দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: জমি সম্পত্তির ভাগ নিয়ে তুচ্ছ পারিবারিক বিবাদ, আর সেই বিবাদ থেকে খুন হয়ে গেলেন পূর্ব বর্ধমানের এক প্রৌঢ়। ঘটনাটি ঘটেছে মেমারি থানার কুচুটের চন্ডীপুর গ্রামে। মৃতের নাম আব্দুল ওয়াহেব মন্ডল। বয়স ৫৪।মৃত ব্যক্তির তিন মেয়েও গুরুতর রকমের আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সদর মহকুমা পুলিশ অফিসার আমিনুল ইসলাম খান এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের জানান, ১৩ই সেপ্টেম্বর রবিবার রাত ৯.৩০ নাগাদ পুলিশের কাছে খবর আসে পারিবারিক বিবাদের জেরে চন্ডীপুর গ্রামে এক প্রৌঢ় গুরুতর আহত হয়েছেন। কুড়ুলের কোপ লেগেছে তার শরীরে। রাতে তাকে মেমারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় সেখান থেকে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয় ওই প্রৌঢ়কে। ১৪ তারিখ সোমবার দুপুরে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজেই মারা যান ওই ব্যক্তি।
এদিন পুলিশের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের বলা হয়, তদন্তের স্বার্থে ওই মৃত ব্যক্তির ভাই, ভাইয়ের স্ত্রী এবং ছেলেকে প্রাথমিকভাবে আটক করা হয়েছে। এখন মৃতের পরিবারের কাছ থেকে লিখিতভাবে খুনের অভিযোগ পাওয়ার অপেক্ষা। তারপরই এই তিনজনের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেবে পুলিশ।
অন্যদিকে মৃতার স্ত্রী জাহেরুন্নেসা বিবি মন্ডল জানান, আততায়ী পরিবারের সঙ্গে যৌথভাবে একই বাড়িতে থাকেন তারা। তার স্বামী সেজ ভাই।অভিযুক্ত তারই ছোট ভাই। দীর্ঘদিন ধরে দুই ভাইয়ের মধ্যে জমি ও বাড়ির ভাগ নিয়ে দ্বন্দ্ব ছিল। এলাকার লোকেরা মীমাংসা করে দিলেও তা মানা হয়নি। অভিযুক্তরা প্রায়ই তাদের নানারকম হুমকি দিয়ে বাড়ি ছাড়া করার চেষ্টা করত।
মৃতের স্ত্রীর অভিযোগ; রবিবার রাতের ঘটনা আগাগোড়াই পরিকল্পিত। রাতে প্রথমে তার মেয়ের উপর আক্রমণ শানানো হয়৷ তার মুখে লঙ্কা গুলে দেয় অভিযুক্তরা। এরপর তার অসুস্থ স্বামীকে মারধর করা শুরু করে। মৃতের ভাই রফিক, ভাইপো আসিফ এবং ভাইয়ের বৌ রাজিয়া মন্ডলের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তোলেন তিনি। তাদের সঙ্গে নাকি যোগ দিয়েছিলেন শাশুড়িও। ঘরে চড়াও হয়ে রীতিমতো গলা টিপে ধরা হয় ওই অসুস্থ প্রৌঢ়ের। কুড়ুল দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপ মারা হয়। বাধা দিতে গিয়ে আহত হন ওই দম্পতির মেয়েরাও।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃত ব্যক্তির তিন মেয়েই গুরুতর রকমের আহত। বড় মেয়ের অবস্থা সংকটজনক। দুই ভাইয়ের পরিবারের মধ্যে সম্পত্তি নিয়ে বিবাদ চলছিল অনেকদিন ধরেই। কিন্তু তা এমন সাংঘাতিক রূপ নেবে এ কথা ভাবেননি কেউই। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়।