স্পিকারের সামনেই দলবদবল, তৃণমূলে সামিল চার কংগ্রেস বিধায়ক, উপ নির্বাচন কবে?
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃষ্টি ভেজা একুশে জুলাইয়ে তৃণমূলের শহিদ সমাবেশের মঞ্চ। তার তৃতীয় সারিতে ডান দিক ঘেঁষে বসে রয়েছেন বিধানসভার স্পিকার তথা বারুইপুরের তৃণমূল বিধায়ক বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বাঁ পাশে বিধানসভায় উপ মুখ্য সচেতক তাপস রায়। শনিবার ত
শেষ আপডেট: 21 July 2018 15:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃষ্টি ভেজা একুশে জুলাইয়ে তৃণমূলের শহিদ সমাবেশের মঞ্চ। তার তৃতীয় সারিতে ডান দিক ঘেঁষে বসে রয়েছেন বিধানসভার স্পিকার তথা বারুইপুরের তৃণমূল বিধায়ক বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বাঁ পাশে বিধানসভায় উপ মুখ্য সচেতক তাপস রায়। শনিবার তাঁদের সামনেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের পরিষদীয় মন্ত্রী তথা তৃণমূল মহা সচিব শাসক দলে সামিল করালেন চার কংগ্রেস বিধায়ককে-আবু তাহের, আখরুজ্জামান, সমর মুখোপাধ্যায় এবং সাবিনা ইয়াসমিন।
সে হোক। কিন্তু প্রশ্ন হল, দলত্যাগের জন্য এই কংগ্রেস বিধায়কদের কি বিধানসভার সদস্যপদ খারিজ করবেন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়?
তাৎপর্যপূর্ণ হল, কংগ্রেসের দুই সাংসদ মৌসম বেনজির নুর এবং আবু হাসনাত খান চৌধুরী তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রেখে চললেও একুশের মঞ্চে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরেননি। সূত্রের খবর, কারণ তৃণমূল থেকেই তাঁদের নিষেধ করা হয়েছিল। তাঁরা একুশের মঞ্চে তৃণমূলে সামিল হলেই সেই ভিডিও ফুটেজ লোকসভার স্পিকারের কাছে কেউ না কেউ জমা দিতেন। এবং তৃণমূলের আশঙ্কা দলবদলের জন্য লোকসভার স্পিকার সুমিত্রা মহাজন বিনা বাক্যব্যয়ে তাঁদের সদস্যপদ খারিজ করে দিতেন। ফলে উপ নির্বাচন অনিবার্য হয়ে উঠত মালদহের দুটি লোকসভা আসনে। তাই ঠিক হয়েছে, তাঁরা লোকসভা ভোটের ৬ মাস আগে নভেম্বরে তৃণমূলে যোগ দেবেন।
তা হলে কি বাংলায় সে রকম কোনও আশঙ্কা নেই তৃণমূলে? এবং এই চার বিধায়কের সদস্যপদ খারিজ হওয়া বা উপ নির্বাচন কিছুই কি হবে না?
এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে স্পিকার বলেন, “আমি এ বিষয়ে কিছুই বলব না। বিরোধী নেতারা কোনও অভিযোগ জানালে তা বিবেচনা করে দেখব।”
[caption id="attachment_20685" align="alignnone" width="600"]
বাঁদিকে পেছনের সারিতে চশমা পরে দাঁড়িয়ে স্পিকার [/caption]
প্রসঙ্গত, বাংলায় ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটে ৪৪টি আসনে জিতেছিল কংগ্রেস। এর মধ্যে দুটি আসনে উপ নির্বাচনে হেরেছে কংগ্রেস। তা ছাড়া ১৮ জন কংগ্রেস বিধায়ক তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। কিন্তু দলবদলের জন্য এঁদের কারও বিধানসভার সদস্যপদ যায়নি। এ ব্যাপারে বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নান স্পিকারের কাছে আবেদন জানালেও কাজ দেয়নি। ফলে তিনি আদালতেরও দ্বারস্থ হয়েছেন। ফলে বোঝা যাচ্ছে এ বারও চার বিধায়কের কিছুই হবে না। তাঁরা খাতায়কলমে কংগ্রেসের বিধায়ক থেকেও তৃণমূলের নেতা হয়ে রাজনীতি করবেন।
স্পিকারের ঘনিষ্ঠ সূত্রে বলা হচ্ছে, গোটা ঘটনায় ব্যক্তিগত ভাবে তিনি অস্বস্তিতে এবং বিড়ম্বনায়। কেন না সদস্যপদ খারিজ করা হবে কি না তা সরকারি ভাবে তাঁরই ঠিক করার কথা। কিন্তু কে না জানে সেই সিদ্ধান্ত আসলে দলীয় স্তরেই হবে।
তা হলে সংসদীয় গণতন্ত্র এবং সাংবিধানিক নিয়মকানুনের কী হবে?
জবাবে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী বলেন, “বাংলায় সাংবিধানিক নিয়ম কানুনকে শিকেয় তুলে রাখা হয়েছে। গণতন্ত্র নিখোঁজ। তাঁকে শ্বাসরুদ্ধ করে মেরে দেওয়া হয়েছে।”