দ্য ওয়াল ব্যুরো: অনেকদিন পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিপিএমের বিরুদ্ধে এত রেগে গেলেন। মঙ্গলবার রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিক বৈঠক করেন। সেখানেই হঠাৎ সিপিএমের প্রসঙ্গ তোলেন মমতা নিজেই।
কেন?
তার কয়েক ঘণ্টা আগেই একটি মামলার শুনানিতে কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, উমফানের ত্রাণ নিয়ে দুর্নীতি হয়েছে কিনা তা কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটরস জেনারেল তথা ক্যাগকে তদন্ত করে দেখতে হবে। একটি সূত্রের দাবি, সিপিএমেরই আইনজীবী সেল এই মামলার পিছনে রয়েছে। হতে পারে সে কারণেই মুখ্যমন্ত্রী এদিন এতটা রেগে যান। যদিও আদালত নিয়ে কিছু বলেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, "লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা এদিক ওদিক হয়ে যাচ্ছে পিএম কেয়ার্সের নামে। সেই হিসেব চাইছে না। আর উমফানের ২৫ হাজার টাকা নিয়ে কথা বলছে। সিপিএমের লজ্জা থাকা উচিত। সিপিএম এখন বিজেপির সবচেয়ে বড় সর্দার”। তিনি বলেন, “আমি বামপন্থী বন্ধুদের কাছে বলব, এই সিপিএমকে আপনারা চেনেন না। এঁদের মতো নির্লজ্জ সিপিএম জ্যোতিবাবু, বুদ্ধবাবুরাও ছিলেন না। আই অ্যাম সরি টু সে!"
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন বামপন্থীদেরকে ‘এই সিপিএম’ থেকে সতর্ক করতে চাইলেন?
লোকসভা ভোটে দেখা গিয়েছে বামেদের ভোট বাক্স উজাড় হয়ে বিজেপির দিকে চলে গেছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, যে বামপন্থীরা ধর্মনিরপেক্ষতার প্রশ্নে নিষ্ঠাবান, মতাদর্শগত ভাবে বামপন্থী, তাঁদের কাছে মমতা ঠারেঠোরে আবেদন জানালেন, সিপিএমের দিকে ঝুঁকে থাকা মানে আসলে বিজেপির হাতকেই শক্ত করা।
সিপিএমের কী প্রতিক্রিয়া?
বাম পরিষদীয় দলনেতা তথা সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী বলেন, "মুখ্যমন্ত্রী বোধহয় আজকাল খোঁজখবর রাখেন না। উনি জানেন না পিএম কেয়ার্স-এর হিসেব চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে একটাই মামলা হয়েছে। মামলাকারীর নাম সীতারাম ইয়েচুরি।" যাদবপুরের বিধায়ক আরও বলেন, "পিএম কেয়ার্সের হিসেব দেওয়া হচ্ছে না বলে তৃণমূলের কি অধিকার জন্মায় যে উমফানের টাকা লুঠ করবে? বাংলার মানুষ সব দেখছেন। আজকে হাইকোর্ট দুকান কাটা সরকারকে সপাটে থাপ্পড় মেরেছে। মুখ্যমন্ত্রী সবচেয়ে বড় নির্লজ্জ।"
অন্যদিকে প্রদেশ কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী বলেন, “ব্যাপারটা হল ওদের বিরুদ্ধে চুরি, কাটমানির অভিযোগ করলেই বলবে আরে বিজেপিও তো করছে। অর্থাৎ ওরা চুরি করছে মানে আমরাও করতে পারি। দিল্লি দেখিয়ে বাংলার লোককে বিভ্রান্ত করলে চলবে না। বাংলার হিসাব বাংলায় হবে, দিল্লির হিসাব হবে দিল্লিতে।”