
শেষ আপডেট: 31 December 2023 09:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এ যেন অবিকল ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগের চিত্র! সে বার ভোটের আগে তাবড় তাবড় তৃণমূল নেতা, বিধায়ক জোড়া ফুলের হাত ছেড়ে ঝাঁপ মেরেছিলেন পদ্মে। তাঁদের মধ্যে অনেকেরই দাবি ছিল, দলে থেকে কাজ করতে পারছিলেন না তাঁরা। যদিও ভোট মিটতেই বাংলার রাজনৈতিক হাওয়া তৃণমূলের দিকেই বেশি থাকায় সেই হাওয়ায় ভেসে অনেকেই আবার ফিরে এসেছিলেন জোড়াফুলে। বিধানসভা নির্বাচন এখন অতীত, কিন্তু আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের আগে সেই ঘটনারই কি পুনরাবৃত্তি হতে চলেছে?
বিধানসভা ভোটের সময় ভোটকেন্দ্রে গুলি চলে প্রাণ হারানোর ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল যে শীতলকুচি, সেখানেই এবার তৃণমূলের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী একযোগে দল ছাড়লেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামানিকের হাত ধরে তাঁরা যোগ দিলেন বিজেপিতে। দলবদল করেছেন লালবাজার এলাকায় তৃণমূলের অঞ্চল কমিটির সহ-সভাপতি বিনোদ বর্মন এবং তাঁর অনুগামীরা। বিনোদের দাবি, তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দলের জেরে দলে থেকে কাজ করা মুশকিল হয়ে পড়েছে। সেই কারণেই তাঁর এই সিদ্ধান্ত।
যদিও তৃণমূলের দাবি, যারা মানুষের স্বার্থ না দেখে, সকলের কথা না ভেবে শুধু ব্যক্তি স্বার্থের কারণে পদে বসতে চায়, তারা তৃণমূলে না থাকলেই মঙ্গল। ঘাসফুল জেলা নেতৃত্ব সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তৃণমূল ক্ষমতা-লোভীদের জায়গা নয়।
সাম্প্রতিক কিংবা সুদূর অতীতে তৃণমূলের গোষ্ঠী সংঘর্ষের একাধিক ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। তার নবতম উদাহরণ হল হাওড়ায় বড়দিনের কার্নিভাল চলাকালীন হাওড়ার প্রশাসক সুজয় চক্রবর্তী এবং শিবপুরের বিধায়ক মনোজ তিওয়ারির অনুগামীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা। সেই ঝামেলা মেটাতে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশের ঘটনাস্থলে গিয়ে হাজির হয়েছিলেন মধ্য হাওড়ার বিধায়ক তথা তৃণমূল মন্ত্রী অরূপ রায়। ঝামেলার কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া কার্নিভাল মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে ফের চালু হলেও মনোজ এবং সুজয়ের মধ্যে বনিবনা হচ্ছে না বলেই খবর।
অন্যদিকে বাকযুদ্ধে জড়িয়েছেন ব্যারাকপুরের সাংসদ অর্জুন সিং এবং জগদ্দলের বিধায়ক সোমনাথ শ্যাম। তাঁদের তরজা এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে দেগঙ্গার কর্মীসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাম না করে দুজনকে বার্তা দিয়েছিলেন, তিনি কোনওভাবেই ঝগড়া বরদাস্ত করবেন না। বিবদমান দু পক্ষের ঝগড়ায় মধ্যস্থতা করতে বৈঠক ডেকেছিলেন তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী। সেই বৈঠকে অর্জুন সিং এলেও সোমনাথ আসেননি বলেই জানা গেছে। লোকসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের জায়গায় জায়গায় গোষ্ঠী কোন্দল প্রকাশ্যে এসে যাওয়ায় স্বভাবতই কিছুটা অস্বস্তিতে শাসকদল।