দ্য ওয়াল ব্যুরো: পেগাসাসের অপকীর্তি-সহ আরও বেশ কিছু বিষয় খতিয়ে দেখবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিচারবিভাগীয় তদন্ত কমিশন। উত্তর খুঁজবে একাধিক প্রশ্নের। শুধু আড়িপাতার উৎস খুঁজে বার করা নয়, কারা, কী উদ্দেশে, কীভাবে এই কাজ করছে বা করাচ্ছে, তা জানার চেষ্টা করবে কমিশন। এদিন মুখ্যমন্ত্রী নবান্নের সাংবাদিক বৈঠক থেকে জানিয়েছেন, এই কমিশনে থাকবেন প্রাক্তন বিচারপতি এমবি লোকুর এবং প্রাক্তন বিচারপতি জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্য।
যে বিষয়গুলি খতিয়ে দেখা হবে:
১. আড়িপাতার জন্য ঠিক কোন ধরনের প্রযুক্তি ও সফ্টওয়্যার ব্যবহার করা হচ্ছে।
২. ইজরায়েলের পেগাসাসের পাশাপাশি ওই জাতীয় আরও কোনও সফ্টওয়্যার ব্যবহার করা হচ্ছে কিনা।
৩. আড়ি পেতে যে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে, তা কোনও ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, সরকারের কাছে রাখা হচ্ছে কিনা।
৪. এই আড়িপাতার পিছনে বিশেষ কারও বা বিশেষ কোনও প্রতিষ্ঠানের প্ররোচনা ও ষড়যন্ত্র আছে কিনা
৫. যাঁদের ফোনে ইতিমধ্যেই আড়ি পাতা হয়েছে, তাঁদের গোপনীয়তার অধিকার লঙ্ঘিত হওয়ার কারণে কী কী ক্ষতি হয়েছে।
৬. আড়ি যিনি পেতেছেন, তা সরকারি ভাবে হোক বা বেসরকারি ভাবে, তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলির কী ধরনের ভূমিকা ছিল এই কাজে।
৭. আড়ি পাতার বৈধ আইন আছে এ দেশে। এই ক্ষেত্রে সেই আইন মেনে আড়ি পাতা হয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হবে।
৮. ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী ব্যক্তির গোপনীয়তা আইনত তাঁর মৌলিক অধিকার। আড়িপাতার ফলে তা খর্ব হচ্ছে কিনা, খতিয়ে দেখা হবে।
৯. বিচারবিভাগীয় কমিশন এই তদন্তের জন্য যে কাউকে তলব করতে পারে। মনে করা হচ্ছে, কান টানলে মাথা আসার মতো কেন্দ্রীয় সরকারের অফিসারদেরও ডাকা হতে পারে তদন্তে।
১০. সরকার মনে করছে, আড়িপাতা নিয়ে এই পরিস্থিতি চললে একটা অস্থিরতা তৈরি হবে। তা দ্রুত থামানো দরকার।
১১. সাংবাদিকদের এবং বিচার বিভাগের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের স্বাধীনতা খর্ব হয় এই আড়িপাতায়। এমনটা না হওয়াই বাঞ্ছনীয়।
১২. ৬ মাসের মধ্যে রিপোর্ট দিতে হবে বিচারবিভাগীয় কমিশনকে।