
শেষ আপডেট: 16 July 2023 02:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী অনন্ত মহরাজকে (Ananta Maharaj) নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়ে গেল। অনন্তর আসল নাম (Name) উপেন্দ্র না নগেন্দ্র সেই বিতর্ক (Controversy) এবার উস্কে দিলেন সিতাইয়ের তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক জগদীশচন্দ্র বসুনিয়া। জগদীশবাবুর অভিযোগ, অল্প বয়সে প্রেম হয়েছিল অনন্তর। প্রেমিকাকে বিয়ে করার জন্য তাঁর চাকরির খুব প্রয়োজন ছিল। মৃত বন্ধু নগেন্দ্র রায়ের মাধ্যমিকের সার্টিফিকেট দেখিয়ে চাকরি নিয়েছিলেন ‘মহারাজ’। সেই থেকে তাঁর নাম নগেন্দ্র। আসলে তাঁর নাম ছিল উপেন্দ্র।
ফেসবুকে পোস্ট করে অনন্ত মহারাজের বিরুদ্ধে এমনই বিস্ফোরক পোস্ট করেছেন সিতাইয়ের বিধায়ক। অনন্ত মহারাজ অবশ্য বলেছেন, তৃণমূল মিথ্যা প্রচার করছে। তাঁর কথায়, “নগেন্দ্রদার কাছে আমি পড়াশোনা করেছি। আমি চাকরি পাওয়ার পর ওঁর মৃত্যু হয়েছিল। যে সব কথা রটানো হচ্ছে তা একেবারেই মিথ্যে”।
অনন্তর একাধিক নাম থাকার ব্যাপারটা স্বীকার করেছেন তাঁর দাদা জুরিন্দ্রনাথ বর্মন। মৃত নগেন্দ্র রায়ের স্ত্রী কুসুমলতা রায় বলেছেন, উনি আমার স্বামীর সার্টিফিকেট নিয়েছেন কি না, তা বলতে পারব না। তবে অনন্ত মহারাজকে আমরা ‘উপেন’ নামেই চিনি।
সিতাইয়ের বিধায়ক জগদীশচন্দ্র বসুনিয়া বলেছেন, গোসানিমারির সবাই জানেন অনন্ত কীভাবে নগেন্দ্রর সার্টিফিকেট ব্যবহার করে চাকরি পেয়েছেন। অসমের চিরাংয়ে এক জনের বাড়িতে অনন্ত কাজ করতেন। সেই বাড়ির মালিকের মেয়েকে প্রেমে ফাঁসিয়ে বিয়ে করার চেষ্টা করেছিলেন মহারাজ। কিন্তু, কাজের ছেলের সঙ্গে বিয়ে দিতে রাজি ছিলেন না বাড়ির মালিক। তাই অনন্ত গোসানিমারির বাড়িতে ফিরে আসেন। তারপর মৃত বন্ধু নগেন্দ্র রায়ের মাধ্যমিক পাস সার্টিফিকেট নিয়ে গিয়ে চাকরি পান।
অনন্ত অবশ্য এ সবই অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাদা জুরিন্দ্র বর্মন জানিয়েছেন, ছোটবেলায় তাঁরা খুব অভাবের মধ্যে বেড়ে উঠেছিলেন। কাজের খোঁজে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জায়গায় ছিল অনন্ত। সেই সব জায়গায় অনেকেই অনন্তকে একাধিক নামে ডাকত। তাই হতে পারে অনন্ত কারও কাছে উপেন্দ্র, আবার কারও কাছে নগেন্দ্র আবার কারও কাছে লম্বু কিংবা মহারাজ নামে পরিচিত। তবে বসুনিয়ার দাবি নিয়ে জুরিন্দ্র কোনও কথা বলতে চাননি।
মৃত নগেন্দ্র রায়ের স্ত্রী কুসুমলতা বলেছেন, কারও একাধিক নাম থাকতেই পারে। তবে উনি যখন আমাদের বাড়িতে আসতেন তখন ওঁকে ‘উপেন্দ্র’ নামেই আমরা চিনতাম। অনন্ত বা নগেন্দ্র নামে নয়। ওঁর নাম বিভ্রাট যাই থাক, আমার স্বামীর নাম নগেন্দ্র রায়। শ্বশুরমশাইয়ের নাম হল গগন।
অনন্ত হলেন স্বঘোষিত মহারাজ। কোচবিহারের রাজবাড়ির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নেই। তাঁর জন্ম গোসানিমারিতে। তাঁরা চার ভাই ও চার বোন। অনন্তর দাদা জুরিন্দ্রনাথ বর্মন এখনও গোসানিমারিতেই থাকেন। আরও এক দাদা নিবারণ বর্মন থাকেন আলিপুরদুয়ারে। তাঁর ভাই গুপীন বর্মন এখন থাকেন অসমে।
শুধু বসুনিয়া নয়, অনেকেই এখন বলছেন যে গোসানিমারিতে উপেন্দ্র নামে পরিচিত ছিলেন অনন্ত। পরে কাজের খোঁজে তিনি অসমে গিয়েছিলেন। সেখানে একটি তেল কোম্পানিতে নগেন্দ্র রায় নাম নিয়ে চতুর্থ শ্রেণির কর্মী হিসেবে কাজ করতেন।
তবে বিজেপির ঘোষণা করা রাজ্যসভার প্রার্থী তালিকায় তাঁর নাম অনন্ত মহারাজই ছিল। নগেন্দ্র রায় নামে তিনি মনোনয়ন জমা করেছেন। তাঁর ভোটার কার্ড ও প্যানকার্ডেও এই নামই রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
অসমের চিরাং জেলার বাসিন্দা হিসেবে তিনি নিজের পরিচয় দিয়েছেন। অনন্ত মহারাজের নাম নিয়ে বিতর্কের পাশাপাশি ঘুরপথে চাকরি পাওয়ার অভিযোগ নিয়ে এখন উত্তরবঙ্গ সরগরম।
অনন্ত, মিঠুনদের রাজ্যসভায় চায়নি আরএসএস, বাংলা ভাগে সায় নেই সঙ্ঘ পরিবারের