দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোকাকোলার প্রতিষ্ঠাতা জলে চিনি গুলে শরবত বিক্রি করতেন। আর ম্যাকডোনাল্ডসের প্রতিষ্ঠাতা? তিনি ছিলেন ধাবামালিক।
বিস্ময়কর এই সব তথ্যের সন্ধান দিলেন খোদ কংগ্রেসের সভাপতি রাহুল গান্ধী।
এতেই থামেননি রাহুল। বলেছেন, এই ‘শিকঞ্জি’ বা শরবত বিক্রি করেই কোকাকোলা আর ধাবার ব্যবসা থেকে ম্যাকডোনাল্ডসের মতো বহুজাতিক সংস্থা গড়ে উঠেছে।
কিছুদিন আগেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে বলেছিলেন, ‘পকোড়া বিক্রি করাও একটা কাজ।’ আর সেই নিয়ে বিরোধীরা শ্লেষে বিদ্ধ করেছিলেন তাঁকে। মন্তব্য করেছিলেন, তার মানে দেশের মোদীর কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করার অর্থ হল আরও বেশি পকোড়া বিক্রেতা তৈরি করা। ইন্টারনেটে ট্রোলও করা হয়েছিল তাঁকে। হাসাহাসির মস্ত সুযোগ পেয়ে গিয়েছিল মোদীর বিরোধীরা। বলা হয়েছিল, তবে কী দেশের হাজার হাজার শিক্ষিত যুবককে কলেজ ইউনিভার্সিটির ডিগ্রি নিয়ে শেষে পকোড়া বেচার পরামর্শ দিলেন মোদী?
https://twitter.com/ANI/status/1006095051083005952
এবার, ‘ভারতবর্ষে এমন কোনও ধাবাওয়ালা, শরবতওয়ালা নেই যাঁরা কোকাকোলা বা ম্যাকডোনাল্ড গড়তে পারেন?’ জিজ্ঞাসা করে যতই দেশের স্বনির্ভরদের উৎসাহ দিতে চান না কেন রাহুল গান্ধী, তাঁর এই মন্তব্যেও হাসির রোল পড়ে গেল দেশ জুড়ে।
আমেরিকান ফার্মাসিস্ট জন পেম্বারটন আবিষ্কার করেছিলেন কোকাকোলার। মরফিনের নেশা ছাড়ানোর ওষুধ হিসেবে এর পেটেন্ট নেওয়ার পর, তিনি কোকাকোলার ফর্মুলা বিক্রি করে দেন ওষুধ ব্যবসায়ী আসা গ্রিগস ক্যান্ডলারকে। এদের দু’জনের কেউই কোনওদিন শরবত বিক্রি করেননি।
ম্যাকডোনাল্ডস এর প্রতিষ্ঠাতা দুই ভাই রিচার্ড এবং মরিস ম্যাকডোনাল্ডের বাবা প্যাট্রিক অবশ্য ‘দ্য এয়ারড্রোম’ নামের একটা ফুড স্ট্যান্ড তৈরি করেছিলেন। পরে রিচার্ড এবং মরিস দুই ভাই মিলে তৈরি করেন রেস্তোরাঁ ‘ম্যাকডোনাল্ডস’। প্রথমে অবশ্য বারবিকিউ বিক্রি করতেন তাঁরা। সেখান থেকেই উৎপত্তি হয় আজকের ম্যাকডোনাল্ডের।
এখন কোকাকোলাকে ‘শিকঞ্জি’ বা শরবতের সঙ্গে তুলনা করার জন্য রাহুলকে নিয়ে রসিকতা চলছে সোশ্যাল মিডিয়ার।
লোকে বলছে, রাহুল নিজে প্রধানমন্ত্রী হতে পারুন বা না পারুন, তাঁর ‘শিকঞ্জি’ কিন্তু ছুঁয়ে ফেলল মোদীর পকোড়াকে।