মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লাইভ: ‘গোটা বাংলার আমিই অবজার্ভার, কার সঙ্গে কে যোগাযোগ রাখছে সব জানি’
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাঁকুড়ায় সরকারি অনুষ্ঠান ও প্রশাসনিক বৈঠকের জন্য গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দুদিন সে সব চলার পর আজ বুধবার বাঁকুড়ায় জনসভা করছেন দিদি। রইল তার হাইলাইটস-
বাঁকুড়ার নেতারা কি ভুলে গেছেন লড়াইয়ের কথা। মাত্র দশ
শেষ আপডেট: 25 November 2020 08:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাঁকুড়ায় সরকারি অনুষ্ঠান ও প্রশাসনিক বৈঠকের জন্য গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দুদিন সে সব চলার পর আজ বুধবার বাঁকুড়ায় জনসভা করছেন দিদি। রইল তার হাইলাইটস-
বাঁকুড়ার নেতারা কি ভুলে গেছেন লড়াইয়ের কথা। মাত্র দশ বছর আগে একটা ছোট্ট ধাক্কাধাক্কি হয়েছিল। এই শুভাশিস বটব্যালরা সেদিন ছিল। অমিত সামন্তরা ৫৩৭ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর করেছিল।
-
আমি ভুলে যাইনি। কোতলপুরের বিক্রমপুর গ্রাম। সালামের বাড়ি। তাঁরা দুই ভাই। তাঁরা আর্মিতে কাজ করত। মায়ের সামনে ছেলের মুণ্ডু কেটে ফেলে দিয়েছিল। বলছিল মা একটু পানি দাও। মা এসে দেখেছে মাথা ও দেহ আলাদা হয়ে পড়ে আছে। এই ছিল সিপিএমের অত্যাচার।
-
মনে আছে গোপীনাথপুর। আগের দিন দেখলাম লক্ষ লক্ষ লোক। পরের দিন গিয়ে দেখলাম গলা পর্যন্ত জলে ডুবে আছে মানুষ। সিপিএমের ভয়ে। আর গুন্ডারা বসে মাংস খাচ্ছে।
-
বাঁকুড়ার ছেলেমেয়েরা ভয়ে রাস্তায় বেরোত না। সারেঙ্গায় সুড়ঙ্গ তৈরি করেছিল। সেই সুড়ঙ্গ দিয়ে ডেড বডি পাচার হত।
-
সেই বাঁকুড়ার সারেঙ্গা, খাতড়া, ওন্দা, ঝিলিমিলি শান্তিতে রয়েছে। খুব রাগ না সিপিএম, বিজেপি, কংগ্রেসের।
-
আজ জগাই মাধাই গদাই এক হয়েছে। এক সঙ্গে মিলে অত্যাচার করছে।
-
যে সিপিএমের হার্মাদরা আপনাদের উপর অত্যাচার করত তারাই আজ রঙ বদলে বিজেপি হয়েছে। হৃদয়টা এক আছে, মুখ বদলেছে।
-
খরায় পাত্তা নেই, বন্যায় পাত্তা নেই। বাংলায় যখন মানুষ শান্তিতে রয়েছে, তখন দিল্লি থেকে কয়েকটা লাড্ডু পাঠিয়েছে। সব কেড়ে নেবে।
-
ভোট যখন আসবে দেখবেন, আপনার অ্যাকাউন্টে দশ হাজার টাকা জমা দিচ্ছে, লুকিয়ে লুকিয়ে টাকা দিচ্ছে।
-
পুলিশের বিভিন্ন এজেন্সিতে যাঁরা কাজ করে তাঁদের দিয়েও বাক্স ভরে টাকা দেওয়া হয়।
-
কোনও কোনও প্রেস মিডিয়ার মাধ্যমেও টাকা দেওয়া হয়।
-
সিপিএম সব থেকে বড় লোভী, বিজেপি সব থেকে বড় ভোগী। আর তৃণমূল হল ত্যাগী।
-
কেউ কেউ ভাবছে বাইচান্স যদি ওরা ক্ষমতায় চলে আসে। আরে চান্সই নেই তো বাই চান্স! বাঁকুড়ার একটি একটি করে আসন বুঝে নেব।
-
অনেক টাকা হয়েছে না! হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ টাকা! আগে খেতে পেত না, একটা বিড়ি তিন জনে টানত। আর এখন ফোন করে তৃণমূল কর্মীকে বলছে, শোন তোকে ২ কোটি টাকা দেব চলে আয়। কোনও একটা এমএলএ-কে বলছে এখন ১৫ লক্ষ টাকা দিচ্ছি পরে আরও দেব।
-
সিপিএমকে দেখে আরও লজ্জা লাগে। বিজেপির পা চাটছে।
-
আরে আমি তো তোমাদের কিছুই করিনি। শুধু বলেছি, বদলা নয় বদল চাই।
-
ভোট এলেই তৃণমূলকে ভয় দেখানো, যাতে তৃণমূলের কিছু লোক ভয় পেয়ে ওদের সঙ্গে চলে যায়। বলছে, কী করবে? হয় ঘরে থাকো না হলে জেলে থাকো। আমি বলছি, ক্ষমতা থাকলে আমাকে অ্যারেস্ট করো। আমি জেলে থেকে তৃণমূলকে জেতাব।
-
লালু প্রসাদ যাদবকে আটকে রেখেছ অনেক দিন ধরে। তাতে জিততে পেরেছো? ওটা জেতা? ম্যানুপুলেট করে জিতেছ।
-
সকাল থেকে উবাচ শুরু হয়েছে। বলছে, গরুর মূত্র থেকে সোনা পাওয়া যায়। তা আপনি একটু সোনা বের করে দেখান। তা হলে আমি বেশি করে গরু দেব গ্রামের মানুষদের।
-
আগে ঘুঁটে দেওয়া শিখুন। তার পর বুঝবেন, গোবরের ধনটা কাজে লাগে।
-
চল্লিশ শতাংশ বেকার বাড়িয়ে দিয়েছে।
-
রেল প্রাইভেট করে দিচ্ছে, বিমান প্রাইভেট করে দিয়েছে। অনেক জায়গায় মাইনে বন্ধ করে দিয়েছে। আমাদের টাকা তো দেয়ই না। কিছু দিলে বলবে, কেন্দ্র দিয়েছে।
-
তুমি আমার রাজ্য থেকে টাকা তুলো না, তোমার টাকার দরকার নেই। ওটা তো আপনার টাকা, আমার টাকা।
-
কৃষকদের জমি লুটে নেওয়ার ব্যবস্থা হয়েছে। আমরা কৃষক বন্ধুদের পাঁচ হাজার টাকা করে দিই। কৃষকদের জমি থেকে কোনও কর নিই না। মিউটেশন শুল্ক মুকুব করে দেওয়া হয়েছে।
-
মাঝেমাঝেই বলবে ওই তো কৃষকরা টাকা পেল না। আমাদের টাকা পেল না।
-
ওরা টাকা দিলে টাকা নিয়ে নেবেন। টাকাটা ওদের নয়। নেবেন টাকা, ভোটের বাক্স করবেন ফাঁকা।
-
দলিতদের উপর ওরা সবথেকে বেশি অত্যাচার করছে। আর এখানে এসে তফসিলি বাড়িতে এসে খাচ্ছে। হোটেল থেকে বাসমতি চালের ভাত আর পোস্তর বড়া এনে খাচ্ছে। আর এখানে প্রতারণা করে দেখাচ্ছে, ধনেপাতা, বাঁধাকপি কাটা হচ্ছে।
-
সাঙ্গোপাঙ্গ, দেবাঙ্গ, ব্রহ্মাঙ্গ, অঙ্গ প্রত্যঙ্গ, অস্ত্রাঙ্গ সব নিয়ে এসে ছবি তোলার জন্য পাত পেড়ে খাওয়া আর মানুষকে মিথ্যা কথা বলা... একটা গারবেজ অফ লাইজ পার্টি। মিথ্যের ডাস্টবিন। এতো মিথ্যা কথা কেউ বলে না।
-
যা করেছি তা নতুন করে বলতে চাই না। পৃথিবীর কোনও রাজ্য তা করে দেখাতে পারবে না।
-
দুটো মোটা ভাত পেলে, ছেলেমেয়েরা পড়াশুনা করলে, স্বাস্থ্যটা সুরক্ষিত থাকলে বাকি সব করে নেওয়া যায়।
-
আমরা সবাইকে বছরে একদিন বোকা বানাই। এপ্রিল ফুলের দিন। বিজেপি বছরের ৩৬৫ দিন মানুষকে বোকা বানায়।
-
বিজেপি দেশের সব থেকে বড় অভিশাপ। এই অভিশাপকে স্তব্ধ করতে হবে। জব্দ করতে হবে।
-
আমিও ছোট থেকে বড় হয়েছি। কখনও দেখিনি কেউ বিনা পয়সায় দুটো পাঁউরুটি দেয়। কিন্তু আমাদের সরকার বিনামূল্যে কত কিছু দেয়।
-
একশো জন লোকের মধ্যে কখনও বলতে পারি না একশোই জনই ভাল। এক আধ জন খারাপ হতেই পারে। রাজনীতি করতে গেলে, কাজ করতে করতে যেটা শিখেছি, যদি ২৫ শতাংশের মধ্যে ভুল থাকে, তা সংশোধন করে নেবে। কিন্তু তৃণমূল ভুল পথে পা দেবে না।
-
কোনও ব্যক্তির উপর রাগ থাকতেই পারে, কিন্তু তার জন্য তৃণমূল কংগ্রেসকে ভুল বুঝবেন না। আমরাও রিপোর্ট নিই। রিপোর্ট কার্ড খারাপ থাকলে বলি তুমি দূরে থাকো। আমি নতুন ছেলে মেয়ে তৈরি করে নেব।
-
সকাল থেকে রাত পর্যন্ত খাটি, এমনি এমনি? নিশ্চয়ই ভাল কিছু করব বলে! মানুষের ভাল করার জন্য।
-
একটা কথা বলতে চাই, অনেকে ভাবেন, বাঁকুড়া জেলার কে অবজার্ভার, পুরুলিয়ার কে, মেদিনীপুর কে দেখবে, আসানসোল কে দেখবে? আগে দল কি মেসেজ দিই, সারা বাংলায় আমি একজন কর্মী হিসাবে আমিই এখন অবজার্ভার। কারণ প্রত্যেকটা ব্লক থেকে ব্লকে কে কী করছে, কে কে কনট্যাক্ট করছে, কার সঙ্গে কে যোগাযোগ রাখছে, এ টু জেড আমি খবর রাখি।
-
দল আমাকে সাহায্য করছে। দলটা সবাই মিলে করতে হয়। মনে রাখবেন আপনার তালডাংরায় কিছু হলে আমি অবজার্ভার, ছাতনায় কিছু হলে আমি অবজার্ভার।
-
সরকার যেমন দায়িত্ব নিয়ে দেখি, দলটাকেও দায়িত্ব নিয়ে দেখব।
-
তার কারণ, আমি মনে করি আমার উপর খুব চাপ পড়ে গিয়েছিল। তাই একটু ঢিলে দিয়েছিলাম। এ বার বাঁকুড়া থেকে শুরু করলাম।
-
দু-একজনকে দেখতে পাবেন, হয়তো তৃণমূল করেন আবার এদিক ওদিক যোগাযোগ রাখেন। ভাববেন না দিদি জানে না, দিদি ছেড়ে রেখেছে তাদের সেটা তো বুঝতে হবে। সে যে যোগাযোগ রাখছে, সে তো খবরটাও পাস করছে। ছাগলের একটা ছানাকে ছেড়ে রাখতে হবে।
-
আমরা মনে করি তারা ধান্দাবাজ। এই ধান্দাবাজদের একটা গোষ্ঠী রয়েছে। তাদের সংখ্যা খুব কম। রাতের অন্ধকারে দেড়টা দুটোয় কে যাচ্ছে। নজর রাখুন। কে কার সঙ্গে ফোনে কথা বলছে। কে গাড়ি করে বেরিয়ে যাচ্ছে রাতের অন্ধকারে।
-
যারা টাকা দিয়ে বাংলা দখল করতে চাইছে, তাদের বলে রাখি, বাংলা টাকার কাছে মাথা নত করে না।
-
বাংলা থেকে বিদায় নিক বিজেপি। পাপ বিদায় যাক। পাপ বিদায় যাক।