
শেষ আপডেট: 7 March 2024 22:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেস ডায়েরি ছাড়াই আদালতে হাজির হয়েছিলেন তদন্তকারী পুলিশ অফিসার উত্তম কুমার বাগিরা। ওই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট অফিসারকে তীব্র ভর্ৎসনা করার পাশাপাশি মামলার তদন্তভার থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু।
বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের ঘটনা। আদালত সূত্রে জানা গেছে, এক আইনজীবীর রহস্য মৃত্যুর মামলায় তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে তদন্তকারী অফিসারের বিরুদ্ধে। তারই প্রেক্ষিতে এই নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি বসু।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ৩ ডিসেম্বর আচমকাই নিখোঁজ হয়ে যান শিলিগুড়ি হায়দার পাড়া এলাকার বাসিন্দা তথা শিলিগুড়ি আদালতের আইনজীবী নবীন সরকার। এরপর ৪ ডিসেম্বর এনজিপি থানার ফুলবাড়ি মার্ডার মোড় এলাকার ক্যানেল থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনায় খুনের অভিযোগ দায়ের করে তাঁর পরিবার।
কিন্তু কয়েকমাস পেরিয়ে গেলেও তদন্তে তেমন কোনও অগ্রগতি দেখতে না পেয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ির সার্কিট বেঞ্চের দ্বারস্থ হয় মৃত আইনজীবীর পরিবার। ওই মামলায় তদন্তকারী অফিসার উত্তম কুমার বাগিরাকে এদিন সকাল সাড়ে ১০টায় আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি বসু।
আদালত সূত্রের খবর, নির্দিষ্ট সময়ে মামলার শুনানি শুরু হলেও আইও আদালতে কেস ডায়েরি নিয়ে আসেননি। এতে ক্ষুব্ধ বিচারপতি তাঁকে তীব্র ভর্ৎসনা করে বলেন, "আপনার মুখ দেখতে এখানে ডাকা হয়নি।"
পরে ফের দুপুর ২ টার পর শুনানি শুরু হয়। আইনজীবীকে খুন করা হয়ে থাকতে পারে, এই ধারণার সপক্ষে একাধিক যুক্তি আদালতে পেশ করেন মৃতর পরিবারের আইনজীবী সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়।
আদালতে তাঁর দাবি, "এটি একটি খুনের মামলা। কিন্তু পুলিশ তদন্তের শুরু থেকেই আত্মহত্যার ঘটনা মাথায় নিয়ে গয়ংগচ্ছ ভাবে তদন্ত শুরু করে। পুলিশ রিপোর্ট অনুযায়ী, মৃত আইনজীবীর দেহ ক্যানেলের জলে ডুবে যাওয়ার পর ৪ টা লকগেট পার করে ২০ থেকে ২২ কিলোমিটার ভেসে গেছে। যদি এভাবে জলে ডুবে মৃত্যু হয়ে থাকে তবে তার দেহে যা যা আঘাতের চিহ্ন থাকা দরকার, যেমন শরীরে ক্ষত চিহ্ন, ফুসফুস কিংবা স্টমাকে জল থাকা, দেহের চামড়া কুঁচকে যাওয়া ইত্যাদি কিছুই ময়নাতদন্তে পাওয়া যায়নি।"
এরপরই তদন্তকারী অফিসারকে ফের তীব্র ভর্ৎসনা করার পাশাপাশি তাঁকে মামলার তদন্তভার থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন বিচারপতি। পরিবর্তে কোনও দক্ষ পুলিশ আধিকারিককে দিয়ে এই মামলার তদন্ত করিয়ে আগামী মঙ্গলবার আদালতে রিপোর্ট পেশ করার নির্দেশ দেন বিচারপতি।
শিলিগুড়ি বার এসোসিয়েশনের সম্পাদক অলোক ধারা বলেন "পুলিশ এই মামলাটিকে ভুল পথে পরিচালিত করছিল, তা আজকে আদালতের সামনে পরিস্কার হয়েছে। আদালতে কেস ডায়েরি না নিয়ে আসায় বিচারপতি তদন্তকারী পুলিশ আধিকারিককে বলেছেন, আপনার মুখ দেখতে আমি ডাকিনি। কেস ডায়েরি আনার পর দেখা যাচ্ছে কোন জায়গায় কি আছে সেটাও আইও জানেন না।"
সার্কিট বেঞ্চের অ্যাডিশনাল এডভোকেট জেনারেল জয়জিৎ চৌধুরী অবশ্য জানান, "একথা ঠিক যে বিচারপতি এই মামলায় তদন্তকারী পুলিশ আধিকারিককে বদল করতে বলেছেন। তবে আমরা আইনজীবী রহস্য মৃত্যুর সঠিক তদন্ত করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। এই বিষয়ে আদালতের লিখিত নির্দেশ বের হলে আমি পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে আলোচনা করে যথাযথ পদক্ষেপ করব।"