
শেষ আপডেট: 28 July 2023 09:51
সুভাষ চন্দ্র দাশ, ক্যানিং: চোখের জল ফেলতে ফেলতেই কেটেছে প্রায় দু’মাস। স্বামীর পথ চেয়ে অপেক্ষায় ছিলেন নাসিরা সর্দার। অবশেষে ডিএনএ টেস্টের পর শুক্রবার স্বামীর মৃতদেহ বাড়িতে এল কফিনবন্দি হয়ে। কান্নায় ভেঙে পড়ল গোটা পরিবার।
করমণ্ডল এক্সপ্রেসে (Coromandel Express Accident) করে ধান রোয়ার কাজে অন্ধ্রপ্রদেশ যাচ্ছিলেন ক্যানিংয়ের ইটখোলা পঞ্চায়েতের সুখসাগর মোল্লা পাড়ার তারিফ হোসেন সর্দার (২৪)। সঙ্গে ছিলেন ওই পাড়াই আরও দুজন। ওড়িশার বালেশ্বরে ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনার পর বাকি দুজনের দেহ উদ্ধার হলেও খোঁজ মিলছিল না তারিফের। তাই ডিএনএ টেস্ট (DNA Test) করার জন্য আবেদন জানায় সর্দার পরিবার।
এরপরেই রেলের তরফে তারিফের বাবা কুতুবুদ্দিন সর্দারের দেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ডিএনএ টেস্টের ফলাফল আসার পরেই রেলের তরফ থেকে সর্দার পরিবারকে ফোন করা হয়। এরপরেই ভুবনেশ্বরের রেল হাসপাতাল থেকে বৃহস্পতিবার তারিফের দেহ তাঁর পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হল।
বছর খানেকের মেয়ে তামান্না ও সাত বছরের ছেলে মাসদুরকে নিয়ে সংসার ছিল তারিফ আর নাসিরার। বাড়তি উপার্জনের জন্য ভিনরাজ্যে ধান রোয়ার কাজ করতে যাচ্ছিলেন তারিফ। গত ২ জুন বালেশ্বরের বাহানাগা বাজার স্টেশনে করমণ্ডল এক্সপ্রেস, যশবন্তপুর হামসফর এক্সপ্রেস ও একটি মালগাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। অসংখ্য মানুষের মৃত্যু হয়। তারিফের প্রতিবেশী জাকির হোসেন সর্দার বলেন, “দুর্ঘটনার পর বিভিন্ন হাসপাতালে তন্নতন্ন করে খুঁজেছিলাম তারিফকে। একটি মৃতদেহ চিহ্নিত করেছিলাম। মুখ বিকৃত হওয়ায় বুঝতে পারছিলাম না। ডিএনএ টেস্ট করার পর দেহ পেলাম।”
তারিফের দেহ আসতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন স্ত্রী নাসিরা সর্দার। বলেন, “দুর্ঘটনার পর ছোট ছোট দুই ছেলেমেয়েকে নিয়ে স্বামীর পথ চেয়ে বসেছিলাম। ভেবেছিলাম বেঁচেই ফিরবে। শেষ পর্যন্ত কফিনবন্দি হয়ে ফিরল। জানি না ছেলেমেয়েদের কীভাবে বড় করব!” মাস দুয়েক আগে গ্রামের সফিউদ্দিন সর্দার ও সামসুদ্দিন সর্দারের মৃতদেহ বাড়িতে ফিরেছিল। শোকে ভেসেছিল গ্রাম। তারিফের দেহ ফিরতেই দু’মাস পর আবারও শোকে বিহ্বল হল ক্যানিংয়ের সুখসাগর মোল্লাপাড়া।
আরও পড়ুন: মুসলিম মহিলাদের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে কি ১ হাজার টাকা দেওয়া যাবে? বিধানসভায় প্রশ্ন তৃণমূলের বিধায়কের