
শেষ আপডেট: 31 August 2023 10:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর ২৪ পরগনা: গ্রামের মানুষের স্বার্থে এক সময় তৈরি হয়েছিল সমবায় ব্যাঙ্ক। এখন সেই সমবায় ব্যাঙ্কগুলির (Co-operative Bank Corruption) বিরুদ্ধে প্রায়ই টাকা নয়-ছয় করার অভিযোগ ওঠে। এবার মিনাখাঁর (Minakha) মোহনপুর চণ্ডীবাড়ি কৃষি উন্নয়ন সমিতির ম্যানেজারের বিরুদ্ধে দু'কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই ঘটনার কথা সামনে আসতেই পুলিশ ব্যাঙ্কের ম্যানেজারকে গ্রেফতার করেছিল। কিন্তু কয়েকদিনের মধ্যে জামিনে ছাড়া পেয়ে যান অভিযুক্ত ম্যানেজার যজ্ঞেশ্বর ভুঁইঞা। এরপর থেকে যজ্ঞেশ্বর ও সম্পাদক মুকুল মণ্ডল বহাল তবিয়তে এলাকার মধ্যেই ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কিন্তু গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষ এখনও তাঁদের হকের টাকা পাননি।
স্থানীয় বাসিন্দা দীপঙ্কর দাস জানান, '২০২০ মে মাসের ৫ তারিখে বাবা মারা যান। তিনি সমবায়ের কাছে কিছু টাকা জমা করেছিলেন। ছেলে হিসাবে সেই টাকা তুলতে গেলে ম্যানেজার জানান, ওই টাকা বাবা নাকি আগেই তুলে নিয়েছিলেন। পরে কাগজপত্র বের করতে ধরা পড়ে আসল কারচুপি। দেখা যায়, ওই টাকা বাবার মৃত্যুর পর তোলা হয়েছে। এই ভাবেই ম্যানেজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন।'
আরও এক উপভোক্তা তাপসী দাস পাত্র জানান, 'দীর্ঘদিন ধরে সমবায় সমিতি গ্রামের মানুষকে গচ্ছিত পুঁজির হিসাবনিকেশ দিচ্ছে না। গ্রামের হাজার হাজার মানুষ এই প্রতারণার শিকার হয়েছে। প্রায় দু'কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন ওই ব্যাঙ্ক ম্যানেজার। আমরা এই ঘটনার সিবিআই তদন্ত চাই।'
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রামের মানুষের অভিযোগের ভিত্তিতে চলতি বছরে জুন মাসের ৭ তারিখে অভিযুক্ত ম্যানেজার যজ্ঞেশ্বর ভুইয়াকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে গ্রেফতার করে সিআইডি। যদিও প্রায় ২১ দিন জেল খাটার পর তাঁকে জামিনে ছেড়ে দেওয়া হয়।
উপভোক্তাদের অভিযোগ, জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর রুদ্রমূর্তি ধারণ করেন অভিযুক্ত। গ্রামবাসীদের ভয় দেখাচ্ছেন। এদিকে ঘটনার পর থেকে সমবায়টি বন্ধ রয়েছে। কর্মীদের অভিযোগ, তাঁরা প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় মতো দফতরে এলেও সমবায়টি বন্ধ থাকে। দুপুর ২ পর্যন্ত বাইরে দাঁড়িয়ে থাকার পরে তাঁরা চলে যান। এমনকী তাঁরা ১৪ মাস ধরে মাইনে পাচ্ছেন না।
সমবায়ের এক কর্মী জানান, নতুন বোর্ড আসার পর তাঁরা বকেয়া মাইনে মেটানোর দাবি জানিয়েছিলেন। কিন্তু সেই বোর্ডের সদস্যরা পুরনো বোর্ডের আমলে থাকা বকেয়া দিতে নারাজ।
বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্ত ম্যানেজার যজ্ঞেশ্বর ভুঁইয়াকে প্রশ্ন করা হলে তাঁর সাফ উত্তর তিনি কোনও অপরাধ করেননি। বেশ কয়েকজন উপভোক্তা লোনের টাকা শোধ করেননি। সেই টাকা চাওয়াতেই উল্টে তাঁরা যজ্ঞেশ্বরবাবুর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে তাঁকে জেল খাটিয়েছেন। তাঁর আরও দাবি, "যে কর্মীরা ওখানে চাকরি করেন। তাদের সেই চাকরিটা চুক্তিভিত্তিক ও প্রতিদিন এই সমবায়টি খোলা হয়।"
এই ঘটনা নিয়ে আসরে নেমে পড়েছে সিপিএম ও বিজেপি। তাঁদের দাবি, ওই ম্যানেজার তৃণমূলের সমর্থক। শাসকদলে নেতাদের সঙ্গে বেশ ঘনিষ্ট। শুধু এই ম্যানেজারই নন, তৃণমূলের নেতারাও এই দুর্নীতির সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত রয়েছেন।
যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তৃণমূলের বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার আইএনটিটিইউসির সভাপতি কৌশিক দত্ত। তিনি বলেন, "যজ্ঞেশ্বর ভুঁইয়া তৃণমূলের সক্রিয় কেউ নন। ওই সমবায়ে যদি কোনও দুর্নীতি হয়ে থাকে, তাহলে আমরা চাইবো দোষীর অবশ্যই শাস্তি হোক।"
আরও পড়ুন: ঝালদা পুরসভার উন্নয়নের অর্থ ৯ মাস বন্ধ রাখার অভিযোগ, রাজ্যের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা