দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুধু লাইট অ্যান্ড সাউন্ডের রঙ নয়। শনিবারের ভিক্টোরিয়া ছিল রাজনৈতিক ভাবে রঙিন।
একদিকে যেমন জয় শ্রীরাম স্লোগান শুনে মুখ্যমন্ত্রীর তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে সর্বসমক্ষে, তেমন অনুষ্ঠানের পর চা চক্রে, পর্দার পিছনে নানান ঘটনা ঘটেছে। যা রাজনৈতিক ভাবে তাত্পর্যপূর্ণ। যেমন শুভেন্দুর কাঁধে হাত রেখে নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, "শুভেন্দু বহুত আচ্ছা কাম হো রাহা হ্যায়", তেমন মুকুল রায় এবং শুভেন্দুর সঙ্গে দেখা হয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কিন্তু সেখানে কী হল? দেখা তো হল, কথা হল কি?
জানা গিয়েছে, শুভেন্দু-মমতা প্রায় মুখোমুখি হয়েছিলেন। কিন্তু কথা হয়নি। শুভেন্দু স্বাভাবিক ভাবেই তাকিয়ে ছিলেন। কিন্তু দিদি নাকি মুখ ঘুরিয়ে নেন। যা নিয়ে পরে অনেকে হাসি-মজাও করেছেন!
কিন্তু মুকুল রায়?
ওই চা-চক্রে উপস্থিত অনেকেই বলছেন সেরা টুইস্ট ছিল মমতা-মুকুল সাক্ষাত্। জানা গিয়েছে, মুকুল রায়কে মমতা জিজ্ঞেস করেন, "কী মুকুল, ভাল তো?" একদা তৃণমূলেরা সেকেন্ড ম্যানও ইতিবাচক কথায় কুশল বিনিময় করেন।
মুকুল রায় ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। তারপর একাধিক সভায় তাঁকে গাদ্দার বলে আক্রমণ শানিয়েছেন মমতা। শুভেন্দু বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন '২০-র ডিসেম্বরে। তাঁকেও এখন দিদি থেকে তৃণমূলের পাড়ার নেতারা বিশ্বাসঘাতক, মীরজাফর বলে তোপ দাগছেন। রবিবারও কুলতলির সভা থেকে যুব তৃণমূল সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তুই তোকারি করে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়েছেন। পরিবারতন্ত্র নিয়ে বিঁধেছেন মুকুল রায়কেও। তবে শুভেন্দুকে দেখে দিদির মুখ ঘোরানো এবং মুকুলের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় চা-চক্রে উপস্থিত অনেকেরই চোখ এড়ায়নি।
সপ্তাহ দুয়েক আগে বাংলা বিজেপির নেতাদের দিল্লিতে ডেকেছিল কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। তার আগে মুকুল রায় ভোটের কাজে তাঁকে গুরুত্ব না দেওয়ায় নাকি অসন্তুষ্ট ছিলেন। ঘনিষ্ঠ মহলে নাকি এও বলেছিলেন, ওদিক থেকে এখনও কিন্তু ফোন আসছে! এর আগে আম্ফানের সময় বিমানবন্দরে মমতা-মুকুলের দেখা হয়েছিল। সেসময় নাকি মমতা মুকুলের উদ্দেশে বলেছিলেন, "নিজের শরীরের খেয়াল রেখো।" মুকুলও তখন বলেছিলেন, "দিদি আপনিও শরীরের খেয়াল রাখবেন।"
ফলে ভোটের আগে ভিক্টোরিয়ার সবটাই রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে চাইছেন অনেকে। হতে পারে একজনের দিক থেকে মুখ ঘোরানো আর অন্যজনের সঙ্গে 'কী কেমন আছো' বলার মধ্যে রাজনৈতিক বার্তা রয়েছে। আবার হয়তো নেই!