বছরের শেষ দিনে উৎপাদন বন্ধ হল দুর্গাপুর কেমিক্যালস কারখানায়
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দূষণ ছড়ানোর অভিযোগ তো রয়েইছে, একই সঙ্গে অভিযোগ কার্যক্ষেত্রে সুরক্ষা নিয়েও। তাই দুর্গাপুর কেমিক্যালস কারখানা আপাতত বন্ধ রাখার নির্দেশ দিল রাজ্যের শিল্প দফতর। এই কারখানাটি রাজ্য সরকারেরই অধীন। দূষণ নিয়ন্ত্রণের কথা উল্লেখ কর
শেষ আপডেট: 31 December 2019 08:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দূষণ ছড়ানোর অভিযোগ তো রয়েইছে, একই সঙ্গে অভিযোগ কার্যক্ষেত্রে সুরক্ষা নিয়েও। তাই দুর্গাপুর কেমিক্যালস কারখানা আপাতত বন্ধ রাখার নির্দেশ দিল রাজ্যের শিল্প দফতর। এই কারখানাটি রাজ্য সরকারেরই অধীন। দূষণ নিয়ন্ত্রণের কথা উল্লেখ করে গতকাল কারখানা কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠিয়েছে শিল্প দফতর। এমন চিঠির কথা জেনে অবাক শ্রমিকরা।
চিঠিতে লেখা হয়েছে, পর্ষদ থেকে শংসাপত্র পেলে তবেই তারা ফের উৎপাদন শুরু করতে পারবে। কারখানা সূত্রে খবর, সব বিধিনিষেধ মেনে নতুন করে উৎপাদন শুরু করতে অন্তত দু’মাস লেগে যাবে। তার আগে দুর্গাপুর কেমিক্যালস কারখানা চালু হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
রাজ্যের শিল্প দফতর থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছে দুর্গাপুর কেমিক্যালস কারখানা কর্তৃপক্ষকে। ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কারখানার উৎপাদিত জিনিসের মধ্যে রয়েছে ক্লোরিন ও হাইড্রোজেন যা পরিবেশের পক্ষে ক্ষতিকারক। তাই দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ এই কারখানার উৎপাদন বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। কারখানাটি একেবারে দুর্গাপুর শহরের কাছেই হওয়ায় শহরের মানুষের উপরে এর প্রভাব খুব বেশি পড়ছে। কারখানার ক্লোর-অ্যালকালি প্ল্যান্ট থেকে যে ক্লোরিন ও হাইড্রোজেন উৎপন্ন হচ্ছে তার বিরূপ প্রভাব পড়ছে শহরের মানুষের স্বাস্থ্যের উপরে। এই অবস্থায় কারখানাটি উৎপাদন চালিয়ে গেলে তা ভয়ানক ঝুঁকিপূর্ণ হবে বলে ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাজ্যের শিল্প দফতর জানিয়েছে, কারখানা থেকে যে দূষণ ছড়াচ্ছে তা নিয়ন্ত্রণ না করা পর্যন্ত সাময়িক ভাবে কারখানা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্যদ। কারখানার সুরক্ষার দিকটিও দেখার কথা বলা হয়েছে চিঠিতে।
চিঠি দিয়ে পুরো দুর্গাপুর কেমিক্যালস কারখানাই বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় রাজ্যের শিল্প দফতর। এই মর্মে তারা চিঠি পাঠিয়ে দেয় দুর্গাপুর কেমিক্যালসের কলকাতার লিটল রাসেল স্ট্রিটের অফিসে। ৩০ ডিসেম্বরের চিঠিটি হাতে পাওয়ার পরে বছরের শেষ দিন উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া হয় কারখানাটিতে। শিল্প দফতরের উপ-সচিবের পাঠানো চিঠিতে স্পষ্ট ভাবে বলে দেওয়া হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের থেকে সন্তোষজনক রিপোর্ট পেলে তবেই এই কারখানায় আবার নতুন করে উৎপাদন শুরু করা যাবে।
শ্রমিকরা মনে করছেন, অন্তত দু’ থেকে তিন মাস তাঁদের কারখানায় উৎপাদন বন্ধ থাকবে। কারখানায় কাজ করার ক্ষেত্রে নিরাপত্তার অভাব রয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে দুর্গাপুর কেমিক্যালস কারখানার বিরুদ্ধে।