রফিকুল জামাদার
বাংলার বাইরে যে এবারের একুশে জুলাইকে নিয়ে যেতে চাইছে তৃণমূল, তা আগেই জানা গিয়েছে। দিল্লি, পাঞ্জাব, ত্রিপুরায় সেসবের প্রস্তুতিও চূড়ান্ত পর্যায়ে। জায়ান্ট স্ক্রিন লাগিয়ে দিদির বক্তৃতা শোনানো হবে আগরতলা থেকে অমৃতসর। এবার দক্ষিণ ভারতের দেওয়ালেও ছাপ রাখল তৃণমূল। তামিলনাড়ুর দেওয়ালে আম্মা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তামিল ভাষাতেই লেখা হয়েছে একুশের প্রচার।
তামিল রাজনীতিতে আম্মা অতি পরিচিত নাম। জয়ললিতাকে মা অর্থাৎ আম্মা বলেই সম্বোধন করত তামিল জনতা। কার্যত আম্মা-আবেগেই তামিলনাড়ুর মসনদ ছিল এআইএডিএমকে-র দখলে। কিন্তু তিনি চোখ বুজতেই তাঁর দলে শুরু হয়ে যায় গোষ্ঠী কোন্দল। পনির সেলভম, পালানিস্বামী, শশীকলার লড়াইয়ে বিদীর্ণ জয়ললিতার দলকে এবার ক্ষমতা থেকে সরতে হয়েছে। দেখা গেল সেই রাজ্যেই নতুন আম্মা হিসেবে দেওয়ালে আঁকা হল মমতার ছবি।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পরেই জানিয়েছিলেন, দেশের কোণায় কোণায় দলকে পৌঁছে দেওয়া তাঁর লক্ষ্য। এও জানিয়েছিলেন , যে যে রাজ্যে তৃণমূল ইউনিট খুলবে সেখানে সেখানে সরকার গড়ার জন্যই ঝাঁপাবে। চারটে-পাঁচটা বিধায়ক জেতার জন্য নয়।
তখনই তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তৃণমূল প্রথম টার্গেট কী? ত্রিপুরা? জবাবে অভিষেক বলেছিলেন, নির্দিষ্ট পরিকল্পনার পরেই তিনি তা জানাবেন।
সর্বভারতীয় তৃণমূলের তরফে এখনও তেমন কোনও পরিকল্পনা সরকারি ভাবে জানানো হয়নি। তবে একুশের একুশে জুলাইকে কার্যত জাতীয় স্তরে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু করে দিল তৃণমূল।
তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে টিএমসি অতি পরিচিত নাম। বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা জিকে মুপানার কংগ্রেস ছেড়ে বেরিয়ে এসে তামিল মানিলা কংগ্রেস গড়েছিলেন। তাঁর দল তামিল রাজনীতিতে বিশেষ ছাপ না ফেললেও সেই দলকে টিএমসি বলেই জানেন তামিলনাড়ুর মানুষ।
দক্ষিণ ভারতে কেরলেও এর আগে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল তৃণমূল। সেবার কেরলের ভোটে তৃণমূলের নির্বাচনী প্রতীক হয়েছিল ফুলকপি। এবার দেখা গেল তামিলনাড়ুর দেওয়ালেও তৃণমূলের গ্রাফিত্তি।
এমনিতে দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে দেওয়াল লেখার মধ্যে একটা অনন্য ছাপ রয়েছে। ইউরোপে যে ভাবে স্প্রে রঙ দিয়ে গ্রাফিত্তি আঁকা হয় ইদানিং প্রায় সব দলই সেই শিল্প রপ্ত করেছে। তৃণমূলের দেওয়ার লেখাতেও নানান রঙের শেড দেখা যাচ্ছে। তামিল রাজনীতিতে কতটা কী ছাপ ফেলতে পারবে তৃণমূল তা তো পরের কথা। তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, জাতীয় স্তরে মমতাকে তুলে ধরার ওয়ার্ম আপ হিসেবে একুশে জুলাইকেই বেছে নিয়েছে তৃণমূল।
এ রাজ্য, রাজ্যের বাইরেও মমতা বরাবর দিদি নামে পরিচিত। ২০১৯-এর লোকসভা ভোটের আগে দল তাঁকে 'মা' বলে প্রচারে তুলে ধরেছিল। এবার বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে বাজিমাত করে মমতাকে নিয়ে বাংলা ঘরের মেয়েকে চায় স্লোগান। স্থানীয় আবেগ ও পরিচিতির অঙ্কে তামিলনাড়ুতে তাঁকে আম্মা বলে তুলে ধরা হচ্ছে।