দ্য ওয়াল ব্যুরো: একুশের বিধানসভা ভোটের ইস্তেহার যেন লেখা হয়ে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের!
২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে তারই একটা বড় ঘোষণা করে দিলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভার্চুয়াল সভা থেকে বাংলার জনতার উদ্দেশে দিদির আশ্বাস, “আমাদের সরকার থাকলে বাংলার মানুষ সারা জীবন ফ্রিতে রেশন এবং পড়াশোনার সুযোগ পাবেন।”
এমনিতে কোভিড পরিস্থিতির জন্য আগামী জুন পর্যন্ত বিনামূল্যে রেশন দেওয়ার কথা আগেই ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন শহিদ দিবসের সভা থেকে মমতা বলেন, “বড্ড মিথ্যে অপপ্রচার হচ্ছে। বাংলায় কত রেশন দোকান রয়েছে? দু’একটা স্পটে গণ্ডগোল হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে আমরা তার ব্যবস্থা নিয়েছি। এত ব্লকে সরকার শান্তিতে কাজ করছে সেটা নিয়ে কিছু বলছে না। দু’একটা ঘটনা নিয়ে বিজেপি, কংগ্রেস সিপিএম লণ্ডভণ্ড করতে নেমে পড়েছে।”
এর পরেই তৃণমূলনেত্রী বলেন, “এমন রাজ্য কোথায় পাবেন, যেখানে লকডাউন ঘোষণার আগে বিনামূল্যে রেশন দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছিল! সামনের বছর জুন মাস পর্যন্ত রেশন দেওয়ার কথা আগেই বলেছি। আজ বলছি, আমাদের সরকার থাকলে সারা জীবন ফ্রিতে রেশন আর পড়শোনা করার সুযোগ পাবেন বাংলার মানুষ।”
এমনিতেই রেশনে ২ টাকা কেজি দরে চাল দেওয়ার যোজনা তথা খাদ্য সাথী প্রকল্পকে তাঁর সরকারের বড় সাফল্য বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। অনেকের মতে, এ ব্যাপারে বিজেপি ও দিদির রাজনীতির ফারাক নেই। নরেন্দ্র মোদী যেমন উজ্জ্বলা যোজনার মাধ্যমে গরিবদের ফ্রিতে গ্যাস দিয়ে একটা উপভোক্তা গোষ্ঠী (বেনিফিশিয়ারি গ্রুপ) তৈরি করতে চান। এবং সেখান থেকে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চান। দিদিও তেমনই করেন। বিজেপির অবশ্য দাবি, ২ টাকা কেজি দরে চাল দেওয়ার কৃতিত্ব কেন্দ্রেরই। কারণ ভরতুকির সিংহভাগ টাকা কেন্দ্রের সরকারই দেয়।
সে যাক। মমতা এদিন বলেন, ‘আমি ইনকাম করব অন্য জায়গা থেকে। কিন্তু বাটোয়ারা করব গরিব মানুষের মধ্যে। অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থান আমাদের মৌলিক অধিকার।”
লকডাউনের শুরুর পর্বে রেশন ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তর অভিযোগ উঠেছিল রাজ্যে। বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, কাজ হারানো সর্বসান্ত মানুষের মুখের থেকে চাল, ডাল, আটা, নুন ছিনতাই করে নিচ্ছে তৃণমূলের নেতারা। শুধু বিরোধীরা নন। রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় পর্যন্ত সরাসরি রেশন দুর্নীতির অভিযোগ করেছিলেন। রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান টুইট করে লিখেছিলেন, “গণবণ্টন ব্যবস্থা নিয়ে গ্রামেগঞ্জে যে অব্যবস্থা চলছে তা যদি রোখা না যায় তবে অতীতের সমস্ত দুর্নীতিকে ছাপিয়ে যাবে।”
এদিন দলীয় কর্মীদের উদ্দেশেও মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কে কোথায় রেশন পাচ্ছে না, তাঁদের পাশে দাঁড়ান। সাহায্য করুন। দু’একজন দুষ্টুমি করলে তার দায় যেন আপনার ঘাড়ে না পড়ে। মানুষকে সাহায্য করলে দেখবেন মানুষ আপনাকে সারা জীবন মনে রাখবে।”
সেই সঙ্গে রেশন নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধেও আক্রমণ শানান দিদি। বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার কিচ্ছু দেয়নি। যা করেছি আমরা করেছি, বাংলা তার নিজের কোমরের জোরে করেছে। তাঁর কথায়, “রেশন দোকানে গিয়ে দেখবেন যে চালটা ভাল, সেটা আমাদের কৃষকরা ফলায়। সোনার বাংলার সোনার ধান। আর যেটা দেখবেন খারাপ, জানবেন এফসিআই দিয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার পচা চাল দেয়।”
যদিও ফ্রি রেশনের কথা শুনে বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, “সাত মণ তেলও পুড়বে না আর রাধাও নাচবে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একুশে সরকারে আসছেন না। সুতরাং এই ঘোষণার কোনও অর্থই নেই।” তাঁর আরও বক্তব্য, “আসলে দিদিমণি জানেন তিনি আর নবান্নে যেতে পারবেন না। তাই বলছেন, আকাশ দেবেন, চাঁদ দেবেন, নদী দেবেন। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এটাই শেষ একুশে জুলাই। যে চাল চোরেরা তৃণমূলে আলো করে রয়েছে তাদের সামনে সারা জীবনের উপার্জনের রাস্তা দেখিয়ে রাখা হচ্ছে। কিন্তু সে গুড়ে বালি।”