দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃহস্পতিবার সকালেই খবর এসেছে, হাওড়া জেলা হাসপাতালের সুপার করোনাভাইরাস সংক্রমণে আক্রান্ত। এমআর বাঙ্গুরে ভর্তি করে চিকিৎসা চলছে তাঁর। এর পরেই বিকেলে সাংবাদিক বৈঠক করে হাওড়া জেলা হাসপাতালে এখন না যাওয়ার পরামর্শ দিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন তিনি পশ্চিমবঙ্গের মানচিত্র হাতে করে তুলে দেখিয়ে উল্লেখ করেন, রাজ্যে সাত-আটটা জায়গায় সীমাবদ্ধ আছে করোনা-সংক্রমণ। অর্থাৎ সেগুলিই এখন রাজ্যের হটস্পট। তার মধ্যেই রয়েছে হাওড়া। সে কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, হাওড়ার দিকে বেশি করে নজর দিতে হবে।
একইসঙ্গে উল্লেখ করেন, এই মুহূর্তে হাওড়া জেলা হাসপাতাল এড়িয়ে চলা যায়। অন্য হাসপাতালে যাওয়ার কথা বলে, উল্লেখ করেন সঞ্জীবনী হাসপাতালের কথা। তিনি বলেন, "সঞ্জীবনীতে ৩০০টি বিশেষ বেডের ব্যবস্থা করা হয়েছে করোনার জন্য। ওখানে চলে যান অ্যাম্বুল্যান্সে করে। ভাববেন না আপনাদের খরচ করতে হবে, সরকার পুরোটাই খরচ করবে।"
মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরেই প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কি হাওড়া হাসপাতালের মধ্যে সংক্রমণ আরও বেশি ছড়িয়ে গেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে?
এদিন সকালেই খবর আসে, হাওড়া হাসপাতালের সুপারের শরীরেও মিলেছে করোনা সংক্রমণ। বেলেঘাটা আইডিতে পরীক্ষার পর এমআর বাঙ্গুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে ডাঃ নারায়ণ চট্টোপাধ্যায়কে। তার আগে হোম কোয়ারেন্টাইনেই ছিলেন তিনি। দু’দিন আগে করোনার বেশ কয়েকটি উপসর্গ দেখা দেয় তাঁর শরীরে। এরপরেই তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে বলেই স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর। কিন্তু সুপারের সংক্রমণ ধরা পড়ার সঙ্গে সঙ্গে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে সুপারের গোটা পরিবারকেই।
শুধু তাই নয়, আতঙ্ক বাড়িয়েছে অন্য আর একটি তথ্য। জানা গেছে, এই সময়কালে তাঁর সংস্পর্শে এসেছিলেন প্রায় দু’শো জন। তাঁদেরও কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হচ্ছে। এঁদের মধ্যে রয়েছেন বেশ কয়েকজন সরকারি কর্তাও।
গত ২৮ মার্চ জ্বর ও শ্বাসকষ্টের উপসর্গ নিয়ে হাওড়া হাসপাতালের ভর্তি হয়েছিলেন সালকিয়ার বাসিন্দা বছর ৪৮ এর এক মহিলা। করোনার উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হলেও ওই মহিলাকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে না রেখে জেনারেল ওয়ার্ডে অন্য রোগীদের সঙ্গেই রেখে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল। ৩০ তারিখ ওই মহিলার মৃত্যুর পরে নাইসেড থেকে আসা রিপোর্টে জানা যায় তাঁর শরীরে করোনার সংক্রমণ হয়েছিল। এই ঘটনা জানার পরেই হাসপাতাল চত্বরে দেখা দিয়েছিল অসন্তোষ। নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বক্তব্য ছিল, জেনারেল ওয়ার্ডে ওই মহিলা ভর্তি থাকায় সাবধানতা ছাড়াই ওই রোগিণীর সংস্পর্শে গিয়েছেন তাঁরা। হাওড়া হাসপাতালের সুপার নারায়ণবাবুও ওই মহিলাকে দেখতে গিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।
সেই ঘটনার পর থেকে হাসপাতালের ৩০ জন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়। সুপারও ছিলেন হোম কোয়ারেন্টাইনে। আক্রান্ত হয়েছেন তিনিও।
তার পরে আজকে মুখ্যমন্ত্রীর হাওড়া হাসপাতালকে এড়িয়ে চলার পরামর্শ শুনে অনেকেই মনে করছেন, গোটা হাসপাতালটিকেই কোয়ারেন্টাইন করে রাখা হয়েছে সতর্কতা অবলম্বন করার জন্য। সেক্ষেত্রে ঠিক কত জন আক্রান্ত হতে পারে, তা এই মুহূর্তে আন্দাজ করা কঠিন।