দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০১১ সালে সরকারে আসার পরেই বনধ, হরতালে ‘না’ করে দিয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার। কর্মসংস্কৃতি নষ্ট হয় বলে প্রশাসনকে কঠোর হাতে বনধ মোকাবিলার নির্দেশ দিতে দেখা গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রীকে। কিন্তু মঙ্গলবার কৃষকরা ভারত বনধ ডেকেছেন। কৃষকদের সেই আন্দোলনকে পূর্ণ সমর্থন জানালেন তৃণমূলনেত্রী।
এদিন মেদিনীপুর কলেজিয়েট ময়দানের জনসভা থেকে মমতা বলেন, “২০১১ সাল থেকে আমাদের সরকারের পলিসি, আমরা বনধ সমর্থন করি না। সরকারে থেকে আমরা সেটা করতে পারি না। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেস দল হিসেবে কালকে কৃষকদের আন্দোলনকে পূর্ণ সমর্থন করছে।”
মোদ্দা কথা। পশ্চিমবঙ্গ সরকার বনধ না পছন্দ করলেও, সরকারের চালিকা শক্তি তৃণমূল কংগ্রেস কালকের আন্দোলনকে সমর্থন করছে। মুখ্যমন্ত্রী নন, তৃণমূল নেত্রী হিসেবে সেই আন্দোলন সমর্থনের ঘোষণা করলেন মমতা। যদিও এদিন একবারও মুখে বনধ সমর্থন করছি বলেননি দিদি। শুধু বলেছেন, কালকের আন্দোলনকে সমর্থন করছি।
এদিন মমতা বলেন, “আমি সিঙ্গুর ভুলিনি, আমি নন্দীগ্রাম ভুলিনি, আমি নেতাই ভুলিনি। আমি ভারতবর্ষও ভুলিনি। আমি কৃষিজীবী মানুষকে ভুলিনি।” হাতে ধানের ছড়া নিয়ে, লক্ষ্মী ছুঁয়ে দিদি বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেস আপনাদের আন্দোলনের পাশে ছিল, আছে, থাকবে।” আগামী কাল বাংলার ব্লকে ব্লকে ত্ররণমূলের কৃষক সংগঠন ধর্না কর্মসূচি করবে বলেও ঘোষণা করেন নেত্রী।
এই ন’বছরে বাম-কংগ্রেসের প্রায় ডজন খানেক বনধ হয়েছে। সেসব ঠেকাতে কী না কী হয়েছে। সরকার সার্কুলার জারি করে জানিয়ে দেয়, না এলে বেতন তো কাটা যাবেই উপরি চাকরি জীবন থেকে এক দিন ছেদ হবে। গোড়ার দিকে দেখা যেত ধর্মঘটের আগের দিন নবান্ন, নিউ সেক্রেটারিয়েট, বিকাশ ভবনের মতো সরকারি দফতরগুলিতে রাত কাটাতেন সরকারি কর্মীরা। তৃণমূলের কর্মচারী সংগঠন ডিম ভাতের ব্যবস্থা করত।
বাম-কংগ্রেসের বরাবরের অভিযোগ, যিনি সরকারে আসার আগে বাসের তলায় বিড়াল চাপা পড়লেও বাংলা বনধ ডাকতেন তাঁর এখন কর্মসংস্কৃতির বোধোদয় হয়েছে। এদিন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা তথা রাজ্যের বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নান বলেন, “এই ২৬ নভেম্বরের ধর্মঘটেও মুখ্যমন্ত্রীর পুলিশ রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় সিটু, আইএনটিউসি কর্মীদের লাঠিপেটা করেছে। গ্রেফতার করেছে। আর এখন উনি নাটক করছেন।”