দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরও একটা বছর ঘুরে গেছে, শুরু হয়েছে নতুন শিক্ষাবর্ষ। না, স্কুল কলেজের দরজা অবশ্য এখনও খোলেনি, তবে পড়াশোনা বন্ধ হয়ে নেই। কোভিড আবহে অনলাইনেই (Online) চলছে স্কুল কলেজ এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস (Class)। ছেলেমেয়েদের পড়াশোনায় মোবাইল, ল্যাপটপ, ইন্টারনেট আর গুগল মিট এখন নিঃসন্দেহে নিউ নর্মাল।
৩ কৃষি আইনই যখন স্থগিত, তখন কীসের আন্দোলন? কৃষকদের সুপ্রিম কোর্ট
তবে বছর ঘুরলেও এই নতুন 'নর্মাল'-এর সঙ্গে মানিয়ে নিতে পেরেছে কি ছাত্রছাত্রীরা? কেউ কেউ পেরেছে সন্দেহ নেই, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের সিংহভাগ স্কুল ও কলেজ পড়ুয়ার দিকে তাকিয়ে দেখলে কিন্তু বেশ অস্বস্তিতে পড়তে হয়। কারণ এখনও গ্রাম বাংলার অধিকাংশ ছাত্রছাত্রীই জোটাতে পারেনি অনলাইন ক্লাসের জন্য পর্যাপ্ত সামগ্রী। তা সে মোবাইল কিংবা ল্যাপটপের মতো 'স্মার্ট' ডিভাইসই হোক, আর ইন্টারনেটের মতো সাধারণ উপকরণ।
স্মার্ট ফোন তো দূরের কথা, এখনও অনেকের কাছে সামান্য ফোনটুকুই নেই। তাই কলেজ বা স্কুলের পড়াশোনার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা সেইসব ছাত্রছাত্রীদের পক্ষে সম্ভব নয়। অগত্যা পড়াশোনায় ইতি টানা ছাড়া আর কোনও উপায় দেখছেন না তাঁরা। আর যাঁদের কাছে স্মার্ট ফোন আছে, তাঁরা আবার ইন্টারনেট জোগাড় করে উঠতে হিমশিম খান।
অনলাইন ক্লাস করতে প্রচুর ইন্টারনেট দরকার হয়, সুযোগ বুঝে তার দামও বাড়িয়ে দিয়েছে টেলিকম সংস্থা গুলো। সাধারণ গরীব ঘরের ছাত্রছাত্রীদের কাছে তাই দিন দিন এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়াটাই বিলাসিতার মতো ঠেকছে।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী আর অধ্যাপকরা গতবছর ছাত্রছাত্রীদের দরকার বুঝে চাঁদা তুলে অনলাইন পড়াশোনার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। এগিয়ে এসেছিল পুরুলিয়ার সিধু কানু বিরসা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও। তবে তা পর্যাপ্ত নয়। আর সকলে তা করেওনি। ফলে অন্যান্য স্কুল কলেজের পড়ুয়াদের অন্ধকারেই থাকতে হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে এক শিক্ষিকা ও কাউন্সিলর জোনাকি মুখোপাধ্যায় বলেছেন, সব ছাত্রছাত্রীরা তো সমাজের একই স্তর থেকে আসে না। সকলের আর্থিক পরিস্থিতিও সমান নয়। তাই সবাই একটা আলাদা ঘরে নিরিবিলিতে বসে ক্লাস করবে, এটা আমরা আশা করতে পারি না। এটা আমাদের বুঝতে হবে।
গ্রামগঞ্জের ছাত্রছাত্রীদের সবচেয়ে বড় সমস্যা ইন্টারনেট। ইন্টারনেট কানেকশন জোগাড় করলেও তা প্রত্যন্ত গ্রামে ঠিকমতো কাজ করে না। প্রায় প্রতিদিনই ক্লাস করতে বসে হয়রানির শিকার হন পড়ুয়ারা। সবংয়ের জনৈক ছাত্রের কথায়, আমি অনলাইন ক্লাসে ভিডিও অন করতেই পারি না। করতে গেলেই বাফারিং শুরু হয়ে যায়। কথাও আটকে আটকে যায়, ঠিকমতো শুনতে পাই না ক্লাসে কী চলছে। আরও এক ছাত্র বলেছেন, তিনি ক্লাস চলাকালীন ভিডিও চালাতে পারেন না, তার কারণ তাঁদের ঘর একটাই, আর সেখানে তাঁর মাকে কাজ করতে হয়। ভিডিও অন করে ঘরের পরিস্থিতি দেখাতে অনেকেই স্বচ্ছন্দ বোধ করেন না।
তবে আজকাল ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে অনলাইনে ক্লাস করার আগ্রহ আগের থেকে বেড়েছে বলেই জানাচ্ছেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা। তবে এভাবে ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কে প্রভাব পড়ছে। দ্রুত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার আশাতেই রয়েছেন সকলে।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'