিজস্ব ক্ষমতায় অ্যালপাইন স্টাইলে হিমালয়ের একাধিক শৃঙ্গে দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী অভিযানের অগ্রদূত সেই বাঙালিরাই।

আটের ও নয়ের দশকে একাধিক চ্যালেঞ্জিং অভিযান হয়েছে, সরাসরি ফেস রুট ধরে। যেমন ১৯৮৭ সাল সাউথ-ওয়েস্ট ফেস ধরে হনুমান টিব্বা, এমনকি ১৯৯১ সালে নর্থ ফেস অর্থাৎ দুর্গম ও দুরূহ গ্রেট কুলুয়ার ধরে এভারেস্ট ইত্যাদি। এই বঙ্গীয় উদ্যোগগুলি সে সময়ে কেবল অভিযান ছিল না, এগুলি পর্বতারোহণের দর্শনকেও পুষ্টি জোগাত। অভিযাত্রী মননে সম্পৃক্ত অন্য রাজ্যগুলি যেমন মহারাষ্ট্র, গুজরাট, অসম, রাজস্থান ইত্যাদি-- তারা এই সমস্ত অভিযান থেকে শিক্ষা নিত ও উৎসাহ পেত।
যদিও পর্বতারোহণের প্রথাগত শিক্ষা পাওয়ার জন্য দার্জিলিং-এর হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইনস্টিটিউট (এইচএমআই) ছাড়াও উত্তরকাশীর নেহেরু ইনস্টিটিউট অফ মাউন্টেনিয়ারিং (নিম) বা হিমাচলপ্রদেশের ওয়েস্টার্ন হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইনস্টিটিউট (ডব্লিউএইচএমআই) যেতে হতো শিক্ষানবিশ পর্বতারোহীদের। তা সত্ত্বেও, ভারতীয় পর্বতারোহণে পশ্চিমবঙ্গের যে অবদান ছিল, তা আর কোনও রাজ্যেরই ছিল না। বাঙালি মননের উদ্দীপনা ও লড়াকু মনোভাব ছিল এর কারণ। মহিলারাও পিছিয়ে ছিলেন না। এরই ফলস্বরূপ বাংলার মুকুটে নিত্যনতুন শৃঙ্গারোহণের পালক জুড়তে শুরু করেছিল। ছয়ের দশকে ১৩টি, সাতের দশকে ২৫টি ও আটের দশকে ৪৮টি শৃঙ্গ আরোহণ করেন বাঙালি পর্বতারোহীরা। অর্থাৎ উত্থানের গ্রাফ ছিল চড়া।

তবে নয়ের দশকে এই সংখ্যা কমতে শুরু করে। সে সময়ে ২২টি শৃঙ্গ আরোহণ হয় বাংলার। এর পরে নতুন সহস্রাব্দের প্রথম দশকে এই সংখ্যা দাঁড়ায় ১৮-তে। এক্ষেত্রে আমি কেবল নতুন শৃঙ্গারোহণ প্রাপ্তির কথা বলছি। সংগঠিত হয়েছে আরও একাধিক অভিযান। এক শৃঙ্গে বহুবার অভিযানও হয়েছে। যেমন কামেট শৃঙ্গেই বাংলা থেকে ২৫টি অভিযান হয়েছে। বলা যায়, হিমালয়ে বাঙালির পদচারণার ইতিহাস অনেক প্রাচীন, বিস্তৃত এবং তা উৎকর্ষের দাবি রাখে।
পর্বতারোহণ ক্ষেত্রে রক ক্লাইম্বিং কোর্সও শুরু হয় বাংলা থেকেই। সাধারণ তরুণ-তরুণীকে নির্ভীক, যুক্তিবাদী আরোহী করে তোলা, প্রত্যয়, আত্মবিশ্বাস ও কৌতূহলের পাঠ পড়ানো ছিল এই কোর্সগুলির অনুশীলন। বাংলা ছাড়াও বম্বেরএকটি সংগঠনও সমসাময়িক কালে একই উদ্যোগে ব্রতী হয়েছিল বলে শোনা যায়। এডমন্ড হিলারির ভাষায়, 'ইটস নট দ্য মাউন্টেন উই কংকার্ড, বাট আওয়ারসেল্ভস!'-- সেই শিক্ষাই দেওয়া হতো কোর্সগুলিতে।
১৯৫৩ সালের ২৯ মে যেদিন এডমন্ড হিলারি এবং তেনজিং নোরগে যখন প্রথম বিশ্বের উচ্চতম শৃঙ্গ এভারেস্টে পা রাখেন, তখন সারা বিশ্বের মানুষের চিন্তাশক্তির মাত্রা একধাক্কায় অনেকগুণ বেড়ে গেছিল। তেমনই ১৯৮৪ সালে যখন ভারতের বাচেন্দ্রী পাল বিশ্বের পঞ্চম মহিলা হিসেবে এভারেস্ট আরোহণ করলেন, ভারতীয় সমাজেও তার জোয়ার এসে ছুঁয়েছিল। নারীশক্তিরও জাগরণ হয়েছিল। এভাবেই একজন অভিযাত্রী তথা তাঁর আরোহণ সমাজকেও এগিয়ে যেতে সাহায্য করে। তিনি সমাজকর্মী হয়ে ওঠেন।

এই কারণেই বলা হয়ে থাকে অ্যাডভেঞ্চার একটি জাতির মেরুদণ্ড গঠন করে। বলা হয়, পর্বতারোহণ খেলার রাজা। কেউ বা বলেন, পর্বতারোহণ আসলে জীবনের এক দর্শন। একজন অভিযাত্রীর মননই তাঁকে আর পাঁচ জন সাধারণ মানুষের থেকে আলাদা করে তোলে, তিনি সকলের সম্ভ্রম ও সম্মান আদায় করে নেন। এই মননই পারে সমাজকে সুন্দর অভিযান উপহার দিতে, যা মানুষের মনের উৎকর্ষ বৃদ্ধির সহায়ক হয়। আপন ক্ষমতার নতুন দিগন্ত খুলে দেয়।
তবে ধারণা ও আদর্শের বদল পৃথিবীর সব ক্ষেত্রেই যুগে যুগে কালে কালে হয়ে এসেছে। পর্বতারোহণেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তথাকথিত অর্থনৈতিক বিশ্বায়নের প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে ১৯৯২ সালে আমেরিকার পর্বতারোহী তথা পর্যটন ব্যবসায়ী স্কট ফিসার এবং নিউজিল্যান্ডের রব হল মাউন্ট এভারেস্টের প্রতি সাধারণ আরোহীদের অতিরিক্ত মোহ বা 'ক্রেজ'কে ব্যবসায়িক রূপ দিলেন। নেপাল সরকারও তার তাৎপর্য বুঝে, প্রচুর ডলার উপার্জনের অভিপ্রায়ে পর্বতারোহণের আদর্শগত নীতি চুলোয় দিয়ে, কোনও পর্বতারোহণের যে সব নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে, তার আগল খুলে দিল। যেমন একটি আরোহণ রুটে একটি দলের বেশি উপস্থিত থাকতে পারবে না-- এসব নিয়ম শিকেয় তুলে প্রবেশ অবাধ করে দিল।
১৯৯৬ সালে রব ও স্কটের সেই এভারেস্টেই মৃত্যুর পরে সংশ্লিষ্ট শেরপারা অস্বাভাবিক লাভজনক ব্যবসাটির মর্ম অনুধাবন করে তার এতটাই বিস্তৃতি ঘটালেন যে আজ, এভারেস্ট-সহ নেপালের সমস্ত আট-হাজারি শৃঙ্গ ও অনেক ছোট শৃঙ্গকেও সিন্ডিকেটের আওতাভুক্ত করে 'ফেলো কড়ি মাখো তেল' প্রকল্প চলছে রমরম করে। শুরু হয়েছে 'মাউন্টেন ট্যুরিজম'। এর ফলে বিশ্বের যে কোনও মানুষ, আরোহণের অভিজ্ঞতা না থাকলেও, এমনকী শারীরিক ভাবে সক্ষম না হলেও, ইতিপূর্বে কখনও আইস অ্যাক্স বা রোপের মতো ক্লাইম্বিং ইকুইপমেন্ট কোনওদিন ব্যবহার না করলেও রওনা দিতে পারেন অভিযানে। চায় কেবল পকেটের রেস্ত।
এই ব্যবস্থার ফলে প্রচুর সংখ্যক আরোহী, যাঁরা আদতে ট্যুরিস্ট, তাঁরা নেপালের এই আরোহণ ব্যবসার ক্লায়েন্ট হয়ে উঠলেন। পয়সার বিনিময়ে রাতারাতি এভারেস্ট ক্লাইম্ব করে সাধারণ মানুষের চোখে হিরো বা হিরোইন হয়ে ওঠার সংখ্যা বাড়তে লাগল। এক্ষেত্রে পর্বতারোহণের সাধারণ তত্ত্ব বা অবশ্যপ্রয়োজনীয় জ্ঞান কোনও পক্ষের কাছেই আর জরুরি রইল না।
তবু প্রশ্ন একটা থেকেই গেল। এঁরা কি 'পর্বতারোহী'? তাহলে তো স্পেস ট্যুরিজমের কল্যাণে আমাদের পাড়ার পয়সাওয়ালা হিরুবাবুও মহাকাশে যেতে পারেন যে কোনও দিন। এভাবে পয়সার বিনিময়ে, পোশাক-আশাক পরে মহাকাশযানে চড়ে স্পেসে পৌঁছলেই কি তিনি নভোশ্চর হয়ে যাবেন?

এবার এভারেস্টের দিকে নজর দেওয়া যাক। পাঁচের দশক থেকে শুরু করে আটের দশকের শেষ পর্যন্ত বছর চল্লিশ সময়ে, পর্বতারোহণের আদর্শে দীক্ষিত আরোহীদের এভারেস্ট আরোহণের সংখ্যা মোট ২৮৫। কেবল নয়ের দশকে সেই সংখ্যা একলাফে বেড়ে হয় ৮৮৩। এর পরে ২০০০ থেকে ২০২১ সালের (মাঝে ২০১৪, ১৫ ও ২০ সালে বন্ধ ছিল অভিযান) সময়কালে এভারেস্টে আরোহণ সংখ্যা ৯০১৭! অর্থাৎ, ২০২১ পর্যন্ত মোট আরোহণ সংখ্যা ১০ হাজার ১৮৫।
এখানে মনে করিয়ে দেওয়া দরকার, এভারেস্টে এপর্যন্ত আরোহণ হয়েছে মোট ১৮টি রুটে। তার মধ্যে এভারেস্টের সাউথ-ইস্ট (সাউথ কল) এবং নর্থ-ইস্ট (নর্থ কল) রিজেই এই ট্যুরিজম মূলত থাবা বসিয়েছে। বাকি ১৬টি রুটে সফল আরোহণ হয়েছে মাত্র ২৭০ বার। যা কিনা দু'টি ট্যুরিস্ট রুটের আরোহণের সংখ্যার (১০ হাজার ১৮৫) তুলনায় নগণ্য। ফলে সহজেই বোঝা যায়, বাকি আরোহণগুলি কতটা ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও অভিযান-মনস্কতা থেকে দূরে। অভিযাত্রার উৎকর্ষ কোনও ভাবেই প্রতিফলিত নয় সেগুলিতে। বিশ্বাস করতে অসুবিধা হয়, ২০১৯ সালের ২৩ মে এভারেস্টের সাউথ কল রুটে একদিনে ৩৫৪ জন এভারেস্ট আরোহণ করেন। এত ভিড় তো পপুলার ট্যুরিস্ট স্পটেও চট করে দেখা যায় না!

এবার প্রশ্ন ওঠে, এই অধঃপতনের সময়ে আমাদের বঙ্গীয় পর্বতারোহণের চালচিত্র ঠিক কী রকম? সঙ্ঘবদ্ধ বা দলগত অভিযানের সংখ্যা কমেছে রাজ্য থেকে। বেড়েছে বিচ্ছিন্ন প্রচেষ্টায়, বা স্পনসরশিপের বদান্যতায়, পয়সার বিনিময়ে একক আরোহণ তথা মাউন্টেন ট্যুরে সামিল হওয়া মানুষের সংখ্যা। সংবাদমাধ্যমের ও সোশ্যাল মিডিয়ার অজ্ঞানতায় সেগুলি বিরাট বড় করে প্রচার পায়। আটের দশকে যেখানে বাংলায় মোট পর্বতাভিযাত্রী ক্লাবের সংখ্যা ছিল ২৩০, আজ তা কমতে কমতে ৬০-এরও নীচে নেমেছে। তার মধ্যেও বেশ কিছু ক্লাব সক্রিয় নয়। অভিযান-মনস্কতা আজ সার্বিকভাবে আক্রান্ত।
অভিযান ও পর্যটনের মধ্যে প্রাথমিক কিছু ফারাক রয়েছে। যেমন:
১. অভিযাত্রিক মনন হল দর্শনপুষ্ট ও নিয়মনিষ্ঠ। অন্য দিকে ট্যুরিস্ট মনন একেবারে বিপরীত। অনায়াসে খ্যাতির শিখরে চড়ার এক উদগ্র বাসনা তাড়িয়ে বেড়ায় তাকে।
২. নিজের বহু কষ্টে অর্জিত অভিজ্ঞতা অভিযাত্রী মননের প্রধান সম্পদ। তা দিয়ে বিপদের মোকাবিলা করতে পারেন এক অভিযাত্রী। ট্যুরিস্টদের সে দায় থাকে না। তার উদ্দেশ্যই হল পয়সার বিনিময়ে যে কোনও বিপদকে পরিকাঠামো ও প্রযুক্তির মাধ্যমে জয় করা। পাহাড়ে যা প্রায়ই ব্যর্থ হয়।
৩. যদিও ট্যুরিস্টরাও আজকাল আরোহণ করতেই পাহাড়ে যান এবং সাধারণ মানুষকে ধন্দে ফেলেন। পরিকাঠামোর পূর্ণ সহায়তায়, কেবল আগে থেকে লাগানো দড়ি বেয়ে জুমার করে, শেরপাদের পায়ে পায়ে সিঁড়ির মতো কাটা বরফে পা রেখে, সমস্ত মালপত্র অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে, এমনকি প্রয়োজনে অন্যের ঘাড়ে চেপেও, অক্সিজেন নাকে লাগিয়ে শ্বাস নিতে নিতে চলে যান শৃঙ্গে, যাকে কিনা অভিযান বলা যায় না।
বাস্তবে এ সবই ঘটছে এবং এ সবই 'ফেলো কড়ি মাখো তেল' প্রকল্পের অন্তর্গত। এখানেই শেষ নয়। পর্বতারোহণ আয়োজক সংস্থাগুলির নিজেদের বিজ্ঞাপনী প্রচারের তাড়নাও থাকে, যাতে করে যত বেশি সংখ্যক আরোহী, থুড়ি, ট্যুরিস্টকে যাতে শৃঙ্গে পৌঁছে দেওয়া যায়। 'আমরা এতদিনে আমাদের হাজার জন ক্লায়েন্টের মধ্যে ৯৯০ জনকেই ক্লাইম্ব করিয়েছি'-- এটা তাদের অন্যতম আপ্তবাক্য এবং আত্মপ্রচার। ফলে এসব সিন্ডিকেটের কল্যাণে আরোহণের সার্টিফিকেট পেতেও সমস্যা হয় না। যার ফলে 'ফেক ক্লাইম্ব'ও বাড়ছে। সে বিস্তারিত পরিসংখ্যানে আমি যাচ্ছি না, গুগলে সবই আছে।
এখন এই ব্যবসায়িক আরোহণের ভিড়ে নতুন করে যে প্রশ্নটি ওঠে, আমরা অর্থাৎ পর্বতারোহীরা পাহাড়ে যাই কেন? এর উত্তর মেলে, নিজেদের ক্ষমতা ও শক্তি পরীক্ষা করে নেওয়া, তা আরও বাড়ানো। আমরা এইসব অভিযান থেকে কিছু গুণ সংগ্রহের চেষ্টা করি, যা আমাদের ব্যক্তিত্ব ও আচরণকে আরও দৃঢ় করবে। প্রাথমিক ভাবে পর্বতারোহণের লাভ কার? উত্তর একটাই, আরোহীর নিজের। এই জায়গাটিই এখন যেন কোথাও হারিয়ে গেছে আরোহণের নামে বেড়ে ওঠা ট্যুরিজমের ভিড়ে। পর্বতারোহণ থেকে শিক্ষা পাওয়ার ধারণাই হারিয়ে গেছে। কমে গেছে সচেতনতা, খ্যাতির তাড়নায় বেড়ে গেছে মিথ্যাচারও।
দিনের শেষে একথা অস্বীকার করার উপায় নেই, সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুতে থাকা ট্যুরিস্ট ও মাউন্টেনিয়ারের মনন কখনওই একাসনে বসে না, বসতে পারে না। তাই মাউন্টেনিয়ারিংয়ের গরিমা যদি ট্যুরিজমের পথে জোর করে আনতেই হয়, তবে সে পথে কেবল শ্রম ও শক্তি দিয়ে পেরোনো যাবে না, তাতে অসততার কালিমালিপ্ত পদক্ষেপ পড়বেই।
তাই একথা বলাই যায়, আজকাল দিকে দিকে যে এত-শত আট-হাজারি আরোহণের কথা শোনা যাচ্ছে, তার বেশিরভাগটাই ট্যুরিজমের অন্তর্গত, যা মাউন্টেনিয়ারিং-এর একেবারে ভিন্ন প্রান্তে অবস্থান করে। এই সত্যটা আমাদের বোঝার এবং সমাজকে বোঝানোর সময় হয়েছে। তা যদি না হয়, বঙ্গীয় পর্বতারোহণ আর কখনওই তার পুরনো গৌরব ফিরে পাবে না, সমাজের কাছে উজ্জ্বল দৃষ্টান্তও স্থাপন করবে না।
(লেখক বাংলার তথা ভারতের বিখ্যাত পর্বতারোহী। নয়ের দশকে বাংলা থেকে আয়োজিত দু'টি এভারেস্ট অভিযান দলের অন্যতম সদস্য। বাংলার পর্বতারোহণের আ্যলপাইন স্টাইলের অন্যতম অগ্রদূত তিনি। ঝুলিতে আছে হিমালয়ের অজস্র ছোট-বড় শৃঙ্গ নিজের দক্ষতায় আরোহণ করার নজির। এই লেখায় প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব।)