দ্য ওয়াল ব্যুরো, আলিপুরদুয়ার: হোক না গণবিবাহের অনুষ্ঠান, তিনিও তো বাড়ির মেয়ের মতোই! তাই পায়ে পা মিলিয়ে, হাতে হাত ধরে ফালাকাটায় এক আদিবাসী নাচের আসরে যোগ দিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এই ঘটনা যে একেবারে বিরল তা নয়, তবে উত্তরবঙ্গের বুকে এমন ছবি ধরা পড়ল এই প্রথমই।
দেখুন ভিডিও।
https://www.youtube.com/watch?v=LhPufkb7pqg
গতকালই শিলিগুড়িতে বক্তৃতা করার সময়ে উনিশের লোকসভা নির্বাচনে তিনি উত্তরবঙ্গে 'গো হারা' হেরেছেন বলে মন্তব্য করেছিলেন। সঙ্গে অবশ্য বলেছিলেন, তবু তাঁর লজ্জা নেই। তিনি চান এবছর উত্তরবঙ্গ তাঁকে পুষিয়ে দিক। এর পরেই আজ, মঙ্গলবার আলিপুরদুয়ার জেলার ফালাকাটায় আদিবাসীদের এক গণবিবাহের অনুষ্ঠানে যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই তিনি আদিবাসী শিল্পীদের সঙ্গে নাচে-গানে পা মেলান। এই গণবিবাহের অনুষ্ঠানে এদিন ৪৫০ জন যুবক-যুবতীর বিয়ে দেওয়া হয়। নবদম্পতির হাতে এদিন রাজ্য সরকারের তরফে নানা উপহার তুলে দেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রী নিজেই আদিবাসী দম্পতিদের হাতে শাড়ি, ধুতি-পাঞ্জাবি তুলে দেন।

পাশাপাশি এই গণবিবাহের অনুষ্ঠানেই আবার মুখ্যমন্ত্রী চা-সুন্দরী প্রকল্পের চা-শ্রমিকদেরও আবাসনের ব্যবস্থা করেন। আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি ও দার্জিলিং জেলার ১২টি চা বাগানের ৪৬০০ বেশি শ্রমিকের হাতে চা-সুন্দরী প্রকল্পের বাড়ি তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "নির্বাচন এলেই দিল্লি বারবার বলবে, চা বাগান খুলে দেব। কিন্তু, তারপর সব ভুলে যায়। আমরা মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিই না। আমরা যা বলি তাই করি। আমাদের সরকার কৃষকের সরকার, খেটে খাওয়া মানুষের সরকার, মা-মাটি-মানুষের সরকার।" এরপরই কেন্দ্রের শাসকদলকে নিশানা করে মমতা বলেন, "উত্তরবঙ্গের এতজন সাংসদ জিতেছেন, কেউ কিছু করেছেন? এতগুলি চা বাগান বন্ধ। কিছু করেছেন? অপপ্রচার ছাড়া কিছু করেছেন? বিজেপি শুধু কুৎসা করে।"

গত লোকসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গে গেরুয়া ঝড়ে কুপোকাত হয়েছিল তৃণমূল। এবার তা পুনরুদ্ধারে মরিয়া তারা। সে জন্যই ভোট প্রচারে সেখানে গিয়ে পৌঁছেছেন স্বয়ং তৃণমূল সুপ্রিমো। জানিয়েছেন, উত্তরবঙ্গে তিনি প্রতিমাসে একবার করে আসেন প্রাণের টান থেকে। ভোটের আগে এই গণবিবাহের আয়োজন ও চা-শ্রমিকদের বাড়ি দেওয়াও প্রচারেরই অঙ্গ স্পষ্টতই। এখন এটাই দেখার, উত্তর-বাসীর মন জয় তিনি করতে পারলেন কিনা।