
শেষ আপডেট: 28 August 2023 18:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: দশ বাই দশ ফুটের ঘর। সেখান থেকেই কমনওয়েলথ গেমসে (Commonwealth Games) সোনা জেতার স্বপ্ন দেখছেন উত্তরপাড়ার (Utterpara Swimmer) অনিল সাউ।
দেশের কোথাও বিপর্যয় হলেই ডাক পড়ে বিপর্যয় মোকাবিলা দলের। সে হরপা বানে ভেসে যাওয়া মানুষদের প্রাণরক্ষাই হোক বা পাহাড় ধসে আটকে পড়া পর্যটকদের উদ্ধার।
সারা ভারত থেকে মাত্র ১২ জন এই ছাড়পত্র পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দুজন পশ্চিমবঙ্গের। ১৩ সেপ্টেম্বর কানাডাতে হবে সেই ‘লাইফ সেভিং সুইমিং’ প্রতিযোগিতা ।
নুন আনতে পান্তা ফুরোনো সংসার অনিলদের। বিদেশে যাওয়া তো স্বপ্ন! দাদা সুনীল সামান্য মাইনের চাকরি করলেও ভাইকে কমনওয়েলথ গেমসে পাঠাতে মরিয়া।
সুনীলের কথায়, “ভাই সুযোগ তো পেয়েছে কানাডা যাওয়ার। কিন্তু এখনও অনিশ্চয়তা কাটেনি। তাই রোজ সকাল সন্ধ্যায় ছুটে বেড়াচ্ছি স্পনসর জোগাড়ের জন্য।” তাঁর ভাইকে কানাডা পাঠাতে প্রায় দু লাখ আটান্ন হাজার টাকা খরচ। কোথা থেকে আসবে এত টাকা? কে দেবে? উত্তর জানা নেই তাঁদের। তবে যে সুযোগ এসেছে তাকে কাজে লাগাতে চান অনিলও।
অনিলের কোচ কৌস্তুভ বাগচি বলেন, “অনিল মানুষের জীবন বাঁচায়। এটা একটা মহান কাজ। ও যখন সাঁতারে এল, আমি ওকে মোটিভেট করি ওর যেটা প্যাশন সেই ইভেন্টে নামতে। বাংলা থেকে প্রতিনিধিত্ব করে বেঙ্গালুরুতে জাতীয় প্রতিযোগিতা ২৬৫ জনের মধ্যে নজরে পড়ে অনিল। ২৫ জনকে নিয়ে জাতীয় শিবির হয়। সেখানে প্রথম ১২ জনে সুযোগ পেয়েছে। এটা একটা বড় ব্যাপার। ওর আর্থিক সমস্যা আছে। আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করছি অনিলের পাশে থাকার।”
টাকার জোগাড় হয়নি এখনও। তবে প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক জিততে চলছে কঠোর অনুশীলন। অনিল বলেন, “২০২১-২২ থেকে লাইফ সেভিং সুইমিং করি। বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় সাফল্য পেয়েছি। ২০২৩ সালে বেঙ্গালুরুতে জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতায় চারটি সোনা জিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। এবার যে সুযোগ পেয়েছি সেটা কাজে লাগাতে চাই। দেশের জন্য একটা সোনার পদক আনতে চাই।”
কোনির মতো বাস্তবে অনিল কি পারবে ফাইট করে শেষ হাসি হাসতে, সেটাই এখন দেখার।
আরও পড়ুন: চাঁদে চার মিটার গর্তের মুখে প্রজ্ঞান, সামলে নিয়েই ফটাফট দিক বদলে গুটিগুটি চলছে