দ্য ওয়াল ব্যুরো: উমফান সুপার সাইক্লোনে যাঁদের ঘর ভেঙে গেছে, তাঁদের এককালীন ২০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে বলে ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বিষয়টি দেখভাল করার জন্য একটা স্টেট লেভেলের টাস্ক ফোর্সও গঠন করেন তিনি। বুধবার বিকেলে নবান্ন সভাঘর থেকে জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স চলার সময়ে এ কথা ঘোষণা করেন তিনি।
এর আগেই উমফান পরবর্তী সময়ে এক দফা ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। জানিয়েছিলেন, ঝড়ের তাণ্ডবে মৃতদের পরিবারকে আড়াই লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে। বেশি আহত হয়েছেন যাঁরা, তাঁদের দেওয়া হবে ৫০ হাজার টাকা করে এবং কম আহত হলে তাঁদের প্রত্যেককে ২৫ হাজার টাকা করে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন তিনি।
আজ, বুধবার জোর দিলেন বাড়ি ভেঙে পড়া মানুষগুলিকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যাপারে। তিনি বলেন, "উমফান সুপার সাইক্লোনে যাঁদের ঘর ভেঙে গেছে, তাঁদের এককালীন ২০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেবে রাজ্য সরকার। কোথায় কত ক্ষতি হয়েছে তার মোটামুটি হিসাব পাওয়া গিয়েছে। প্রত্যক্ষ ভাবে প্রভাবিত হয়েছেন ৬ কোটি মানুষ। পরোক্ষে আরও চার কোটি মানুষের ক্ষতি হয়েছে।"
উমফানের পরে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধীরা একাধিক বার অভিযোগ তুলেছেন, কেন্দ্রের ইন্দিরা আবাস যোজনার আওতায় গ্রামের মানুষদের যে বাড়ি তৈরি করে দেওয়ার প্রকল্প গ্রহণ করার প্রয়োজন ছিল, তা করা হয়নি রাজ্যের তরফে। তাহলে এত কাঁচা বাড়ি থাকত না, ঝড়ে এত ক্ষতিও হতো না।
গত বুধবার উমফান বিপর্যয়ের পরেই নবান্নে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, রাজ্য ক্ষয়ক্ষতির হিসেব করে ক্ষতিপূরণের তালিকা তৈরি করতে কৃষি, মৎস্য, খাদ্যপ্রক্রিয়াকরণ, পশুপালন দফতরের আধিকারিক ও মুখ্যসচিবকে নিয়ে একটি টাস্ক ফোর্স গঠন করার কথা। তাঁর কথায়,''কোন কোন এলাকায় ক্ষতি হয়েছে জেলাশাসকদের তার রিপোর্ট পাঠাতে বলব। ব্লক টু ব্লক সমীক্ষা করতে হবে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও কত কী লাগবে, তার যাবতীয় রিপোর্ট দিতে হবে ৭ দিনের মধ্যে।''
সাত দিন পেরোনোর আগেই মৃত ও আহতদের ক্ষতিপূরণের তালিকা ঘোষিত হয়েছিল। আজ জানানো হল ঘর ভেঙে যাওয়া মানুষদের জন্যও আলাদা করে টাকা দেওয়া হবে ঘর তৈরির খাতে।