দ্য ওয়াল ব্যুরো: রঙিন মাছ কার না ভাল লাগে! ঘরের মধ্যে অ্যাকোয়ারিয়াম রেখে বাহারি মাছের চলাফেরা দেখেই দিনের শেষে চোখ জুড়িয়ে যায়। তবে সেইসব মাছ আসে কোথা থেকে! কিছুদিন আগেও ভিন্ রাজ্য থেকে সেইসব রঙিন মাছের পোনা আসত। তবে এবার আসবে জেলা থেকেই।
আন্তর্জাতিক স্তরে মাছচাষের জন্য ক্যানিংয়ের দীর্ঘদিনের সুনাম রয়েছে। সেই সুনামের পাশাপাশি এবার আরও এক নতুন পালক জুড়তে চলল। যা কিনা জেলা তথা রাজ্যে এই প্রথম, রঙিন মাছ চাষ হচ্ছে ক্যানিংয়েই!
সাধারণ মাছ চাষের পাশাপাশিই প্রযুক্তিগত ভাবে রঙিন মাছ চাষ শুরু হয়েছে ক্যানিং ১ ব্লকের দিঘীরপাড় গ্রাম পঞ্চায়েতের ট্যাংরাখালি কয়ালপাড়া এলাকায়। সেখানে মাছ বড় হলে ক্রেতারা সরাসরি পুকুরে এসেই পছন্দমত মাছ কিনে নিয়ে যেতে পারবেন। লাভবান হবেন চাষিরাও।
খুশির খবর, রঙিন পোনারা দ্রুত বড় হচ্ছে। ক্যানিং ১ ব্লক মৎস্য দফতরের সহযোগিতায় স্থানীয় বাসিন্দা অভিজিৎ কয়ালের বিশাল পুকুরে রঙিন মাছ চাষ করছেন মৎস্যচাষি বিকাশ সাউ।
জানা গেছে, দুমাস আগেই ছোট্ট ছোট্ট গোল্ড ফিশ, ডিসকাস, অসকাস, রেড ক্যাপ, রেড আই, মিল্কি, বার্ব প্রজাতির রঙিন মাছের এক লক্ষ চারা ছাড়া হয় সেই পুকুরে। কোনও প্রকার রাসায়নিক সার, ওষুধপত্র ছাড়াই মাছগুলো বেশ ডাগর হয়ে উঠেছে এ কদিনে। সেই সাফল্যে খুশি মৎস্যচাষিরাও।
বিশেষ কোনও ব্যবস্থা নয়, গ্রামের খোলা পুকুরে রঙিন মাছের এমন অস্বাভাবিক বাড়বাড়ন্তে নতুন দিশা দেখলেন ক্যানিং এক ব্লক মৎস্যদফতর ও মাছ চাষিরা।
পুকুরের খাবার খেয়েই এত কমসময়ে রঙিন মাছ বাড়তে পারে তা যে জানা ছিল না! পুরো বিষয়টাই নিরীক্ষার স্তরে ছিল।
বৃহস্পতিবার রঙিন মাছ চাষ সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে সরাসরি পুকুরপাড়ে হাজির হয়েছিলেন ক্যানিং ১ বিডিও শুভঙ্কর দাস, ক্যানিং ব্লক মৎস্য আধিকারিক অরুন কুমার দেব এবং কৃষি দফতরের সহকারি অধিকর্তা শঙ্কর দেব গায়েন। তাঁরাও মাছের বাড়বাড়ন্ত দেখে উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়েন।
গ্রামাঞ্চলের বিশাল পুকুরে যেভাবে লক্ষাধিক রঙিন মাছের দল খেলে বেড়াচ্ছে তা রীতিমত দেখার বিষয়! আগামী দিনে জেলা তথা রাজ্যস্তরে ব্যাপকভাবে সাড়া ফেলবে এই উদ্যোগ, এমনটাই মনে করছেন আধিকারিকরা।